ঢাকা শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

রায়গঞ্জে সেতু প্রকল্পের ছায়ায় অনিশ্চিত জীবন, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর ভয়ে ভূমিহীন পরিবার


সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ photo সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ
প্রকাশিত: ২০-৫-২০২৬ দুপুর ৪:২১
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চর ফরিদপুর এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পকে ঘিরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে একটি ভূমিহীন পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে বসবাস করা পরিবারটির অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের উচ্ছেদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর ফরিদপুর মৌজার এসএ ১ নম্বর খতিয়ানের ৮২ নম্বর দাগে প্রায় ৯ শতক জমিতে বহু বছর ধরে বসবাস করছেন আমীর হোসেন ও তাঁর স্ত্রী কহিনুর বেগম। পরিবারটির দাবি, ১৯৯১ সালে সরকারিভাবে বন্দোবস্তের মাধ্যমে তারা জমিটি পান। এরপর সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়ে সংসার গড়ে তোলেন।
 
বর্তমানে ফুলজোড় নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কারণে তাদের বসতভিটার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ তারা দেখেননি। বরং জায়গা ছাড়তে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
 
ভুক্তভোগী আমীর হোসেনের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান ও মো. আলহাজ্ব উদ্দিন বলেন, “ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ইতোমধ্যে রাস্তার পাশে থাকা আমাদের ঘর, টিউবওয়েল এবং গাছের বাগান উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে। এখন বসবাসের একমাত্র অবশিষ্ট ঘরগুলোও ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই আমাদের জায়গা ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে।”
 
আমীর হোসেনের বৃদ্ধা স্ত্রী কহিনুর বেগম বলেন, “এই বাড়িটাই আমাদের সব। অনেক কষ্ট করে একটু একটু করে ঘর তুলেছি। এখন যদি এই ঘরও ভেঙে দেয়, তাহলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। বৃদ্ধ বয়সে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে—এই চিন্তায় ঘুমাতে পারি না।”
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের তৈরি কয়েকটি ছোট কক্ষ নিয়ে গড়ে উঠেছে পরিবারটির বসতঘর। ঘরের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন গাছপালা। পরিবারের সদস্যরা জানান, এই বাড়িটিই তাদের জীবনের একমাত্র সম্বল।
 
স্থানীয় সমাজসেবক মো. ইউসুফ আলী বলেন, “উন্নয়নকাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে উন্নয়নের নামে কোনো ভূমিহীন পরিবার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা একটি পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা মানবিক হবে না। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা।”
 
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা কামালের পক্ষে মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রশাসনের আওতাধীন।”
 
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 
এদিকে সেতু নির্মাণকাজ এগিয়ে চললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আমীর হোসেনের পরিবার। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশায় এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা।

এমএসএম / এমএসএম

দুর্নীতির কারিগর আজিজের ফেনী বদলির খবরে জনমনে ক্ষোভ

ছয় জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১১ জনের

গাজীপুরে বাস চাপায় পিষ্ট হয়ে অটোরিকশা চালক-যাত্রী নিহত

আত্রাইয়ে আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি দাবি

আদমদীঘিতে ভ্যারাইটি স্টোরে অগ্নিকান্ড, ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বেনাপোলের বিশিষ্ট মাদক ব্যবসায়ী হযরত ইয়াবাসহ আটক

৪৫ বছর ধরে বিনামূল্যে গাছ দিয়ে বেড়াচ্ছেন মাদারীপুরে রাজন মাহমুদ

সমস্ত রাজনৈতিক দলকে কর্মকান্ড পরিচালনার সুযোগ দিতে চাই: মির্জা ফখরুল

রায়গঞ্জে ধর্ষণের আলামত নষ্টের অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সের সংবাদ সম্মেলন

পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান, বৃষ্টিতে ভিজে শূন্য রেখায় ‘ওরা ২৮ জন’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন

মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার, এলাকা পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান

নাচোলে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন: ১ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