ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

বরিশাল জেলা ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের হয়রানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন


এম জহির, বরিশাল  photo এম জহির, বরিশাল
প্রকাশিত: ২২-৮-২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক বিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

আজ বেলা ১২টায় বরিশাল  প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে  নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের  কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
 তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷ 
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। 
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। 

এমএসএম / এমএসএম

আত্রাইয়ে হাটকালুপাড়া-কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ত্রিশালে নজরুল সিটির উন্নয়ন কর্মকান্ডের সম্ভাব্যতা যাচায়ে নজরুল স্মৃতি স্থান পরিদর্শন

কুমিল্লায় ৬ ভারতীয় মোটরসাইকেল জব্দ, চোরাচালান চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

তেতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ দূর হবে না : মিয়া গোলাম পরওয়ার

বরিশাল জেলা ডিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের হয়রানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া

বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার; হত্যার অভিযোগ

গোপালগঞ্জে ‘দুর্নীতিকে না বলি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামানের লাশ হস্তান্তর

মির্জা ফখরুল ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত : ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ র‌্যালি ও মিষ্টি বিতরণ

জয়পুরহাটে ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট গ্রেপ্তার