ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল
একসময় স্থানীয় বিনোদনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল সিনেমা হল। পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি দেখার সেই সংস্কৃতি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার, দর্শক সংকট এবং মানসম্মত কনটেন্টের অভাবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হলগুলো আজ টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বছরে দুই ঈদ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়া সিনেমা হলগুলোতে তেমন দর্শক পাওয়া যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই লোকসান গুনতে হয় হল মালিকদের। বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানোই হয়ে উঠছে কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা সচল রাখার চেষ্টা করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন না হওয়া এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবও এই সংকটকে তীব্র করেছে। পাশাপাশি মানসম্মত চলচ্চিত্রের ঘাটতি বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত ভালো সিনেমা না থাকায় দর্শক হলমুখী হচ্ছেন না।
শ্রীমঙ্গলে একসময় চারটি সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে চালু আছে মাত্র দুটি। শহরের সাগরদিঘি সড়কের ‘চিত্রালী সিনেমা হল’ কয়েক বছর আগে দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে শহরের ভানুগাছ সড়কে ছিলো ‘বিডিআর সিনেমা হল’ বন্ধ হয়ে বর্তমানে বিজিবি মিলনায়তনে রূপান্তরিত হয়েছে।
বর্তমানে চালু থাকা হলগুলোর মধ্যে ‘ভিক্টোরিয়া সিনেমা হল’ সবচেয়ে পরিচিত হলেও সেটিও চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। সারাবছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে ঈদে কিছুটা ব্যবসার আশা থাকলেও ব্যয়বহুল সিনেমা সংগ্রহ করতে গিয়ে মূলধন তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। জানা গেছে, পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যই হলটি চালু রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে আছে ‘রাধানাথ সিনেমা হল’। বর্তমানে এখানে সাতজন কর্মচারী কাজ করছেন। তবে নিয়মিত আয় না থাকায় তাদের জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। হলের ম্যানেজার জীবিকার তাগিদে হলের সামনেই ছোট দোকান চালিয়ে সংসার নির্বাহ করছেন।
রাধানাথ সিনেমা হলের ম্যানেজার জহির খন্দকার বলেন, “সারাবছরই এখন হলগুলোতে দর্শক থাকে না। মানুষ মোবাইলেই বিনোদন পেয়ে যায়। তবে ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো সাধারণত ভালো মানের হয়, কিন্তু সেগুলো আনতে খরচ বেশি হওয়ায় মালিকরা আগ্রহী হন না।”
ভিক্টোরিয়া সিনেমা হলের পরিচালক এস কে দাশ সুমন বলেন, “একসময় সিনেমা হল ছিল গণমানুষের প্রধান বিনোদন মাধ্যম। এখন স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও বিদেশি কনটেন্টের প্রভাবে দর্শক হল থেকে দূরে সরে গেছে। অধিকাংশ হলই জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এবং আধুনিকায়নের অভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।”
তিনি জানান, সিলেট বিভাগে একসময় অসংখ্য সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। যে অল্প কয়েকটি চালু রয়েছে, সেগুলোও অনেকটা স্মৃতি রক্ষার জন্য টিকে আছে।
এমএসএম / এমএসএম
গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শালিখায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নড়াগাতীতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের
চাঁদপুরে খাল দূষণ ও ভরাট করায় দুই রাইস মিল মালিকের জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নতুন উদ্যমে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই বংশের সংঘর্ষ, আহত ১৪
তারাগঞ্জে দায়সারা ভাবে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত,কৃষকদের ক্ষোভ
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকির ধুম
মোহনগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
কুড়িগ্রামে জেলা টাউন ক্লাবে আধুনিক ডিজিটাল প্রজেক্টর উদ্বোধন
গোদাগাড়ীতে ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্টুডেন্ট ফোরামের দ্বি-মাসিক স্টাডি সার্কেল অনুষ্ঠিত
এসিল্যান্ডের ড্রাইভার থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য
কুমিল্লায় গোল্ডেন লাইফ ইনসুরেন্সের আল-ফালাহ্ ইসলামী জীবন বীমা প্রকল্পের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত
কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হলো রেডি টু কুক ফিস
Link Copied