আইসিটি অধিদপ্তরে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার দাপট
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে (আইসিটি অধিদপ্তর) এক ব্যক্তিগত সহকারীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি, যা এখন পুরো দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর প্রশ্ন তুলছে।
অধিদপ্তরের অনুমোদিত অরগানোগ্রাম অনুযায়ী মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সিস্টেম ম্যানেজারের জন্য ব্যক্তিগত সহকারী থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তরে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে একই ব্যক্তি বহাল রয়েছেন, যা স্বাভাবিক রোটেশন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এক ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট দিয়ে—যা প্রশাসনিক বিধি-বিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১৩তম গ্রেডের একজন কর্মচারী হলেও তার জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল। এডিজি এর ব্যক্তিগত সহকারী জনাব মোঃ গোলাপ ইসলাম চাকরিতে প্রবেশ করেই লাইফস্টাইল অন্যরকম হয়ে যায়। বিমান ছাড়া সে বাড়িতে যায় না, তার বাসায় যে আসবাবপত্র রয়েছে একজন সচিবের বাসায় তা নেই। বাচ্চাদের ব্যয়বহুল স্কুলে পড়াশুনা, বউয়ের দামি দামি জিনিস এসবের উৎস কি? এবার আসা যাক তার বেতন সম্পর্কে। তিনি ১৩তম গ্রেডের একজন কর্মচারী। যার বেসিক ১১০০০-২৬৫৯০/-। তার মধ্যে থেকে সরকরি বাসাভাড়া, জিপিএফ কর্তন করে আনুমানিক ৬-৭ হাজার থাকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই টাকা দিয়ে এত খরচ কিভাবে ম্যানেজ করেন।
জনাব মোঃ গোলাপ ইসলাম এসব ম্যানেজ করেন দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা দিয়ে। চাকরি জীবনে দুর্নীতির জন্য আইসিটি অধিদপ্তরে বেশ কয়েকবার অভিযোগ আসছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (ক্যাডার বহির্ভূত) জনাব মোঃ শওকত ওসমান (১১৩৪৯) তার ক্ষমতাবলে ঐসব অপরাধের শাস্তি থেকে মাফ পেয়ে যান। শুধু তাই নয়, আইসিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ বাণিজ্য, প্রোগ্রামার বা সহকারী প্রোগ্রামার পদের বদলি বাণিজ্য, ডিজিটাল ল্যাব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হতে বাণিজ্য করে অন্যরকম লাইফস্টাইল লিড করেন। আওয়ামীলীগ পন্থি জনাব মোঃ গোলাপ ইসলাম তার বাসায় শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করতেন। যেখানে একজন সরকারি কর্মচারী তা কোন ভাবেই করতে পারেন না।
এখন একটা প্রশ্ন রয়েই গেল সেটা হলো স্বল্প বেতন চাকরি করা তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী কীভাবে ভিআইপি লাইফস্টাইল, ঢাকার মতো জায়গায় জমি ক্রয়, ছেলেমেয়েদের ব্যয়বহুল স্কুল, স্ত্রীর বিলাসিত জীবন কিভাবে ম্যানেজ করেন। অথচ প্রতিদিন সকালে পত্রিকার খুললেই দেখা যায় তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের হাহাকার। অনেকেই সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং আনসারের ভুয়া সনদ দারী আইসিটি অধিদপ্তরের এডিজি এর ব্যক্তিগত সহকারী জনাব মোঃ গোলাপ ইসলাম ব্যয়বহুল লাইফস্টাইল লিড করেন। দুর্নীতির বেড়াজালে বন্দী আইসিটি অধিদপ্তর: কর্তৃপক্ষকে এসব দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের শাস্তির আওতায় না আনতে পারলে হয়তো এর লাগাম টানতে পারবে না। আয়-ব্যয়ের মধ্যে অস্বাভাবিক বৈষম্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক সূত্র। তার নামে এবং তার স্ত্রীর নামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠেছে, যা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
তার চাকরিতে প্রবেশ নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি একসময় দৈনিক হাজিরাভিত্তিক অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে স্থায়ী চাকরি লাভ করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর (গেজেটড ও ননগেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগবিধি, ২০১৫ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সহকারী (পি.এ) নিয়োগের ক্ষেত্রে,
"The Stenographers and Steno-typists (Ministries, Divisions and Attached Departments) Recruitment Rules, 1978" এর "স্টেনোগ্রাফার” পদের নিয়োগ যোগ্যতা অনুযায়ী, তবে কম্পিউটার ব্যবহার। সংক্রান্ত ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডাটা এন্ট্রি ও টাইপিং ইত্যাদির সর্বনিম্ন গতি হইবে। "সাঁট-লিপিকার বা স্টেনোগ্রাফার, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক বা স্টেনোটাইপিস্ট, অফিস। সহকারী-কাম-মুদ্রাক্ষরিক, মুদ্রাক্ষরিক-কাম-অফিস সহকারী ও মুদ্রাক্ষরিক পদের পদবী পরিবর্তন ও নিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০১০” অনুযায়ী। যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, ব্যক্তিগত সহকারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে (খ) এর তফসিল ১ এ (i) কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, এবং তফসিল ২ ও ৩ অনুযায়ী গৃহিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তফসিল-৩ এ উক্ত পদের জন্য সাঁটলিপির সর্বনিন্ম গতি ইংরেজি প্রতি মিনিটে ৮০ এবং বাংলা ৫০ থাকতে হবে।
