ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশের স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে


মোহাম্মদ আনোয়ার photo মোহাম্মদ আনোয়ার
প্রকাশিত: ১২-৮-২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো জনগণের ভোটে গঠিত সংসদ ও সরকারের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা। একটি অবাধ, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দেয়, তাকে সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে থেকে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে। সরকার পরিবর্তনের স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য পথ হওয়া উচিত নির্বাচন ও জনগণের রায়—রাজনৈতিক সংঘাত, প্রতিহিংসা কিংবা অনিশ্চয়তা নয়।

তবে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কখনোই জবাবদিহিহীনতার নিশ্চয়তা হতে পারে না। বরং একটি কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারকে পুরো মেয়াদজুড়ে সংসদ, বিরোধী দল, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সর্বোপরি জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হয়। সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হবে, বিরোধী দল বিকল্প নীতি তুলে ধরবে, যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে এবং জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার চূড়ান্ত বিচার করবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ।

বাংলাদেশ আজ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে এই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আর নিছক ক্ষমতার রাজনীতির বিষয় নয়; এটি এখন সরাসরি অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক বাণিজ্য, শিল্পায়ন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতি এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। একটি সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করল, কিন্তু তা বাস্তবায়নের আগেই যদি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে শুধু সরকার নয়—ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষও তার মূল্য দেয়।

তাই বাংলাদেশের সামনে মৌলিক প্রশ্নটি শুধু কে সরকারে থাকবে কিংবা কে বিরোধী দলে থাকবে—তা নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার পুরোনো চক্রে ফিরে যাব, নাকি নির্বাচনী ম্যান্ডেট ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে সম্মান করে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে সরকার পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে, বিরোধী দল দায়িত্বশীলভাবে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং সরকার পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ—নির্বাচনের মাধ্যমে?

এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা গেলে তার সুফল শুধু গণতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নীতির ধারাবাহিকতা বাড়বে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি হবে, বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে ক্ষমতার সংঘাত থেকে সুশাসন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জনকল্যাণের দিকে স্থানান্তরিত হবে।

অতএব নির্বাচিত সংসদ ও সরকারকে সাংবিধানিক পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি কোনো একটি সরকার বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের প্রশ্ন।

অর্থনীতির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন আস্থা

অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—ব্যবসায়ীর আস্থা, ব্যাংকের আস্থা, বিনিয়োগকারীর আস্থা, উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের আস্থা।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দেশ এখন একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।

এই সময়েই বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে। সংস্থাটি FY2025-26-এ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩.৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ, আর্থিক খাতের চাপ এবং রাজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্বব্যাংক বলেছে—২০২৬ সালের নির্বাচনের পর টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

IMF-এর জুলাই ২০২৬-এর মূল্যায়নও সতর্কতামূলক। সংস্থাটি FY2027-এ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩.৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে না গেলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও বলেছে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা মোকাবিলায় কার্যকর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক মূল্যায়নগুলো থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরীক্ষা নেই; সামনে রয়েছে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আর্থিক খাত সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা।

আর এখানেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নটি অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

SDG অর্জনেও রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা জরুরি

বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা জাতিসংঘের Sustainable Development Goals—SDGs অর্জনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বিশেষ করে SDG 8—Decent Work and Economic Growth, SDG 9—Industry, Innovation and Infrastructure, SDG 16—Peace, Justice and Strong Institutions এবং SDG 17—Partnerships for the Goals বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

SDG 8-এর মূল লক্ষ্য টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও শোভন কাজ নিশ্চিত করা। SDG 9 শিল্পায়ন, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে SDG 16 শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের কথা বলে এবং SDG 17 আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

কিন্তু শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো কিংবা আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব—কোনোটিই রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে বিকশিত হতে পারে না।

বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, LNG অবকাঠামো, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, প্রযুক্তি পার্ক কিংবা বৃহৎ শিল্প প্রকল্পের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পাঁচ মাস বা পাঁচ বছরের জন্য নেওয়া হয় না। এসব বিনিয়োগের আর্থিক জীবনচক্র অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত।

তাই একজন বিনিয়োগকারী প্রথমেই জানতে চান—দেশটির নীতি কতটা পূর্বানুমানযোগ্য? চুক্তি কি সম্মানিত হবে? কর ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো হঠাৎ বদলে যাবে কি? বৈদেশিক মুদ্রা ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ থাকবে কি? বাণিজ্যিক বিরোধ হলে কার্যকর বিচার পাওয়া যাবে কি?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতিও কি আমূল বদলে যাবে?

এই কারণেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের জন্য শুধু একটি ভালো পরিবেশ নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি মৌলিক শর্ত।

নির্বাচিত সরকারের পূর্ণ মেয়াদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সাংবিধানিক মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়া নয়। বরং এর অর্থ হলো নির্বাচনী ম্যান্ডেট, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো।

একটি সরকারের মেয়াদ মূলত একটি নীতিগত সময়চক্র। প্রথমে সরকার তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, তারপর বাজেট ও প্রশাসনিক কাঠামো সাজায়, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করে এবং পর্যায়ক্রমে সেসব পরিকল্পনার বাস্তব ফল জনগণের সামনে আসে।

বড় অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি কিংবা আর্থিক খাত সংস্কারে অনেক সিদ্ধান্তের ফল এক বা দুই বছরের মধ্যে আসে না। তাই সরকারকে কাজ করার সময় দিতে হয়।

সরকার ভালো করলে জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে আবার দায়িত্ব দিতে পারে। ব্যর্থ হলে ব্যালটের মাধ্যমেই তাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

গণতন্ত্রে সরকারের শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের সবচেয়ে নিরাপদ, স্বাভাবিক ও বৈধ মাধ্যম নির্বাচন।

কিন্তু নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ নিয়ে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা তৈরি হলে প্রশাসন সতর্ক হয়ে যায়, ব্যবসায়ী বিনিয়োগ স্থগিত রাখে, আন্তর্জাতিক কোম্পানি সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয় এবং ব্যাংকও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে আরও সংযত হয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার অর্থনৈতিক মূল্য তাই শেষ পর্যন্ত সরকার বা বিরোধী দল দেয় না—দেয় সাধারণ মানুষ।

তবে পূর্ণ মেয়াদ কখনোই জবাবদিহিহীনতার লাইসেন্স নয়

এখানেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যটি মনে রাখা দরকার।

সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে কাজ করতে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে সরকার পাঁচ বছরের জন্য প্রশ্নের ঊর্ধ্বে চলে যাবে। বরং নির্বাচনের পরের প্রতিটি দিনই হতে হবে জবাবদিহির দিন।

একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রে প্রয়োজন কার্যকর সংসদ, শক্তিশালী বিরোধী দল, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ।

সরকার ভুল করলে বিরোধী দল তা বলবে। দুর্নীতি হলে গণমাধ্যম প্রশ্ন করবে। নীতি ব্যর্থ হলে বিশেষজ্ঞরা বিকল্প পথ দেখাবেন। জনগণ অসন্তুষ্ট হলে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করবে।

এটাই গণতন্ত্র।

অন্যদিকে সরকারের দায়িত্বও কম নয়। ভিন্নমতকে রাষ্ট্রবিরোধিতা হিসেবে দেখলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করলে নির্বাচনের অর্থই সংকুচিত হয়ে যায়।

রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি হতে হবে এমন—সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, বিরোধী দল নজরদারি ও বিকল্প নীতি উপস্থাপন করবে, সংসদ বিতর্ক করবে, প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী কাজ করবে এবং জনগণ শেষ বিচারে ভোটের মাধ্যমে রায় দেবে।

বিরোধী দলের আন্দোলন থাকবে, কিন্তু সংঘাত নয়

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানে আন্দোলনহীন বাংলাদেশ নয়। বরং শক্তিশালী গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ।

২০২৬ সালের ৬ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঢাকায় অবস্থান ও সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করে। কর্মসূচি পল্টনের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়ার পর সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের কাছে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। জোটটি পরে দেশব্যাপী আরও কর্মসূচিও ঘোষণা করে।

বিরোধী দল জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ বিল, আইনশৃঙ্খলা কিংবা অন্য কোনো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবাদ করবে—এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

তবে আন্দোলন হতে হবে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত এবং এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন, রপ্তানি কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা অযথা বিপর্যস্ত না হয়।

একই সঙ্গে সরকারেরও উচিত যৌক্তিক দাবি বা জনগণের বাস্তব দুর্ভোগকে শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতা হিসেবে না দেখা। কোনো দাবি যৌক্তিক হলে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট বিরোধী দল, মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা। অনেক সমস্যার সমাধান রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনার টেবিলে দ্রুত করা সম্ভব।

গণতন্ত্রের পরিপক্বতা সেখানেই—বিরোধী দল দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবাদ করবে, আর সরকার দায়িত্বশীলভাবে শুনবে।

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ধরনও বদলাতে হবে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা দেখা গেছে—কে রাজপথে বেশি শক্তি দেখাতে পারে, কে বড় সমাবেশ করতে পারে, কে সরকারকে বেশি চাপে ফেলতে পারে।

কিন্তু আগামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায়।

কে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে? কে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারে? কে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? কে ব্যাংকিং খাতকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে পারে? কে দুর্নীতি কমাতে পারে? কে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে? কে শিল্প ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দিতে পারে?

এগুলোই হওয়া উচিত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন মানদণ্ড।

বিশ্ববাজারে পুঁজি আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না। একজন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর কাছে বাংলাদেশ সম্ভাব্য অনেক গন্তব্যের একটি। এখানে রাজনৈতিক ও নীতিগত ঝুঁকি বেশি মনে হলে সেই বিনিয়োগ ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া কিংবা অন্য কোনো উদীয়মান অর্থনীতিতে চলে যেতে পারে।

তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যদি রাজপথের শক্তি প্রদর্শন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে জনগণ।

প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, তাঁরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আরেকটি বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করা দরকার—দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রবাসীদের অবদান কতটা বড়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে FY2025-26-এ বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৩৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু মার্চ ২০২৬-এ রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং মে মাসে প্রায় ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার।

এই অর্থ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হয় না। দেশের লাখো পরিবারের ভোগব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার পেছনেও প্রবাসী আয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রবাসীদের তাই শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলে সম্মান জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না।

সরকারের দায়িত্ব তাঁদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা দেওয়া, সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা, হয়রানিমুক্ত সরকারি সেবা দেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে অর্জিত তাঁদের দক্ষতা, পুঁজি ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ককে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা।

একই প্রত্যাশা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা কোনো একটি দলের কাছে নয়। তাঁদের প্রত্যাশা নির্বাচিত সরকার, সংসদীয় বিরোধী দল এবং সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক শক্তি—সবার কাছেই।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকুক, আন্দোলন থাকুক, কঠোর সমালোচনা থাকুক; কিন্তু এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন না হয় যা বাংলাদেশের বন্দর, শিল্প, পরিবহন, রপ্তানি কিংবা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পরিবেশকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রাজনীতির ঊর্ধ্বে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ—এই ন্যূনতম সমঝোতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সামনে সুযোগও কম নয়:

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ যত বড়, বাংলাদেশের সম্ভাবনাও তত বড়।

বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ব্লু ইকোনমি, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম-মীরসরাই শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, LNG, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস—প্রতিটি খাতেই আগামী দশকে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান সরকারও বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। চট্টগ্রামের Chinese Economic and Industrial Zone-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি FDI এবং প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

এসব সুযোগ বাস্তবে রূপ দিতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নীতির ধারাবাহিকতা।

শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করলেই বিনিয়োগ আসে না। শুধু সমঝোতা স্মারক সই করলেও আসে না।

বিনিয়োগ আসে যখন একজন বিনিয়োগকারী বিশ্বাস করেন—এই দেশে তাঁর অর্থ নিরাপদ, চুক্তি সম্মানিত হবে, আইন কাজ করবে এবং পাঁচ বছর পর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও ব্যবসার মৌলিক নীতিগুলো এক রাতের মধ্যে বদলে যাবে না।

বাংলাদেশের আগামী অর্থনৈতিক অধ্যায়ের মূলমন্ত্র তাই হওয়া উচিত—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। নীতির ধারাবাহিকতা। বিনিয়োগকারীর আস্থা।

বর্তমান সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব:

নির্বাচিত সরকারের পূর্ণ মেয়াদের পক্ষে যুক্তি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সরকারের দায়িত্ব তার চেয়েও বড়।

বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে রাজনৈতিক বিজয়কে অর্থনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করা।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার করতে হবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও আইনসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। কর ও রাজস্ব কাঠামো আধুনিক করতে হবে। বিনিয়োগ অনুমোদনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আইনের শাসনের ওপর সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর আস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

নতুন সরকার মূল্যস্থিতি, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফলই হবে সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রকৃত পরীক্ষা।

একই সঙ্গে বিরোধী দল, ব্যবসায়ী সমাজ, প্রবাসী, বিশেষজ্ঞ, তরুণ জনগোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত সংলাপ থাকা প্রয়োজন।

কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি কোনো একক রাজনৈতিক দলের পাঁচ বছরের প্রকল্প নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি জাতীয় প্রকল্প।

স্থিতিশীলতার সুফল শেষ পর্যন্ত মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি GDP নয়—মানুষ।

দেশে স্থিতিশীল সরকার থাকল, কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে রইল; তরুণদের চাকরি হলো না; মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয় বাড়ল না; বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট কাটল না; শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হলো না—তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে সেই স্থিতিশীলতার মূল্য কমে যাবে।

অতএব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিজেই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; এটি একটি মাধ্যম।

স্থিতিশীলতা থেকে আসবে আস্থা।
আস্থা থেকে আসবে বিনিয়োগ।
বিনিয়োগ থেকে সৃষ্টি হবে শিল্প ও কর্মসংস্থান।
কর্মসংস্থান বাড়াবে আয়।
আয় ও প্রবৃদ্ধি বাড়াবে সরকারের রাজস্ব।
আর সেই রাজস্ব ফিরতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোয়।

এই চক্রটিই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অর্থনৈতিক যুক্তি।

আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য মোড় ঘোরানোর সময় হতে পারে-

বাংলাদেশকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি আবার প্রতিহিংসা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার পুরোনো রাজনৈতিক চক্রে ফিরে যাব, নাকি জনগণের নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে সম্মান করে সরকারকে সাংবিধানিক মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেব এবং একই সঙ্গে কঠোর গণতান্ত্রিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করব?

আমার বিবেচনায় দ্বিতীয় পথটিই দেশের জন্য অধিক কার্যকর।

নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া কোনো ব্যক্তি, সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগ্রহ নয়। আজ যে দল সরকারে আছে, আগামীকাল অন্য কোনো দলও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এমন হওয়া প্রয়োজন, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে; একই সঙ্গে পুরো মেয়াদজুড়ে তাকে সংসদ, বিরোধী দল, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম এবং জনগণের কাছে কঠোর জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

একটি সরকার নির্বাচনের দিন ম্যান্ডেট পায়, কিন্তু সেই ম্যান্ডেটের নৈতিক শক্তি তাকে প্রতিদিন অর্জন করতে হয়—

সুশাসন দিয়ে।
স্বচ্ছতা দিয়ে।
আইনের শাসন দিয়ে।
জনগণের কথা শুনে।
এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই একটি নতুন জাতীয় সমঝোতা প্রয়োজন।

সরকার পরিবর্তনের স্বাভাবিক পথ হবে নির্বাচন।

সরকারের জবাবদিহির প্রধান ক্ষেত্র হবে সংসদ, আদালত, গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।

বিরোধিতার ভাষা হবে শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনির্ভর ও নীতিনির্ভর।

আর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হবে—কে জনগণকে আরও ভালো রাষ্ট্র, উন্নত অর্থনীতি এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে পারে।

এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে পাঁচ বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শুধু একটি সরকারের মেয়াদ হবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের ভিত্তি।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কোনো রাজনৈতিক দলের জয় বা পরাজয় নয়।

প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ এগোচ্ছে কি না।

তরুণরা ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে কি না।

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে কি না।

প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন কি না।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন কি না।

ব্যবসায়ীরা নীতির ধারাবাহিকতার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন কি না।

এবং সবচেয়ে বড় কথা—সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন কি না।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি আস্থা সৃষ্টি করে, সেই আস্থা যদি বিনিয়োগে রূপ নেয়, বিনিয়োগ যদি শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং সেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি যদি শেষ পর্যন্ত মানুষের ঘরে কল্যাণ পৌঁছে দেয়—তবেই নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের জন্য সত্যিকার অর্থে সময়ের দাবি হয়ে উঠবে।

লেখক পরিচিতি:
মোহাম্মদ আনোয়ার
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক, গবেষক ও কলামিস্ট।

এমএসএম / এমএসএম

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশের স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে

সমুদ্রের সম্পদ থেকে শিল্পায়ন: মাতারবাড়ী–মীরসরাই করিডোরে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত

হজ প্যাকেজ ২০২৭: সাশ্রয়ী ও প্রবাসীবান্ধব হজ

রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ উদ্যোগেই দেশ এগিয়ে যায়

তারেক রহমানের নতুন রাজনৈতিক দর্শন: উসকানির জবাবে পেশিশক্তি নয়, ধৈর্য ও শৃঙ্খলা!

টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য

গুরু পূর্ণিমা: ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গুরু-শিষ্য পরম্পরার মাহাত্ম্য

ঢাকা শহরের বর্জ্যজনিত দুর্ভোগ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

স্বাগতম অ্যান্ডি বার্নহাম বিদায় কিয়ার স্টার্মার

রথযাত্রা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি

অপরিকল্পিত নগরায়ণে ডুবছে চট্টগ্রাম, জনসচেতনতা ছাড়া উত্তরণ সম্ভব নয়

বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর : স্মার্ট ইকোনমির আড়ালে ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ ও নজরদারির এক নীল নকশা

সামাজিক অবক্ষয়রোধে নান্দনিক দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য