ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

তানোরে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল


সোহানুল হক পারভেজ, তানোর photo সোহানুল হক পারভেজ, তানোর
প্রকাশিত: ১৩-৪-২০২৬ দুপুর ১২:৩৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক সময় ব্যাপকভাবে তৈরি হতো মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে সারা বছর খুব একটা দেখা না মিললেও, পহেলা বৈশাখের মতো বিশেষ আয়োজনেই কেবল প্রদর্শনীতে চোখে পড়ে এসব মাটির তৈজসপত্র।এক সময় তানোর সদর পালপাড়ায় কুমাররা দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন মাটির হাড়ি-পাতিল তৈরিতে। কিন্তু এখন তারা পেশা পরিবর্তন করে চাকরি, ব্যবসা কিংবা কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন। ফলে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। তানোরের পালপাড়ার মৃত নিতন কুমার পালের ছেলে প্রদীপ কুমার পাল জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তাদের এলাকায় আর কেউ মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলার বেলনা গ্রাম থেকে এসব সামগ্রী কিনে এনে নিজের দোকানের সামনে বিক্রি করেন। তবে বিক্রি খুবই কম। কম লাভ ও চাহিদা না থাকায় এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।তানোর পৌরসভার কালিগঞ্জ পালপাড়া ও কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামে দু-একজন এখনও সীমিত পরিসরে মাটির জিনিস তৈরি করেন, তাও বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে। বাস্তবে এই শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্ত।বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর মধ্যে মৃৎশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘মৃৎ’ অর্থ মাটি এবং ‘শিল্প’ অর্থ সৃজনশীল কাজ- এই দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মৃৎশিল্প একসময় গ্রামবাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।বর্তমানে প্লাস্টিক, স্টিল, মেলামাইন ও সিরামিক পণ্যের সহজলভ্যতা ও ব্যবহারিক সুবিধার কারণে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। ফলে হাট-বাজারে আর আগের মতো মাটির তৈজসপত্রের পসরা বসে না।তানোরের ভোলানাথ কুমার পাল, হিরানাথ কুমার পাল ও প্রশান্ত পাল যারা এখন ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জানান, সারা বছর তেমন বিক্রি না থাকায় তারা এই পেশা ছেড়েছেন। কেবল পূজা-পার্বণে কিছুটা চাহিদা তৈরি হয়, তখন বাইরে থেকে পণ্য এনে বিক্রি করতে হয়।তবে আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৃৎশিল্পের নতুন একটি ধারা তৈরি হয়েছে নান্দনিক বা পটারি শিল্প। এই ধারায় টেরাকোটা শোপিস, অলঙ্কার, ফুলের টবসহ নানা শৌখিন সামগ্রী তৈরি হচ্ছে, যা এখনও মানুষের আকর্ষণ ধরে রেখেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন সমস্যা, নতুনত্বের অভাব এবং পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মৃৎশিল্প আজ সংকটে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা, সহজ ঋণ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জরুরি।সচেতন মহলের দাবি, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে আবারও নতুনভাবে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।

এমএসএম / এমএসএম

দৈনিক সকালের সময় নিউজের জেরে ভরাট হচ্ছে রাস্তা

বাগেরহাটে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস অবৈধ জাল বিক্রেতাকে অর্থদন্ড

টুঙ্গিপাড়ায় দুর্ঘটনার কবলে ঢাকাগামী বাস, হতাহত নেই

আধুনিকতার ছোঁয়ায় মার্বেলের নিখুঁত নিশানা আজ শুধুই স্মৃতি

কুড়িগ্রামে অধ্যক্ষ জমি ও টাকার বিনিময়ে চাকুরী দিলেন, অভিযোগ এলাকাবাসীর

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ

এলজিইডি, গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

রায়গঞ্জে জেলি পুশ করা ৪৫০ কেজি চিংড়ি জব্দ, মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস

আপন চাচার হাতে ভাতিজাকে মারধরের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পরিত্যক্ত আমবাগান থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

দলবদলু ও কুচক্রীদের অপপ্রচার': লালমনিরহাটে কড়া প্রতিবাদ বিএনপির

যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে জুড়ীতে আনসার সদস্য সাইফুরের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

তুরাগে ২১০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার