বারহাট্টার জনপদ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ
আবহমান বাংলার বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে নানা ধরনের খাবারের সাথে এখনো ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে মুড়ির কদর। বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রা আর পরিবর্তনের ছোঁয়ায় সারাদেশের মতো বারহাট্টার জনপদ থেকেও ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীণ ঐতিহ্য হাতে ভাজা মুড়ি।
শহর কিংবা গ্রামীণ জনপদে সারা বছরই মুড়ির কদর থাকে। তবে রমজান এলেই মুড়ির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। লবণ-পানি দিয়ে হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদই অন্যরকম। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার যুগে মেশিনে তৈরি মুড়ির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ।
সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে জানান, উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বর্তমানে হাতে ভাজা মুড়ির বাজার পুরোপুরি আধুনিক কারখানার দখলে। তাই এ এলাকার মানুষের কাছে মুড়ির কদর থাকলেও মিলেনা হাতে ভাজা মুড়ি। শহরের সীমানা ছাড়িয়ে পল্লী গাঁয়ের বিভিন্ন বাড়িতেও কারখানার মুড়ির দখল। অথচ আগেকার দিনে গ্রামের ছোট-বড় যেকোনো পরিবারে সারা বছরই হাতে ভাজা মুড়ি পাওয়া যেতো।
উপজেলা সদরের কাশবন গ্রামের বাসন্তী রাণী, জবা ক্ষত্রিয়, সাহতা এলাকার ফাতেমা বেগম, ঝুমা খাতুন, বাউসী এলাকার রত্না সরকার, বাসনা, রায়পুর এলাকার রিমা বেগম, নাজনীন আক্তারের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ছোটবেলায় আমরা হাতে ভাজা মুড়ি তৈরি করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতাম। সে সময় এ মুড়ির চাহিদা অনেক বেশি ছিল। রাত-দিন ভেজেও চাহিদা শেষ করতে পারতাম না। কিন্তু বাজারে এখন মেশিনে তৈরি মুড়ি আসার পর থেকে আস্তে আস্তে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা কমতে শুরু করেছে। আমাদের হাতে ভাজা মুড়ির কদর এখন আর নেই বললেই চলে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা সবাই মুড়ি ভাজা বাদ দিয়ে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছি।
মুড়ি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, আব্দুল জলিল, অহিদুল ইসলাম জানান, একসময় আমরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ মণ মুড়ি কিনে বারহাট্টা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি করতাম। তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে দোকানিরা এসে মুড়ি কিনে নিয়ে যেতো। কিন্তু মেশিনে তৈরি মুড়ি বাজারে আসায় হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক কমে গেছে। তাই এ এলাকার অধিকাংশ ব্যক্তি মুড়ি ভাজা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
তারা বলেন, আমরা হাতে ভাজা মুড়ি বিক্রি করতে চাই, কারণ এর স্বাদ ও গুণগত মান মেশিনের মুড়ির চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু ক্রেতারা দাম কম হওয়ার কারণে মেশিনের মুড়ির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। ফলে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল ও কলেজ) বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, 'হাতে ভাজা মুড়ি সুস্বাদু খাবার, এটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। এ চিরচেনা ঐতিহ্য আমাদের মাঝ থেকে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। সঠিক বাজারব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব।'
বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বলেন, 'হাতে ভাজা মুড়ি আমাদের একটি ঐতিহ্য। এটা একধরনের শিল্প। কিন্তু আমাদের এই পুরোনো ঐতিহ্য আর শিল্পটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। হাতে ভাজা মুড়ি শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতির অংশ। যদি সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে হাতে ভাজা মুড়ি কেবল স্মৃতির পাতায় ঠাঁই পাবে।'
এমএসএম / এমএসএম
নারায়ণগঞ্জে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভা: আপস মীমাংসায় আদায় ৪৪ লাখ টাকা
পটিয়া প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন
ধামইরহাটে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত
বাগেরহাটে কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার, মাথায় আঘাতের চিহ্ন
ধামরাইয়ে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
ভোলায় গৃহবধূকে নির্যাতন ও শাশুড়ির দোকানে অগ্নিসংযোগ, ১০ লাখ টাকা ক্ষতি, থানায় লিখিত অভিযোগ
রাজস্থলীতে দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান গড়তে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই
সীমান্তে পাচার ও পাহাড়ে অপরাধ দমনে সেনা চৌকি হচ্ছে: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী
ধুনটে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পত্নীতলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা
রাণীশংকৈলে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: মাদক ও চুরি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
কুমিল্লায় ২৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজন আটক, জব্দ প্রাইভেট কার