অপরাধ আড়ালের মাধ্যম যেন না হয় ’গণমাধ্যম’
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কারণ একটি দেশের সরকার, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমই জনগণের চোখ ও কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। মানুষের অজানা তথ্য সামনে আনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমাজকে সচেতন করা, দুর্নীতি ও অপরাধের মুখোশ উন্মোচন করা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু যখন সেই গণমাধ্যমই কোনো অপরাধকে আড়াল করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাজের জন্য তা ভয়াবহ সংকট তৈরি করে। একটি সত্য গোপন করা মানে শুধু একটি খবর চাপা দেওয়া নয়, একটি অপরাধকে শক্তিশালী করে তোলা, একটি অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া এবং সমাজের ন্যায়বোধকে ধ্বংস করা।
আজকের পৃথিবীতে তথ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষ যা দেখে, পড়ে বা শোনে, তার একটি বড় অংশই আসে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে। ফলে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সত্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ, করপোরেট স্বার্থ, অর্থনৈতিক সুবিধা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা ক্ষমতার প্রভাবে কিছু গণমাধ্যম সত্যকে আড়াল করে, বিকৃত করে অথবা আংশিকভাবে প্রকাশ করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন একটা গণমাধ্যম প্রভাবশালী কোন অপরাধের তথ্যসমৃদ্ধ সংবাদ প্রকাশ করলে অনেক সুবিধাভোগী সাংবাদিকরা অপরাধীর বিপক্ষে না গিয়ে প্রকাশকারী সাংবাদিক বা প্রকাশিত গণমাধ্যমের পিছনে লেগে যান। সত্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাজেহাল করার চেষ্টা করেন, এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিতেও সহযোগীতা করেন কেউ কেউ। অনেক সাংবাদিক বা গণমাধ্যম মালিকের কিছু নিজের লোক থাকেন, তারা যদি হাজারো অপরাধ করেন তবু যেন কিছুই না। বরং উল্টো তাকে সাপোর্ট করা হয়। আবার কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ কাটছাট করেন তাতে মনে হয় অপরাধীদের সেইফ করছেন। কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের লোভে নিজেদের বিবেক বিকিয়ে দিচ্ছেন অকাতরে। আবার কিছু গণমাধ্যমের জন্মই হয়েছে শুধু বিজ্ঞাপন আদায়ের জন্য, বিজ্ঞাপন দিলেই যেন সব অপরাধ মার্জনীয়। এই সিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। কারণ, এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়, অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে দেখা গেছে, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি অপরাধ করলে তা নিয়ে গণমাধ্যমের একাংশ নীরব থাকে। আবার কোনো ঘটনায় প্রকৃত সত্যের পরিবর্তে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয় যাতে অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই দায়ী মনে হয়। এটি শুধু অনৈতিক নয়, বরং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কারণ গণমাধ্যম যদি সত্য প্রকাশের বদলে ক্ষমতাবানদের রক্ষাকবচ হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের আর কোথাও আশ্রয় থাকে না।
একসময় সংবাদপত্র ছিল মানুষের বিশ্বাসের জায়গা। মানুষ ভাবত, পত্রিকায় যা ছাপা হয় বা টেলিভিশনে যা দেখানো হয়, তা যাচাই করা সত্য। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরেছে। কারণ মানুষ দেখছে, একই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন উপস্থাপন। কোথাও অপরাধকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে, কোথাও অপরাধীর পরিচয় গোপন করা হচ্ছে, কোথাও আবার টাকার বিনিময়ে সংবাদই প্রকাশ করা হচ্ছে না। এতে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
গণমাধ্যম যখন নিরপেক্ষতা হারায়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিচারপ্রার্থী মানুষ। ধরুন, একটি দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের আগেই যদি গণমাধ্যমের একটি অংশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে “সমাজসেবক” বা “জনদরদি” হিসেবে প্রচার করতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, বড় কোনো অপরাধের খবরকে আড়াল করতে বিনোদনমূলক বা তুচ্ছ বিষয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে মানুষের মনোযোগ মূল সমস্যা থেকে সরে যায়। এটি এক ধরনের পরিকল্পিত তথ্য-প্রভাব, যা গণমাধ্যমের নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্বের ইতিহাসে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অনেক বড়বড় অপরাধ উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি তার বড় উদাহরণ। দুই সাংবাদিকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের দুর্নীতি প্রকাশ পায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হয়। আবার পানামা পেপারস বা প্যান্ডোরা পেপারসের মতো আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কীভাবে বিশ্বনেতা, ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাবানরা গোপনে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, গণমাধ্যম সৎ থাকলে সত্য একদিন প্রকাশ পায়ই। কিন্তু উল্টোভাবে, যদি গণমাধ্যমই সেই তথ্য আড়াল করে, তাহলে অপরাধ আরও গভীরে শিকড় গাঁথে।
বাংলাদেশেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে বহু অনিয়ম সামনে এসেছে। প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি, হাসপাতালের অব্যবস্থা, খাদ্যে ভেজাল, পরিবহন খাতে নৈরাজ্য কিংবা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পেরেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন অভিযোগও রয়েছে যে কিছু সংবাদমাধ্যম বিজ্ঞাপন বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক অপরাধ নিয়ে নীরব থাকে। এতে বোঝা যায়, গণমাধ্যমের শক্তি যেমন বিশাল, তেমনি এর অপব্যবহারও ভয়ংকর।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আগে একটি সংবাদ যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশ হতো, এখন মুহূর্তেই হাজারো তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এই সুযোগে অনেক ভুয়া তথ্য, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও ছড়ায়। কখনো কখনো মূলধারার কিছু গণমাধ্যমও যাচাই ছাড়া সেই তথ্য প্রচার করে বসে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ানো হয়, যাতে প্রকৃত অপরাধ আড়ালে চলে যায়। ফলে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনমত তৈরি করা। আর সেই শক্তি যদি অপব্যবহার হয়, তাহলে একটি জাতির চিন্তাভাবনাও প্রভাবিত হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যদি নিয়মিত টেলিভিশনে “সমাজসেবক” হিসেবে প্রচার পায়, তাহলে মানুষ ধীরে ধীরে তার অপরাধ ভুলে যায়। আবার কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যদি বারবার নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে মানুষ তাকে অপরাধী ভাবতে শুরু করে। এভাবে গণমাধ্যম কখনো কখনো বিচার হওয়ার আগেই “জনমতের আদালত” তৈরি করে ফেলে, যা ন্যায়বিচারের জন্য ক্ষতিকর।
অনেক সময় দেখা যায়, বড় বড় অপরাধের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকে। একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও সেই প্রতিষ্ঠান যদি বড় বিজ্ঞাপনদাতা হয়, তাহলে কিছু গণমাধ্যম সেই সংবাদ প্রকাশে অনীহা দেখায়। আবার কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে তথ্য থাকলেও সেটি প্রকাশ না করার জন্য চাপ আসে। সাংবাদিকদের চাকরি হারানোর ভয়, মামলা, হুমকি কিংবা শারীরিক আক্রমণের আশঙ্কাও অনেক ক্ষেত্রে সত্য প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু কাগজে-কলমে থাকলে হবে না; বাস্তবেও তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থ। কিন্তু যখন সাংবাদিকতা ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন এই মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে অনেক মিডিয়া হাউসের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে দর্শকসংখ্যা ও মুনাফা বৃদ্ধি। ফলে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বদলে চটকদার সংবাদ বেশি গুরুত্ব পায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধীকে নায়ক বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়, কারণ তাতে দর্শক বাড়ে। এটি সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রবণতা। কারণ এতে তরুণ সমাজ ভুল বার্তা পায় যে অর্থ ও ক্ষমতা থাকলে অপরাধ করেও জনপ্রিয় হওয়া যায়।
অপরাধ আড়াল করার আরেকটি বড় মাধ্যম হলো “নীরবতা”। সব অপরাধ প্রকাশ না করেও আড়াল করা যায়। কোনো একটি সংবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্ব না দেওয়া, প্রথম পাতায় না ছাপা, টেলিভিশনের প্রধান সংবাদে না রাখা কিংবা তদন্তমূলক অনুসন্ধান না করা, এসবও এক ধরনের গোপন সহযোগিতা। মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে।
শিশু নির্যাতন, নারী নিপীড়ন বা ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেশি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়া হয়, অথচ অপরাধীর পরিচয় আড়াল করা হয়। এতে ভুক্তভোগী সামাজিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার অনেক সময় প্রভাবশালী অপরাধীর নাম সরাসরি না বলে “একজন ব্যবসায়ী”, “একজন রাজনৈতিক নেতা” ইত্যাদি অস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়। এটি ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতা নয়। স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন জবাবদিহিতাও। একটি ভুল সংবাদ মানুষের জীবন ধ্বংস করতে পারে। আবার একটি চাপা দেওয়া সংবাদ বহু মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের শুধু পেশাগত দক্ষতাই নয়, নৈতিক সাহসও থাকতে হবে। সত্য প্রকাশের জন্য অনেক সাংবাদিক জীবন দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিক খুন হয়েছেন, কারাগারে গেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, প্রকৃত সাংবাদিকতা কখনো অপরাধের সহযোগী হতে পারে না।
