ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

প্রবাসে স্বামীর মৃত্যু: মরদেহ গ্রহণে বাধা, ক্ষতিপূরণ আত্মসাতের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আর্তনাদ


এইচ এম মাহমুদ হাসান photo এইচ এম মাহমুদ হাসান
প্রকাশিত: ১৩-৪-২০২৬ বিকাল ৫:৪৩

মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এক প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি এবং প্রতারণা প্রতিরোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। ঘটনাটি ঘিরে পরিবারে বিরোধ, জালিয়াতির অভিযোগ এবং চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার জানান, তার স্বামী সুমন হাওলাদার মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বাগদান এবং দুই বছর আগে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর কিছুদিন দেশে অবস্থান করে তিনি পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী মালয়েশিয়ায় স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ফাতেমার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তার শ্বশুর জোরপূর্বক তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার—একটি হার, দুটি কানের দুল ও তিনটি আংটি—নিয়ে যান। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় স্বামীর কর্মস্থলের কোম্পানির কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেন, সুমন হাওলাদার অবিবাহিত ছিলেন। এ লক্ষ্যে একটি ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরেক প্রবাসী শাহ আলম হাওলাদারের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, একটি মোবাইল ফোন এবং বাসার আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যার আনুমানিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ টাকা।

ফাতেমা আক্তার আরও জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার স্বামীর মরদেহ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে তার শ্বশুর তাকে মরদেহ গ্রহণ এবং শেষবারের মতো দেখার ক্ষেত্রেও বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে সুমন হাওলাদারের পিতা হাবিবুর রহমান হাওলাদার ছেলের বিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ফাতেমার অভিযোগ সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এদিকে, ফাতেমার ভাই আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, সুমন হাওলাদারের বোনের জামাই রাসেল, জসিম এবং ভাতিজা নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ প্রেক্ষিতে ফাতেমা আক্তার সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন—

১. স্বামীর মরদেহ গ্রহণ ও শেষবারের মতো দেখার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা।

২. মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রকৃত স্ত্রী হিসেবে তার নামে নিশ্চিত করা।

৩. জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪. তার ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করা।

ফাতেমা আক্তার দেশবাসী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি একজন অসহায় নারী। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।

এমএসএম / এমএসএম

জাতীয় বাজেটে বরিশাল অঞ্চলের বরাদ্দের দাবিতে ঢাকায় বিশাল মানববন্ধন

ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও পানি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা

চেক ডিজঅনার মামলায় প্রক্সি দিতে এসে আটক নারী দুই দিনের রিমান্ডে

হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন: আধুনিক প্রযুক্তিতে নান্দনিক করার পরিকল্পনা রাজউকের

কাঁটাবনে বহুতল ভবনে আগুনে ২ জনের মৃত্যু

সর্বোচ্চ যাকাত সংগ্রহকারী ডিসি নির্বাচিত হলেন ফরিদা খানম

ন্যাশনাল আরবান ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

সাংবাদিকদের নিয়ে ডা. শাফীর অবমাননাকর মন্তব্যে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের নিন্দা ও ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন কানন

উত্তরা পূর্ব থানার অভিযানে ছাত্রলীগের দুই কর্মী গ্রেফতার

মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০২ দালালকে কারাদণ্ড ও ১ জনকে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে

চেক ডিজঅনারের মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে প্রক্সি দিতে এসে আটক নারী

জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'বিশ্ব পরিবেশের বর্তমান অবস্থা ও আমাদের বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত