টাঙ্গাইলে জিন্নাত- লাবলু বাহিনীর তান্ডবে মাহমুদনগরবাসী আতঙ্কিত
টাঙ্গাইলে জিন্নাত- লাবলু বাহিনীর তান্ডবে মাহমুদনগরবাসী আতঙ্কিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাাইবুনালের এক বিচারপতির গাড়ি চালক ও ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্তাভাজন আ. লীগ নেতা এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদের সমর্থকদের তান্ডবে মাহমুদ নগরসহ পশ্চিম টাঙ্গাইল বাসি আতঙ্কিত। বিএনপির বিদ্রোহীদের প্রভাবে ভুক্তভোগিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে আইনগত সহযোগিতা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিবেদককে জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিম টাঙ্গাইল চরাঞ্চলের বিশেষ করে মাহমুদনগর এলাকায় কিশোরগ্যাংয়ের মাধ্যমে গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর প্রতিদন্ধী এড. ফরহাদের ক্যাডার সন্ত্রাসী বাহিনী ও বিএনপির বহিষ্কৃত কতিপয় নেতাদের নেতৃত্বে এলাকায় মাদক ব্যবসার রমরমা ব্যবসা চালানো হচ্ছে। আর এই সন্ত্রাসীরা শুধু মাদক ব্যবসায়ীই নয়, বিভিন্ন ব্যক্তির জমি জমা দখলে রাখা, বাড়ি ঘরে হামলা, বাড়ির ভিটে মাটি কেটে নেওয়াসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। কেউ যদি তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাকে কৌশলে মাহমুদনগরের কুকুরিয়া পূর্বপাড়া (মালদ্বীপ) নামক এলাকায় নিয়ে আটক করে নির্মম নির্যাচন চালানো হয়। শুধু তাই নয়, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধ জিন্নাত ও তার ছেলে পুলিশ কনস্টেবল লাবলু, লতিফ, বারেক, খোচরু, লেবাসধারী আব্দুর রমহান মাস্টারের ছেলে আব্দুর রহিম, মাহফুজ ও তার মেয়ে মাদক সমজ্ঞী রেহানা, আশিক, সুজন, দিয়াদসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনকে দিয়ে মরণ নেশা ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি এলাকাবাসি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা বিক্রির ২৯ হাজার টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজকে স্থানীয় সড়কের দোকান ঘরের সামনে আটক করে। পরে তারা থানা পুলিশের সোপর্দ করার চেষ্টা করলে ট্রাইবুনালের বিচারপ্রতির গাড়ি চালক পুলিশ সদস্য লাবলু প্রভাব খাটিয়ে তার ছোট ভাইয়ের শ্যালক মাহফুক বিচার নামে টাকাসহ ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
আর এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মাহমুদ নগর ইউনিয়নের ভিডিপি কমান্ডার গফুর মোল্লার নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি ২৪ মার্চ ভোর থেকে উক্ত মাদকসমজ্ঞীদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে উক্ত বাড়িতে এলাকার গণমান্য বক্তিদের উপস্থিতিতে তল্লাশী চালায়। একপর্যায়ে এলাকার শতাধিক ব্যক্তির গণস্বাক্ষরের ভিত্তিতে উক্ত মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজকে আটক করে পুলিশ গাড়িতে তোলে। এসময় শত শত নারী পুলিশ উক্ত মাদক ব্যবসায়ীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় সরকার দলীয় একজন স্থানীয় নেতা ও ছাত্রদলের সেক্রেটারী পরিচয়দানকারী আব্দুল আলীম মাদক ব্যবসায়ীর বিচার এবং জীবনে মাদক ব্যবসা না করার শর্তে তার জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।
সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজ্ঞী রেহানা ও মাহফুজদের বাড়ি এলাকাবাসী ঘেরাও করে রাখা ও তল্লাশী করার ভয়ে কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। ফলে তাদের কাছে থাকা বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট টয়েলের ভেতরে ফেলে দেওয়ার কারণে পুলিশ তল্লাশী চালিয়েও উদ্ধার করতে পারেনি। উল্লেখ্য মাদক ব্যবসায়ী ও সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর একজন নেতা গত বছরের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল ও ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। উক্ত অভিযোগের ফলে মাদক ব্যবসায়ী রহিম, মাহফুজ মুক্তিযোদ্ধ জিন্নানের পুত্রবধূ মাদক সমজ্ঞী রেহানা উক্ত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে অশ্রাব্যভাষায় গালাগালি করে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি উক্ত মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীরা উক্ত সাংবাদিক এর বাড়ি ভিটামাটি কেটে তাদের জমিতে ফেলতে থাকে। এসময় তার ছোট ভাই মো. মহসিন প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে সেখানে মাটি কাটা বন্ধ রাখে। এদিকে গত ২১ মার্চ ঈদের দিন বিকালে মহসিন, তার ভাতিজা হাবিব ও রুবেল হাসান কুকুরিয়া পূর্বপাড়া মালদ্বীপ নামক এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে শত