শিকড় হারিয়ে নিঃস্ব বিষখালী পাড়ের মানুষ: ভাঙন রোধ ও দখল-দূষণমুক্ত নদী গড়ার দাবি
“যতই বাড়ে স্রোতের টান, ততই ভাঙে মোদের প্রাণ।” বিষখালী নদীর করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া হাজারো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এখন পাথরঘাটার আকাশে-বাতাসে। আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার (১৪ মার্চ) পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জিনতলায় বিষখালী নদীর তীরে জড়ো হয়েছিলেন নদী ভাঙনের শিকার শত শত মানুষ।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং ‘পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী দখল, দূষণমুক্তকরণ এবং স্থায়ী ভাঙন রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের দাবিতে প্রতীকী অনশন পালন করেন।
নদীগর্ভে বিলীন শৈশব ও স্বপ্ন অনুষ্ঠানে নিজেদের হারানো বসতভিটার গল্প বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার। রুদ্ধকণ্ঠে তিনি বলেন, “বাবারে, এডা মোগো কপাল! এই বয়সে চোহের সামনে চারবার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ নদীতে ডুইব্যা যাইতে দেখছি। ৯ কুড়া জমি এহন নদীর পেডে। জমি গেছে, ঘর গেছে, এহন খাস জমিতে মাথা গুঁজি।” শুধু আব্দুল জব্বার নন, হেমায়েত হোসেন, বেলায়েত মিয়া, রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকেরই একই করুণ দশা। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে তারা আজ নিজ ভূমিতেই পরবাসী।
তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভাঙন চললেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান বা সরকারি ক্ষতিপূরণ।
মানবিক সংকটের মুখে উপকূল
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী বিষখালী। একসময় যা ছিল আশীর্বাদ ও জীবিকার উৎস, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
• প্রতি বছর বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসে তীরের গ্রামগুলো মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে।
• বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নোনা জল ঢুকে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি ও সুপেয় পানির উৎস।
• একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে অবৈধ দখল ও বর্জ্য দূষণে নদীটি তার নাব্য ও স্বাভাবিক গতিপথ হারাচ্ছে।
“নদীতেই উপকূলীয় মানুষের বসবাস, নদীতেই তাদের প্রাণ। অথচ সেই নদীই আজ তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এই সংকট নিরসনে শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা।”
- শফিকুল ইসলাম খোকন, সমন্বয়কারী, ‘ধরা’, পাথরঘাটা।
বক্তারা বিষখালী নদী রক্ষায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেন:
• টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ: জোড়াতালির কাজ বন্ধ করে আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যায় স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ।
• সামাজিক বনায়ন: ভাঙন রোধে নদীর পাড়জুড়ে পরিকল্পিত ও টেকসই বনায়ন কর্মসূচি।
• দখল-দূষণ মুক্তকরণ: নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ।
• ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন: নদী ভাঙনে ভূমিহীন হওয়া পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং খাস জমিতে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন।
নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাথরঘাটার মানুষ এখন তাকিয়ে আছে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে। তাদের দাবি, নদীকে শাসন নয়, বরং নদীর অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করা হোক।
এমএসএম / এমএসএম
নোয়াখালীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা ও লোকজ শিল্পমেলার উদ্বোধন
মৎস্য অধিদপ্তর-এফএও উদ্যোগে শান্তিগঞ্জে মুক্তা চাষে আশার আলো
বাগেরহাটে ১০ কেজি ও ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার
খুলনায় নানান আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন
টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তারাগঞ্জে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন
মনপুরায় জনতার হাতে আটক দুই মাদক কারবারি, ইয়াবাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর
নেত্রকোণায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে
শান্তিগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ
ভূরুঙ্গামারীতে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠিত
দাউদকান্দিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৭
নববর্ষের ছুটিতে কাপ্তাই বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি, থানায় অভিযোগ