চা বাগানের সৌন্দর্যের আড়ালে ভাঙাচোরা সড়কে জনদুর্ভোগ
দু’পাশে সবুজ চা বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে যেন এক টুকরো স্বর্গ। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের মাঝ দিয়েই বয়ে যাওয়া সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগের প্রতীকে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট রোড থেকে খেজুরিছড়া চা বাগান পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বড় বড় গর্তে জমে থাকছে পানি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কাদা, কোথাও পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এতে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩ কিলোমিটার সড়কের অন্তত ৮ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিশেষ করে কালিঘাট চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে খেজুরিছড়া চা বাগানের ডিনস্টন সিমেট্রি পর্যন্ত অংশটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পথে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও জিপচালকেরা জানান, ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের গাড়ি চালাতে হয়। খানাখন্দে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যায় কিংবা গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। বড় গর্তে চাকা আটকে যাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। গতকালও এক অটোরিকশার যাত্রী পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানান তাঁরা।
রানার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রিতা বোনার্জী বলে, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে সিএনজি বা জিপে উঠতে হয়। রাস্তার কারণে এত ঝাঁকুনি লাগে যে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় কাদাপানিতে ভরে যায় রাস্তা। অনেক সময় জামাকাপড়ের পাশাপাশি বইও নষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তা সংস্কার প্রয়োজন।”
স্থানীয় শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শয়ন তাঁতী বলেন, “এই সড়ক শুধু পাঁচটি ইউনিয়নের যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি চা বাগান এলাকার অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাস্তার অনেক জায়গা মাঝখান পর্যন্ত ভেঙে গেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ক্ষতিও হবে। এই পথ দিয়েই চা পাতা ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করা হয়।”
নেত্রকোনা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক মাসুদ রানা বলেন, “সবুজ চা বাগান দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্কিত হতে হয়েছে। এমন বেহাল রাস্তা কল্পনাও করিনি।”
অটোরিকশাচালক ইকবাল মিয়া বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর। প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়। যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যায়।”
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মঙ্গল দাশ জানান, সড়কের কারণে মালামাল পরিবহনে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়ে গেছে। “আগের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রাকিব বলেন, “সড়কটির সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পে আরও সাড়ে নয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং সড়কটি আবার স্বাভাবিক যান চলাচলের উপযোগী জন্য হবে।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, “জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সড়কটি যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এমএসএম / এমএসএম
গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শালিখায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নড়াগাতীতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের
চাঁদপুরে খাল দূষণ ও ভরাট করায় দুই রাইস মিল মালিকের জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নতুন উদ্যমে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই বংশের সংঘর্ষ, আহত ১৪
তারাগঞ্জে দায়সারা ভাবে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত,কৃষকদের ক্ষোভ
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকির ধুম
মোহনগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
কুড়িগ্রামে জেলা টাউন ক্লাবে আধুনিক ডিজিটাল প্রজেক্টর উদ্বোধন
গোদাগাড়ীতে ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্টুডেন্ট ফোরামের দ্বি-মাসিক স্টাডি সার্কেল অনুষ্ঠিত
এসিল্যান্ডের ড্রাইভার থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য
কুমিল্লায় গোল্ডেন লাইফ ইনসুরেন্সের আল-ফালাহ্ ইসলামী জীবন বীমা প্রকল্পের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত
কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হলো রেডি টু কুক ফিস
Link Copied