প্রবাসে স্বামীর মৃত্যু: মরদেহ গ্রহণে বাধা, ক্ষতিপূরণ আত্মসাতের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আর্তনাদ
মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এক প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি এবং প্রতারণা প্রতিরোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। ঘটনাটি ঘিরে পরিবারে বিরোধ, জালিয়াতির অভিযোগ এবং চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার জানান, তার স্বামী সুমন হাওলাদার মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বাগদান এবং দুই বছর আগে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর কিছুদিন দেশে অবস্থান করে তিনি পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী মালয়েশিয়ায় স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ফাতেমার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তার শ্বশুর জোরপূর্বক তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার—একটি হার, দুটি কানের দুল ও তিনটি আংটি—নিয়ে যান। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় স্বামীর কর্মস্থলের কোম্পানির কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেন, সুমন হাওলাদার অবিবাহিত ছিলেন। এ লক্ষ্যে একটি ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরেক প্রবাসী শাহ আলম হাওলাদারের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, একটি মোবাইল ফোন এবং বাসার আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যার আনুমানিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
ফাতেমা আক্তার আরও জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার স্বামীর মরদেহ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে তার শ্বশুর তাকে মরদেহ গ্রহণ এবং শেষবারের মতো দেখার ক্ষেত্রেও বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সুমন হাওলাদারের পিতা হাবিবুর রহমান হাওলাদার ছেলের বিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ফাতেমার অভিযোগ সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এদিকে, ফাতেমার ভাই আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, সুমন হাওলাদারের বোনের জামাই রাসেল, জসিম এবং ভাতিজা নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ প্রেক্ষিতে ফাতেমা আক্তার সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন—
১. স্বামীর মরদেহ গ্রহণ ও শেষবারের মতো দেখার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা।
২. মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রকৃত স্ত্রী হিসেবে তার নামে নিশ্চিত করা।
৩. জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪. তার ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করা।
ফাতেমা আক্তার দেশবাসী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি একজন অসহায় নারী। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
এমএসএম / এমএসএম
রোগের লক্ষণ, সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান
গুলশান ক্লাবে বিজনেস এলিট ক্লাবের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত
দলিল লেখক ও সার্ভেয়ার নাছির উদ্দিন ভূইয়া প্রকাশ্যে গণ্যমান্য লোকজনের সামনেই ঢাকায় অবস্থানরত সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকী দিলেন
রাজধানীর বাড্ডায় জমি দখল ও জীবননাশের হুমকি: বিএনপি নামধারী শাহিনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
ঢাকা উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে কারা, চলছে নানা হিসাব-নিকাশ
হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করলেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান
তুরাগ থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার খুলনার ফুলতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
উত্তরায় মাদকবিরোধী অভিযান, ৪ জনের কারাদণ্ড
একাধিক মামলা-তদন্তের নথিতে নাম : শাহজালালের ডিডি নজরুলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় মোঃ আইয়ুব আলী
অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যার আড়াই বছর পর রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই
আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগী রাজনীতিতে মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় শিমুল আহমেদ