এডিজি এর ব্যক্তিগত সহকারী জনাব মোঃ গোলাপ ইসলাম তৎকালীন নিয়োগ কমিটির সদস্যেদের ম্যানেজ করে সাঁটলিপির সর্বনিন্ম গতি ইংরেজি প্রতি মিনিটে ৮০ এবং বাংলা ৫০ থাকতে হবে এই অংশটুকু বাদ দেয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা যেখানে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ছিল সেখানে করেন এইচএসসি কারণ তার কৃষি ডিপ্লোমা করা, এসব কিছু বাদ দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কারণ মোঃ গোলাপ ইসলামের কোন সাটলিপির কোন দক্ষতা ছিল না। মোঃ গোলাপ ইসলাম ভুয়া আনসারের সনদ দিয়ে আনসার কোটায় চাকরিতে প্রবেশ করে। চাকরিতে প্রবেশ করেই একের পর এক দুর্নীতি শুরু হয় তার। আনসার কোটায় চাকরিতে প্রবেশ করলেও তার শারীরিক যোগ্যতা, বিশেষ করে উচ্চতা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সনদের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে—তার একজন নিকট আত্মীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত রয়েছেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম থেকে নিজেকে রক্ষা করে আসছেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখারও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলোর একটি হলো—তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেই মামলার কোনো কার্যকর শাস্তি প্রদান করা হয়নি। বরং প্রভাব খাটিয়ে মামলার নথিপত্র গায়েব করে ফেলার অভিযোগও উঠেছে, যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এতসব অভিযোগের পরও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি—এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের। তারা মনে করছেন, দ্রুত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা জরুরি। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি চাকরি, কিন্তু বিলাসবহুল জীবনযাপন! আইসিটি অধিদপ্তরের কর্মচারীকে ঘিরে বিতর্ক—সামাজিক মাধ্যমে উঠছে প্রশ্ন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (আইসিটি অধিদপ্তর) এক ব্যক্তিগত সহকারীকে ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক জীবনযাপনের অভিযোগের পাশাপাশি এবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত জীবনধারাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও তথ্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—একজন ১৩তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন কীভাবে সম্ভব?
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বিদেশ ভ্রমণ, বিমানবন্দরে অবস্থান এবং আড়ম্বরপূর্ণ পারিবারিক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। একটি ছবিতে তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ যাত্রার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা তার আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্য একটি ছবিতে তার বাসার অভ্যন্তরের দৃষ্টিনন্দন ও ব্যয়বহুল আসবাবপত্র দেখা গেছে, যা সাধারণ সরকারি কর্মচারীর আয়-সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না-তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে তার পারিবারিক আয়োজন, জন্মদিন উদযাপন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যাপক আড়ম্বর লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, তার ঘনিষ্ঠ পরিচিত একজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের যোগাযোগ তার অবস্থানকে দীর্ঘদিন ধরে অটুট রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এর আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ছিল। নতুন করে প্রকাশিত এই ছবিগুলো সেই অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একজন নিম্নগ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জীবনযাপন যদি তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা বলছেন, বিষয়টি তদন্তের আওতায় এনে সম্পদের উৎস যাচাই করা উচিত।
এমএসএম / এমএসএম
আইসিটি অধিদপ্তরে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার দাপট
রাজধানীর মিরপুরে টেলিগ্রামের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি বিক্রির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
অবশেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ট্রেডিং এন্ড কনস্ট্রাকশনের সাথে জাগৃক এর চুক্তি বাতিল
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তেল নিয়ে তেলেসমাতি ব্যবসা
রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান: মিরপুর ও শেওড়াপাড়ায় নকশা বহির্ভূত ৯ ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
তাপদাহ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান
চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
তারেক রহমানের সমর্থন চায় মেয়র প্রার্থী শামীম আহমদ
উত্তরায় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রাইভেট হাসপাতাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
ঢাকা রেঞ্জের আন্তঃব্যাটালিয়ন ফুটবল, ভলিবল ও কাবাডি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারির নতুন কমিটি নির্বাচিত
কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ডের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত