ঢাকা শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ: সম্প্রীতির নতুন সুরে ঢাকা–দিল্লির ভূ-কৌশলগত সমীকরণ


মোহাম্মদ আনোয়ার photo মোহাম্মদ আনোয়ার
প্রকাশিত: ১৯-৮-২০২৬ দুপুর ১:৫৫

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে এখন আর শুধু ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক আবেগ, সীমান্ত, বাণিজ্য কিংবা অভিন্ন নদীর পানির হিসাব দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সমগ্র অঞ্চল আজ নতুন এক ভূ-কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিছক একটি দ্বিপাক্ষিক সফর নয়; এটি বাংলাদেশের Strategic Autonomy প্রতিষ্ঠা এবং ভারত–চীন–যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বৃহত্তর Indo-Pacific সমীকরণে ঢাকার অবস্থান আরও স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে যে অস্বস্তি ও আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রত্যর্পণ প্রশ্ন এবং দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ান সম্পর্ককে নতুন সংবেদনশীলতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু কূটনীতির মূল কাজই হলো—অস্বস্তিকে সংঘাতে রূপ নিতে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সমঝোতার পথ তৈরি করা।

ঠিক এখানেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য রয়েছে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।

বাংলাদেশের ভারতনীতি অন্ধ ভারতপ্রীতি কিংবা অন্ধ ভারতবিরোধিতা—কোনোটির ওপরই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত নয়। দেশের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বয়ান যেমন রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ নির্ধারণ করতে পারে না, তেমনি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের নামে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থে অযৌক্তিক আপসও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একজন প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনী রাজনীতির ভাষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ভাষার মধ্যে পার্থক্য করতে হয়। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মতামত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবশ্যই গুরুত্ব পাবে; কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হতে হবে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূ-কৌশলগত বাস্তবতার ভিত্তিতে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়—“আমরা ভারতপন্থী, না ভারতবিরোধী?”

প্রশ্নটি হওয়া উচিত—“বাংলাদেশের স্বার্থ কোথায়?”

এই একটি প্রশ্নই হওয়া উচিত ঢাকার প্রতিটি আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের কম্পাস।

একই বার্তা দিল্লির নীতিনির্ধারকদের জন্যও প্রযোজ্য। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট সরকার, রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। দিল্লিকে সম্পর্ক গড়তে হবে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের।

বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যদি এমন ধারণা তৈরি হয় যে ভারত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে নিজেকে অতিরিক্তভাবে সম্পৃক্ত করছে, তাহলে সেটি শেষ পর্যন্ত ভারতের নিজের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশকেও একটি বাস্তবতা বুঝতে হবে—ভারতকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের কার্যকর আঞ্চলিক কৌশল নির্মাণ সম্ভব নয়।

চার হাজার কিলোমিটারের বেশি অভিন্ন সীমান্ত, ৫৪টি অভিন্ন নদী, বিদ্যুৎ সংযোগ, রেল-সড়ক-নৌ যোগাযোগ, বাণিজ্য, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং নেপাল-ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সংযোগ—ভূগোলই দুই দেশকে পরস্পরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে।

Geography is permanent; governments are temporary.

এই বাস্তবতা ঢাকা ও দিল্লি—দুই রাজধানীকেই মনে রাখতে হবে।

একইভাবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো strategic card হিসেবে ব্যবহার করাও দূরদর্শী কৌশল হবে না। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো অংশীদার। তিস্তা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু সেই সম্পর্ক ভারতের বিরুদ্ধে নয়। আবার ভারতকেও বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত—India for geography and regional connectivity; China for investment and infrastructure; United States and Europe for markets, technology and strategic economic engagement; Japan, Korea and ASEAN for industrial diversification.

অর্থাৎ বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, বৈরিতা কারও সঙ্গে নয়—কিন্তু সিদ্ধান্তে সর্বাগ্রে বাংলাদেশ।

এটাই Strategic Autonomy।

তিস্তা এখন আর শুধু পানির প্রশ্নও নয়। এটি পানি নিরাপত্তা, কৃষি, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভারত–চীন ভূ-কৌশলগত সংবেদনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের উচিত এই বাস্তবতাকে সংঘাতের পরিবর্তে diplomatic leverage হিসেবে কাজে লাগানো। দিল্লির কাছে ঢাকা স্পষ্টভাবে বলতে পারে—বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে প্রস্তুত; কিন্তু একইভাবে ভারতকেও বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।

Security cannot be one-sided. Strategic sensitivity must be reciprocal.

ভারতের জন্যও বাংলাদেশ কেবল প্রতিবেশী নয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ, বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ, সড়ক-রেল-নৌ ট্রানজিট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের Act East Policy বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লজিস্টিক ব্যয় ও সময় কমাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ভারত হতে পারে নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ, বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় বিদ্যুৎবাজার এবং স্থলভিত্তিক আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রধান gateway।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের প্রয়োজন; আবার ভারতের ভূখণ্ড ও বাজার বাংলাদেশেরও প্রয়োজন। এই mutual dependency-কে রাজনৈতিক দর-কষাকষির অস্ত্র না বানিয়ে যৌথ অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করাই হবে দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয়।

আগামী দিনের আরও বড় সমীকরণ তৈরি হবে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। Indo-Pacific, সমুদ্রবাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, Blue Economy এবং regional connectivity যত গুরুত্বপূর্ণ হবে, বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত মূল্যও তত বাড়বে।

ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন শক্তির এই অঞ্চলে স্বার্থ রয়েছে। ঢাকার কাজ কোনো একটি শক্তির sphere of influence-এ প্রবেশ করা নয়।

বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত—

“Friendship with all, strategic dependence on none.”

বাংলাদেশ যদি এই নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দেশটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র নয়, বরং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ strategic bridge হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মূল বার্তাও তাই স্পষ্ট হওয়া উচিত—

বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু সমমর্যাদায়।

সহযোগিতা চাই, কিন্তু পারস্পরিক স্বার্থে।

সংযোগ চাই, কিন্তু ন্যায্য অর্থনৈতিক সুবিধার ভিত্তিতে।

নিরাপত্তা সহযোগিতা চাই, কিন্তু পারস্পরিক সংবেদনশীলতার স্বীকৃতিতে।

তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানি, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্য বাধা, জ্বালানি সহযোগিতা, নেপাল-ভুটান বিদ্যুৎ করিডর, ট্রানজিট, সমুদ্রবন্দর, বিনিয়োগ, ভিসা এবং জনগণের চলাচলের মতো বিষয়গুলোকে একটি বৃহত্তর Bangladesh–India Strategic Economic Partnership-এর অধীনে নিয়ে আসার সময় এসেছে।

একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা গণমাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কিংবা রাজনৈতিক স্লোগানে নয়—সরাসরি রাষ্ট্রীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু শুধু ইতিহাস দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিচালিত হয় না। ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি, পানি, নিরাপত্তা, connectivity এবং জনগণের পারস্পরিক স্বার্থের মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী যদি দেশের অভ্যন্তরীণ ভারতবিরোধী কিংবা ভারতপন্থী মেরুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে “Bangladesh First—Balanced Diplomacy” অনুসরণ করেন এবং দিল্লিও যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক হিসেবে পুনর্গঠন করে, তাহলে বর্তমান অস্বস্তিই একটি নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের সূচনা করতে পারে।

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে তুলনামূলক ছোট হতে পারে, কিন্তু তার ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব ছোট নয়।

তাই ঢাকার কূটনীতি হওয়া উচিত আত্মবিশ্বাসী—আক্রমণাত্মক নয়; বন্ধুত্বপূর্ণ—নতজানু নয়; ভারসাম্যপূর্ণ—কিন্তু সিদ্ধান্তহীন নয়।

বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু হতে পারে, চীনের অংশীদার হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগী হতে পারে—একই সঙ্গে নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে।

এটাই একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আর সেই দর্শনের মধ্য দিয়েই—

“তোমার সুর, মোদের সুর—সৃষ্টি করুক ঐকতান।”

এই ঐকতান যদি সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শুধু ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের পুনরারম্ভ নয়—দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের একটি আত্মবিশ্বাসী নতুন অবস্থানের সূচনা হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারে।

লেখক পরিচিতি:

মোহাম্মদ আনোয়ার

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক, গবেষক ও কলামিস্ট।

এমএসএম / এমএসএম

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ: সম্প্রীতির নতুন সুরে ঢাকা–দিল্লির ভূ-কৌশলগত সমীকরণ

জ্বালানি-নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

শিক্ষানীতির বড় ঘাটতি হচ্ছে ব্যবস্থাপনা

বেগম খালেদা জিয়া : সাহস, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি

স্মরণে গোলাম সারওয়ার: আদর্শ সাংবাদিকতার এক অনির্বাণ শিখা

বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, বিদ্যুৎ নেই: বাংলাদেশের লোডশেডিং সংকটের আসল কারণ কোথায়?

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশের স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে

সমুদ্রের সম্পদ থেকে শিল্পায়ন: মাতারবাড়ী–মীরসরাই করিডোরে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত

হজ প্যাকেজ ২০২৭: সাশ্রয়ী ও প্রবাসীবান্ধব হজ

রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ উদ্যোগেই দেশ এগিয়ে যায়

তারেক রহমানের নতুন রাজনৈতিক দর্শন: উসকানির জবাবে পেশিশক্তি নয়, ধৈর্য ও শৃঙ্খলা!