তানোরে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক সময় ব্যাপকভাবে তৈরি হতো মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে সারা বছর খুব একটা দেখা না মিললেও, পহেলা বৈশাখের মতো বিশেষ আয়োজনেই কেবল প্রদর্শনীতে চোখে পড়ে এসব মাটির তৈজসপত্র।এক সময় তানোর সদর পালপাড়ায় কুমাররা দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন মাটির হাড়ি-পাতিল তৈরিতে। কিন্তু এখন তারা পেশা পরিবর্তন করে চাকরি, ব্যবসা কিংবা কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন। ফলে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। তানোরের পালপাড়ার মৃত নিতন কুমার পালের ছেলে প্রদীপ কুমার পাল জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তাদের এলাকায় আর কেউ মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলার বেলনা গ্রাম থেকে এসব সামগ্রী কিনে এনে নিজের দোকানের সামনে বিক্রি করেন। তবে বিক্রি খুবই কম। কম লাভ ও চাহিদা না থাকায় এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।তানোর পৌরসভার কালিগঞ্জ পালপাড়া ও কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামে দু-একজন এখনও সীমিত পরিসরে মাটির জিনিস তৈরি করেন, তাও বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে। বাস্তবে এই শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্ত।বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর মধ্যে মৃৎশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘মৃৎ’ অর্থ মাটি এবং ‘শিল্প’ অর্থ সৃজনশীল কাজ- এই দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মৃৎশিল্প একসময় গ্রামবাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।বর্তমানে প্লাস্টিক, স্টিল, মেলামাইন ও সিরামিক পণ্যের সহজলভ্যতা ও ব্যবহারিক সুবিধার কারণে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। ফলে হাট-বাজারে আর আগের মতো মাটির তৈজসপত্রের পসরা বসে না।তানোরের ভোলানাথ কুমার পাল, হিরানাথ কুমার পাল ও প্রশান্ত পাল যারা এখন ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জানান, সারা বছর তেমন বিক্রি না থাকায় তারা এই পেশা ছেড়েছেন। কেবল পূজা-পার্বণে কিছুটা চাহিদা তৈরি হয়, তখন বাইরে থেকে পণ্য এনে বিক্রি করতে হয়।তবে আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৃৎশিল্পের নতুন একটি ধারা তৈরি হয়েছে নান্দনিক বা পটারি শিল্প। এই ধারায় টেরাকোটা শোপিস, অলঙ্কার, ফুলের টবসহ নানা শৌখিন সামগ্রী তৈরি হচ্ছে, যা এখনও মানুষের আকর্ষণ ধরে রেখেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন সমস্যা, নতুনত্বের অভাব এবং পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মৃৎশিল্প আজ সংকটে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা, সহজ ঋণ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জরুরি।সচেতন মহলের দাবি, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে আবারও নতুনভাবে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
এমএসএম / এমএসএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ কেজি ৬৯৫ গ্রাম হেরোইন সহ একই পরিবারের ৪ জন আটক
ভোলার সমাজসেবা অফিসে ওপেন সিক্রেট: চাহিদা মতো বকশিস না দিলে ফাইলবন্দি এতিমখানার অনুদান
আদমদীঘিতে মদ ও গাঁজাসহ আটক তিনজনের জেল-জরিমানা
ত্রিশালে আড়াইফুট উচ্চতার শফিকুলকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সামগ্রী দিলেন ইউএনও
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর-খাল-জলাশয় রক্ষায় ঢেউ'র ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচি
উত্তাল সমুদ্রে বিচ্ছিন্ন হাতিয়ায় বন্ধ নৌ চলাচল
১৭ বছরে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করা হয়েছে,এসপি শামীমা পারভীন
মনপুরায় অন্ধ বাবার পরিবার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৮ হাজার টাকা
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার
বোয়ালমারীতে বহিস্কৃত বি এন পি নেতার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ
গুরুদাসপুরে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করে হিন্দু যুবকের ফেসবুক পোস্ট, গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ
মাদারীপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান