৩৯টি দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের নীতি বাতিল করলেন আদালত
কয়েক মাস আগে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট), গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্ব লাভের আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন, তা বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
গতকাল শুক্রবার দেশটির রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের রাজধানী প্রোভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জন ম্যাককোনেল এক রায়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউ.এস. সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস—ইউএসসিআইসি) কর্তৃক গৃহীত একগুচ্ছ নীতি বাতিল করে দিয়েছেন বিচারক ম্যাককোনেল। কারণ তার মতে, এসব নীতি আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক ডজন দেশের মানুষকে ‘অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার’ মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
রায়ে বিচারক ম্যাককোনেল বলেছেন, যেসব অভিবাসী কংগ্রেস (যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট) এবং ইউএসসিআইসের আইন ও বিধি মেনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে আবেদন করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাদেরকে মাসের পর মাস ধরে অপেক্ষা করতে বাধ্য করছে ইউএসসিআইএস।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ম্যাকাকোনেল ইউএসসিআইসের সমালোচনা করে আরও বলেন, “ইউএসসিআইএস তার আইন ও বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব দ্বারা পরিচালতি হচ্ছে, যা সংস্থাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে। এটি পেশাদার মনোভাবের বিরোধী।”
“যেসব অভিবাসীদের নাগরিকত্বের আবেদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউএসসিআইএস, তাদের বিরুদ্ধে গণ হারে কোনো অপরাধ বা আইনভঙ্গের অভিযোগ নেই। তারা আবেদন করেছে কেবল এই কারণে যে জন্মসূত্রে তারা মার্কিন নাগরিক নয়”, রায়ে বলেন বিচারক।
“আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে এবং এখানে এটা স্পষ্ট, ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ করেনি বা সঠিকভাবে কাজ করেনি।" প্রকৃতপক্ষে, ইউএসসিআইএস সেসব অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছে যা বাস্তবায়ন বা প্রয়োগের দায়িত্ব কংগ্রেস তাকে দিয়েছে, পাশাপাশি সেই প্রশাসনিক আইনগুলোও লঙ্ঘন করেছে যা সংস্থাটির কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে।”
গত মার্চ মাসে আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ ৩৯টি দেশে ভ্রমণের ব্যাপারে পূর্ণ অথবা আংশিক নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এ আদেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এসব দেশের যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছেন, তাদের নাগরিকত্ব, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিনকার্ডের আবেদনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউএসসিআইএস।
ইউএসসিআইসের এ নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট। গতকাল সেই মামলার রায় ঘোষণা করলেন বিচারক ম্যাককোনেল।
মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী ছিল ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড নামের একটি আইন সংস্থার। সংস্থাটির কর্মকর্তা স্কাই পেরিম্যান রয়টার্সকে বলেন, “আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি মৌলিক নীতি ফের আমাদের স্মরণ করিয়ে দিলো। সেই নীতিটি হলো, সরকার বৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করতে পারে না এবং অভিবাসীরা কোন দেশ থেকে এসেছে— তার ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করতে পারে না।”
আদালতের রায়ের পর এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : রয়টার্স
এমএসএম / এমএসএম
কঙ্গোতে দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার ৩০০
পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি সেটেলারদের তাণ্ডব, মসজিদে দিলো আগুন
ভারতে তিন বোন একসঙ্গে বিয়ে করলেন এক যুবককে
ইমামদের গ্রেপ্তার ও কেন ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বুরকিনা ফাসো
কঙ্গোতে দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার ৩০০
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ভারতের
ইয়েমেনের বন্দরে সৌদি আরবের ব্যাপক হামলা, জবাবের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ
নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত
ট্রাম্পের আরও বড় অভিযানের হুমকি, ১৩তম দিনে গড়াল ইরানে হামলা
দিল্লির আন্দোলনের ছোঁয়া, মুম্বাইয়ে সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি