ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

জমির ভাগ বাটোয়ারার সূত্র; সকল জমি পাওয়ার আশাই ভাগনের পরিকল্পনা


নওগাঁ জেলা পূর্ব প্রতিনিধি  photo নওগাঁ জেলা পূর্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩-৪-২০২৬ দুপুর ১:৯

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া এবং ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

লোভে বশিভুত হয়ে এ হত্যা কান্ডে চাচাতো ভাই, ভাগ্নে ও ভগ্নীপতি সহ ছয়জন অংশ নেয়।

ফলে জমির ভাগ বাটোয়ারার সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জনান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নিহত হাবিবুর রহমানের আপন ভাগনে সবুজ রানা (২০), বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল। শাহিনও নিহত হাবিবুরের ভাগনে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার (২১এপ্রিল) জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। আমরা একটানা নিবিড় তদন্ত করে এই চার হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হই। সেই হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জীবনবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম পরিচয় বলা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নমির উদ্দিনের ৫ মেয়ে এবং এক ছেলে। নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের ১৭ বিঘা জমি। এর মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা জমি ছেলে হাবিবুর রহমানকে লিখে দেন। এবং বাকি সম্পত্তি মেয়েদেরকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সাথে হাবিবুরের ঝামেলা শুরু হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে এ বিরোধ চলছিল।

ঘটনার আগের দিন ২০ এপ্রিল ভাগনে সবুজ এবং নিহত হাবিব ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে যায়। গরু কিনতে না পেরে সন্ধ্যার সময় চলে আসে। তাদের মধ্যে আগে থেকে ক্ষোভ ছিলো কীভাবে হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। হাবিব এবং তার বংশধরদেরকে যদি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই বোনেরা জমির মালিক হবে এবং নাতিরাই লাভবান হবেন।

এসপি বলেন, সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার নানার বাসায় সবুজ যায়। সবুজ তার মামা হাবিব, মামী পপি এবং তার নানা মিলে সেদিন রাতে একই সঙ্গে রাতের খাবার খায়। সবুজ খাবার খেয়ে বাইরে একটি মাঠে চলে যায়। সেখানে শহিদুল এবং শাহিন ছিলো। সেখানে গিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা নমিরের কাছ থেকে জমির দলিল নিয়ে আসবে এবং হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবে। পরিকল্পনা শেষে শাহিন ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সবুজ তখন তাদেরকে বলে একটু পরে তারা ঘুমায়ে পড়বে তোমরা তখন চলে আসবে। এরপর রাত সাড়ে ১১ টা থেকে ১২ টার দিকে শহিদুল, স্বপন, সবুজ এবং শাহিন মিলে হাবিবুরের ঘরে প্রবেশ করে। শাহিন ঘরে প্রবেশ করেই বড় ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাবিবকে জবাই করে। এরপর একে একে হাবিবের স্ত্রী এবং তার সন্তানদেরকে হত্যা করে।

পুলিশ সুপার বলেন, ওই বাড়িতে প্রবেশের পর নমির উদ্দিনের ঘরে বাইর থেকে ছিটকানি লাগিয়ে দেয়। যেনো নমির উদ্দিন ঘর থেকে বের হতে না পারে। প্রথমে তারা হাবিবকে হত্যা করে এরপর হাবিবের স্ত্রী পপি সুলতানা প্রকৃতির ডাকে বের হলে সবুজ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর বাচ্চাদের ঘরে প্রবেশ করে বাচ্চাদেরকেও মেরে ফেলে। তাদের মূল টার্গেট ছিলো জমি জমার উত্তরাধিকার। সবুজকেই তার নানা বেশি পছন্দ করতেন। সবুজ এটাও ভেবেছে যে উত্তরাধিকার যদি শেষ করে দিতে পারি তাহলে সে বেশি জমির ভাগিদার হতে পারবে।

তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। জায়গা জমি নিয়ে তাদের মধ্যে একটি ক্ষোভ ছিলো। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধরালো অস্ত্র গুলো শাহিনের বাড়ির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরেকটি ধারালো ছোরা পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও জয়ব্রত পাল, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিব, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেউ যেন নিরপরাধ কোন মানুষকে কষ্ট দিতে না পারে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন-বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

অপরদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ড ঘটনার পরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), দুই বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা (২৫) এবং ভগ্নিপতি শহিদুল।

অবশেষে আজ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্য দিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন হলো।

এমএসএম / এমএসএম

জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সভা

বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

কাশিয়ানীতে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মাষ্টমীর পরামর্শ সভা ডাকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গৌর সাহার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত: শৃঙ্খলা পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর জোর

শালিখায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ক্ষেতলালে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

চন্দনাইশে উৎসাহ-উদ্দীপনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন

মেহেরপুরে বিএটিবির আউটসোর্সিং কর্মীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

বারহাট্টায় নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস পক্ষ- ২০২৬ পালিত

গলাচিপায় অস্তিত্ব হারানো খাল উদ্ধারের উদ্যোগ

টুঙ্গিপাড়ায় মৎস্য পক্ষ, অবৈধ জাল বন্ধের আহ্বান এমপি জিলানীর

ফেনীতে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ বিতরণ