একটি সুস্থ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো স্বচ্ছ হতে হবে। যদি গণমাধ্যমের মালিক নিজেই রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থে জড়িত থাকেন, তাহলে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা যেন ভয়ভীতি ছাড়া সত্য প্রকাশ করতে পারেন। তৃতীয়ত, ভুয়া সংবাদ ও অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর নৈতিক নীতিমালা থাকতে হবে। চতুর্থত, জনগণকেও সচেতন হতে হবে যেন তারা যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করেন।
শিক্ষা ব্যবস্থায় গণমাধ্যম সচেতনতা বা মিডিয়া লিটারেসি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত। মানুষ যদি বুঝতে শেখে কোন সংবাদ পক্ষপাতদুষ্ট, কোনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনটি যাচাইকৃত, তাহলে বিভ্রান্তি কমবে। কারণ শুধু সাংবাদিকদের দায় দিলেই হবে না; সচেতন পাঠক-দর্শকও একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
বর্তমানে ইউটিউব, ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালের যুগে যে কেউ তথ্য প্রচার করতে পারে। এটি যেমন মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়েছে, তেমনি দায়িত্বহীনতার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ভিউ বাড়ানোর জন্য অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা শিরোনাম ব্যবহার করে। এতে প্রকৃত সংবাদ আড়ালে চলে যায়। ফলে গণমাধ্যমের সংজ্ঞাই এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাস্তবতায় পেশাদার সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে সত্য বলার পরিবেশ থাকে। আর সেই পরিবেশ তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। যদি গণমাধ্যম অপরাধীদের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দুর্নীতি, অন্যায় ও অপরাধ আরও বাড়বে। কারণ অপরাধীরা জানবে, অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে সত্যকে চাপা দেওয়া সম্ভব। এতে আইনের শাসন দুর্বল হয় এবং সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও হতাশা জন্ম নেয়।
গণমাধ্যম কখনো বিচারকের ভূমিকা নিতে পারে না, তবে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব অবশ্যই তার। একটি অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেটি তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাই সাংবাদিকতার আদর্শ। পক্ষ নেওয়া নয়, বরং সত্যের পাশে দাঁড়ানোই গণমাধ্যমের প্রকৃত দায়িত্ব।
আজকের বিশ্বে তথ্যযুদ্ধ বাস্তব যুদ্ধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কোনো ঘটনা মানুষ কীভাবে দেখবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে গণমাধ্যম কীভাবে সেটি উপস্থাপন করছে তার ওপর। ফলে গণমাধ্যম যদি নিরপেক্ষতা হারায়, তাহলে একটি জাতির চিন্তা, বিচারবোধ ও ভবিষ্যৎও বিপথে যেতে পারে। তাই গণমাধ্যমকে শুধু ব্যবসা বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব।
একজন সৎ সাংবাদিক শুধু সংবাদকর্মী নন, তিনি সমাজের বিবেক। আর একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং সমাজে ন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলে। ইতিহাসে যেসব জাতি এগিয়েছে, তারা সত্যকে সম্মান করেছে। আর যেসব সমাজে সত্যকে চাপা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অন্যায় ও দুর্নীতি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
অতএব, গণমাধ্যম যেন কখনো অপরাধ আড়ালের মাধ্যম না হয়, এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ, সাংবাদিক এবং জনগণ, সবার যৌথ দায়িত্ব। সত্য প্রকাশের সাহস, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো গণমাধ্যম প্রকৃত অর্থে গণমাধ্যম হতে পারে না। কারণ সংবাদপত্রের কালি, ক্যামেরার আলো কিংবা মাইক্রোফোনের শব্দ তখনই অর্থবহ, যখন তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। অন্যথায় গণমাধ্যম শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অপরাধের নীরব সহযোগীতে পরিণত হয়।
লেখক: কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সভাপতি, রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।
এমএসএম / এমএসএম
অপরাধ আড়ালের মাধ্যম যেন না হয় ’গণমাধ্যম’
বাংলাদেশের টেকসই কৃষি ও গ্রাম উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এবং রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের প্রশ্ন
নিরাপদ ট্রেন ভ্রমন নিশ্চিতে সচেষ্ট জিএম সুবক্তগীন
অসাধু কসাইদের প্রতারণা ও আমাদের অজ্ঞতা: সতেজতার আড়ালে অনিরাপদ মাংস
আত্মত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঈদুল আজহা
পাহাড়ে শান্তির পথপ্রদর্শক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
বিদ্যুৎ বিল কমানো জরুরি , সরকার উদ্যোগ নিবে এটাই সকলের প্রত্যাশা
আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনারোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ
যেখানে হারায় আলো, সেখানে জন্মায় স্বপ্ন
শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিক স্তরে কৃষি শিক্ষা পুনরায় বাধ্যতামূলক করা হোক
লবণ কমাই, জীবন বাঁচাই: বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬
সংস্কার আর জনকল্যাণে তারেক রহমানের ১০০ দিনের দোরগোড়ায় নতুন বাংলাদেশ