জননিরাপত্তার স্বার্থে খানজাহান আলী মাজারসংলগ্ন দিঘির একমাত্র কুমিরটি অপসারণ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার সংলগ্ন দীঘি থেকে অবশেষে সেই একমাত্র কুমিরটিকে অপসারণ করা হয়েছে। দীঘির পাড় থেকে এক শিশুকে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের জরুরি সিদ্ধান্তে আজ বুধবার দুপুরে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সকাল থেকেই সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ এবং খুলনা বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল মাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দীঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মিললে শুরু হয় সেটিকে ধরার চূড়ান্ত অভিযান। পরে দুপুর ১২টার দিকে বিশেষ কৌশলে খাবার দিয়ে কুমিরটিকে আটকে ফেলা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেটিকে সুরক্ষিতভাবে গাড়িতে তুলে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বন বিভাগের টিম।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, "জননিরাপত্তার স্বার্থেই মাজারের দীঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটি খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকবে। পরবর্তীতে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।"
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, মাজারের খাদেম এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, "সাম্প্রতিক ঘটনায় জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীঘির চারপাশের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটি বন বিভাগের হেফাজতেই থাকবে।"
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১ জুন) রাতে মাজারের দীঘির পাড় থেকে ফাতেমা (৮) নামের এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে দীঘিতে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও এই কুমিরটি দীঘির পাড় থেকে একটি কুকুরকে টেনে নিয়েছিল, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়। তখন থেকেই লোকালয়ের একটি উন্মুক্ত দীঘিতে এমন হিংস্র বন্য প্রাণী রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জরুরি সভায় মাজারের খাদেমরা স্পষ্ট জানান, বর্তমানে দীঘিতে টিকে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর আমলের সেই আদি কুমিরের বংশধর নয়।
সভায় মাজার কেন্দ্রিক কুমির বাণিজ্য, তাবিজ বিক্রি ও দর্শনার্থীদের সাধারণ আবেগ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ও ক্ষোভের সাথে তুলে ধরেন অনেকে। বন্য প্রাণীর অজুহাতে মাজার প্রাঙ্গণে যাতে কোনো ধরনের অনৈতিক ব্যবসা বা দর্শনার্থী হয়রানি না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, খুলনা থেকে আসা বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি দল কুমিরটিকে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রাণীটির আচরণ ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
মাদারীপুরে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা নিরসনে মতবিনিময় সভা
রূপগঞ্জে বেড়াতে এসে অপহরণের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী
রাজারহাটে ৩০ বছর পর দখলমুক্ত হলো সরকারি রাস্তা
"বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে সেতু হলে কমবে দূরত্ব, গতি পাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও বাণিজ্য"
কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
গোপালগঞ্জে দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ভূঞাপুরে ডাকাতির চেষ্টা নস্যাৎ: দেশীয় অস্ত্র ও নৌকাসহ ৫ ডাকাতকে পুলিশে দিল জনতা
একটি মহল দেশকে অশান্ত করতে চায়, সতর্ক থাকার আহ্বানঃ ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা, মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন
নিউজ প্রকাশের পরেও বহাল তবিয়তে নওগাঁর ভূমি কর্মকর্তা জিয়া
নানার বাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান