ঢাকা বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

পাথরঘাটায় বাঁধ ও বনভূমি বাণিজ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা photo ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা
প্রকাশিত: ১১-৩-২০২৬ দুপুর ৩:৪

বরগুনার পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি জমি ও সংরক্ষিত বনভূমি এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড পাথরঘাটা কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. মাহমুদুল  হাসান মামুনের ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে’ পরিণত হয়েছে। সরকারি বেড়িবাঁধ ও বনভূমির জমি দখল করে দেওয়ার বিনিময়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই মামুনের বিরুদ্ধে। পাথরঘাটায় পাউবো’র জমি মানেই যেন মামুনের একক সাম্রাজ্য।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংরা বাজার, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া, কাঞ্চুরহাট ও চরদুয়ানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাউবো’র জমিতে গড়ে উঠেছে কয়েক’শ অবৈধ স্থাপনা। এসব স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছেন কার্যসহকারী এই মামুন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ঘর উত্তোলনের ‘অলিখিত অনুমতি’ দিতে মামুনকে ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। টাকা দিলেই মিলছে বাঁধের ওপর ঘর তোলার সবুজ সংকেত, আর টাকা না দিলেই শুরু হয় উচ্ছেদ আতঙ্ক।

পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে প্লট বরাদ্দ দিয়ে পুরোদমে চলছে স্থাপনা নির্মাণের কাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্মাণাধীন ঘরের মালিক জানান, ‘‘অফিসের মামুন ভাইকে ম্যানেজ করেই আমরা কাজ করছি। টাকা না দিলে তিনি লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।’’ অভিযোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তির বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে মামুন ২ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। আমি ৫০ হাজার দিতে চেয়েছিলাম বলে আমাকে ঘর তুলতে দেওয়া হয়নি। অথচ পাশের এমাদুল গাজী ২ লক্ষ টাকা দেওয়ায় তাকে নির্বিঘ্নে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে নিজলাঠিমারা টেংরা বাজার এলাকায়। সেখানে বন বিভাগের সৃজিত বনের হাজার হাজার চারা গাছ রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করে ঘর তোলা হয়েছে। বন বিভাগ বাধা দিতে গেলে দখলদাররা বুক ফুলিয়ে মামুনের নাম ব্যবহার করেন। পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘সংরক্ষিত বনায়ন নষ্ট করে টাকার বিনিময়ে দোকান বসানোর প্লট দিচ্ছেন এই কার্যসহকারী মামুন। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে জানিয়েছি।’’

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছগির আলম বলেন, ‘‘মামুনের কর্মকান্ড দেখে মনে হয় পাথরঘাটার মালিক তিনি নিজেই। অসংখ্য মানুষ তার চাঁদাবাজির বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেছে। তিনি সরকারি জমি বিক্রি করে পকেট ভারী করছেন, যা রীতিমতো ওপেন সিক্রেট। সরকারি সম্পদ রক্ষায় এই ‘ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের’ হোতা মামুনের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাথরঘাটা কার্যালায়ে গেলে মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য না করেই দ্রুত কার্যালয় ত্যাগ করেন। তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান জানান, জমি দখলের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। মামুন আমাদের নাম ভাঙিয়ে টাকা নিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

এমএসএম / এমএসএম

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

আত্মত্যাগের স্মরণে শহীদ পুলিশ পরিবারের পাশে যশোর জেলা পুলিশ

মোহনা টিভির ডিজিটালে সংবাদ প্রচারের পর সুবর্ণচরের ওমরা এলপিজি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা

পুলিশের অভিযানে হাটহাজারীতে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১

বড়লেখায় ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়াতে কমিউনিটি লিডার হেডম্যান ও কার্বারীদের নিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক মত মতবিনিময় সভা

পাথরঘাটায় বাঁধ ও বনভূমি বাণিজ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফরিদগঞ্জে নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মনোহরগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের কেনা কাটা আনন্দে উৎসব মুখর ঈদ মার্কেট

সিডিএ’র চাকরি প্রবিধানমালা লঙ্ঘন: এসএসসি পাশে ইমারত পরিদর্শক!

তেতুলিয়ায় কাবিটা প্রকল্পের টাকা তুলে কাজ না করার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

উলিপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ত্রিশালে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে হঠাৎ আগুন