নিয়ম বহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণ, পাশের বিল্ডিং ধ্বসে পড়ার শঙ্কা
রাজশাহীর কাজিহাটা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ি ধ্বসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজ বাসভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা, নিম্নমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়ম না মেনে গভীর খননের কারণে তাদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ফেটে গেছে, ভিত্তির নিচ থেকে বালু ও পানি বের হচ্ছে এবং পুরো বাড়ি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগকারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকারের মেয়ে তামান্না সুলতানা জানান, তাদের বাড়ি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার কাজিহাটা এলাকায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত গলিতে অবস্থিত।
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ির পাশেই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “ড্রিম স্মিথ” এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজান যৌথভাবে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। শুরুতে কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই মাটি খননের কাজ শুরু করা হয়। পরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-তে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে আদালতে মামলা ও আইনজীবীর নোটিশ পাঠানোর পর নির্মাণকারী পক্ষ ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর খননের জন্য ২০ ফুট স্টিল শিট দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ১৩ ও ২০ ফুটের মিশ্র শিট ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর আপত্তি সত্ত্বেও তা পরিবর্তন করা হয়নি।
তামান্না সুলতানা বলেন, পুরো জমি তিন ধাপে খননের কথা থাকলেও নির্মাণকারী পক্ষ একসঙ্গে দুই ধাপের মাটি কেটে ফেলে। কাজিহাটা এলাকার মাটি নরম হওয়ায় শুকনো মৌসুমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। বরং কয়েক মাস কাজ বন্ধ রেখে বর্ষা শুরু হওয়ার পর পুনরায় খননকাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নিম্নমানের স্টিল শিট ব্যবহারের কারণে মাটির চাপে সেগুলো সরে যায় এবং এতে ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়। একই সঙ্গে তাঁদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এমনকি ভিত্তির নিচ থেকে বালু ও পানি বের হতে থাকে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ক্ষতি রোধে ৪০ থেকে ৫০ ড্রাম ট্রাক বালি ফেলে ভরাট করার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাত্র ১১ ট্রাক বালি ফেলা হয়। পরে সেই বালুও সরিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, বর্তমানে অল্প কিছু বাঁশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ ঘটনায় আরডিএ, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তামান্না সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, “মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের বাড়ি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও নির্মাণকারী পক্ষ তা আমলে নেয়নি। এমনকি তারা বলেছেন, “যার বাড়ির ক্ষতি হয় হোক, বাড়ি পড়ে গেলেও আমরা আমাদের ভবনের কাজ চালিয়ে যাব।”
বর্তমানে তামান্না সুলতানার বাবা-মা হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় তাদের অনুপস্থিতিতে তিনিই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “ড্রিম স্মিথ” ও বিএনপি নেতা মিজানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
Aminur / Aminur
আত্রাইয়ে হাটকালুপাড়া-কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
ত্রিশালে নজরুল সিটির উন্নয়ন কর্মকান্ডের সম্ভাব্যতা যাচায়ে নজরুল স্মৃতি স্থান পরিদর্শন
কুমিল্লায় ৬ ভারতীয় মোটরসাইকেল জব্দ, চোরাচালান চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
তেতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ দূর হবে না : মিয়া গোলাম পরওয়ার
বরিশাল জেলা ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের হয়রানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া
বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার; হত্যার অভিযোগ
গোপালগঞ্জে ‘দুর্নীতিকে না বলি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত
সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪
কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামানের লাশ হস্তান্তর
মির্জা ফখরুল ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত : ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ র্যালি ও মিষ্টি বিতরণ