শত মানুষ বেড়াতে যান। এসময় মহসিন ইউসুফ নামে একজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে মহসিন কথা বলতে ছিলেন। তার তখন সন্ত্রাসীদের গডফাদার মুক্তিযোদ্ধ জিন্নাতের নেতৃত্বে তার ছেলে আব্দুল লতিফ, তার ভাই বারেক, খুচরু, তার নাতি আশিক, রাজ্জাকের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী সুজন, মারুফ, আলামিন, গফুর, বারেকের ছেলে রিসাদ, আলামিন, রহমান মাস্টারের ছেলে আব্দুর রহিম, মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজ, আবহাদুল্লাহ, মোহাম্মদ, আমিরুল, জাকিরসহ প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসী সেখানে উপস্থিত হন। এসময় এলাকার পুলিশ অফিসার সেখান থেকে চলে আসার পর মহসিনকে ঘেরাও করে লাঠি, কাঠে ফালি, ইউকেলেক্টার গাছের ঢাল, গরু জবাই করার ধারালো ছুরি, পিস্তুল নিয়ে তাকে পিটানো হয়। মাটিতে পড়ে গেলে সেখানে পিটাতে পিটাতে অর্ধমৃত অবস্থা হলে জিন্নাতের ছেলে লতিফ তার গলায় ছুরি ধরে জবাই করার চেষ্টা করে। এসময় মহসিনের ভাতিজা হাবিব ও রুবেল হাসান বাঁধা দিতে গেলে তাদের মারধর করে আহত করা হয়। একপর্যায়ে মাহমুদনগর ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান দৌড়িয়ে এসে তাকে উদ্ধারে চেস্টায় তার ঘরে নিয়ে তালা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানানি, উল্লেখিত সময়ে মুক্তিযোদ্ধ জিন্নাত লাঠি নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি মারধর না করলেও তার ছেলে ভাই ও নাতিদের বাঁধা দেননি। পরে খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদের ভাই ভিডিপি গফুর ও সমাজ সেবক মোহাম্মদ আলী গিয়ে সন্ধ্যার সময় তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির পর চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র সহ টাঙ্গাইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। এজাহারটি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। কিন্তু থানা পুলিশ মামলা হিসেবে গাড়িমশি করছেন।
শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসী লতিফ ওরফে লতিফ মোল্লা তার বাবা জিন্নাত আলী আশিকসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এলাকার মৃত মোনতাজ আলীর ছেলে মো. খলিলকে পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধারের পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে সন্ত্রাসী জিন্নাত ও তার ছেলে ভাইদের বিরুদ্ধে পেনাল কোর্টে ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৫০৬ ও ১১৪ ধারায় মামলা সহ ৪টি মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
ভুক্তভোগি খলিল সকালের সময়কে জানান, সন্ত্রাসী জিন্নাত ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকে পুনরায় হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছে। যে কোন সময় তাকে হত্যা করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, র্যাবের ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ ব্যপারে মাহমুদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, জিন্নাত নামের ব্যক্তি সুবিধার। তিনি ইচ্ছা করলে উল্লেখিত মামলার ঘটনাটি ঘটতো না। তাদের মত ব্যক্তিদের কারণেই এলাকায় মাদকসহ নানা প্রকার অপরাধ মুলক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, উল্লেখিত ঘটনাটি আমার জানা নেই। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়টি আমি দেখবো।
মাহমুদনগর ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, যখন মারামারি হয়, তখন আজগর ভাই আমাকে জানান, এরপর এলাকার নেতৃস্থানীয়দের ছেলে টাকে উদ্ধারের জন্য বলা হলে পরে জানতে পারি আব্দুল গফুর মোল্লা তাকে উদ্ধার করেছেন। এরপর শুনেছিলাম ঘটনাটি মিমাংশার জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে বলেও জানতে পারছি। আর এলাকায় মাদক নির্মূলে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবো। এখানে সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
টাঙ্গাইলে জিন্নাত- লাবলু বাহিনীর তান্ডবে মাহমুদনগরবাসী আতঙ্কিত
তারাগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
২ জনের মরদেহ উদ্ধার, ১১ জন জীবিত উদ্ধার, বাসে ছিল ৪৫ জন
রূপগঞ্জে জামদানী ভিলেজ প্রকল্প পরিদর্শনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত
ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত
চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি
নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল
সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস
বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত
নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