জন্মনিয়ন্ত্রণে ‘ভূতের বাতি’ সামগ্রীর তীব্র সংকটে সেবা ব্যাহত, বঞ্চিত কোটি কোটি দম্পতি
রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মনিটরিং তথ্য অনুযায়ী, দেশের শত শত উপজেলায় প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এতে সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি দম্পতি নিয়মিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অধিদপ্তরের মনিটরিং ড্যাশবোর্ডে দেখা গেছে, দেশের বহু উপজেলায় কনডম, ওরাল পিল, ইনজেকশন, ইমপ্লান্ট ও আইইউডির মতো গুরুত্বপূর্ণ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে প্রায় সম্পূর্ণ স্টক আউট হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে
কনডম: ৩৯৪ উপজেলায় সম্পূর্ণ স্টক আউট
ওরাল পিল: ৩৩৭ উপজেলায় নেই
ইমার্জেন্সি পিল (ইসিপি): ৪৮৬ উপজেলায় অনুপস্থিত
ইমপ্লান্ট: ৩৫৮ উপজেলায় নেই
আইইউডি: ৩৯২ উপজেলায় শেষ।
ইনজেকশন: ২৭১ উপজেলায় মজুদ ফুরিয়েছে
এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৩ জন সুখী দম্পতি সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সেবার ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও কার্যত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দীর্ঘস্থায়ী সংকট অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি নারীর প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার অধিকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ডেলিভারি সেবাতেও ভোগান্তি
অভিযোগ উঠেছে, অনেক সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের ডেলিভারি সেন্টারেও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা এফডব্লিউভি দের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা এবং তদারকির ঘাটতির কারণে অনেক নারী নিরাপদ মাতৃত্বসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা,বছরের পর বছর ধরে একই জায়গাতে অবস্থান করা, এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণেও সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চাহিদা পাঠানো হলেও সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়ার জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের কারণেই এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
সরকারের ব্যাখ্যা
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছরে নতুন কোনো বড় চালান দেশে আসেনি। আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে সামগ্রী সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্রুত সমাধানের দাবি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
এমএসএম / এমএসএম
বৃহত্তর উত্তরা সর্বোচ্চ উলামা আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত
শহীদ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কামারপাড়া তুরাগের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিন ভবনে ব্যবস্থা, মিটার জব্দ
জন্মনিয়ন্ত্রণে ‘ভূতের বাতি’ সামগ্রীর তীব্র সংকটে সেবা ব্যাহত, বঞ্চিত কোটি কোটি দম্পতি
ফায়ারের ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত ফায়ার ফাইটার কামাল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ২
সাংবাদিকের ওপর হামলা হোটেল বায়ান্ন ইন্টারন্যাশনাল কর্মচারীদের
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ফরেস্ট গার্ডদের মামলা পদোন্নতির সমাধান আদালতে
‘সংরক্ষিত আসনের জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ফিরিয়ে দিয়েছি’
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত
পোড়া তেল ব্যবহার না করার আহ্বান বিএফএসএ চেয়ারম্যানের