স্বাস্থ্যখাতের অরাজকতা রোধ করা জরুরী
স্বাস্থ্যসেবা একটি দেশের মানবিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে সভ্য ও মানবিক হয়ে ওঠে, যখন তার সাধারণ মানুষ ন্যায্য ও সৎ চিকিৎসাসেবা পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, ঔষধ কোম্পানির অস্বচ্ছ প্রভাব এবং ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রগুলোর অতি-ব্যবসায়িক মানসিকতা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। চিকিৎসা এখন অনেক ক্ষেত্রেই মানবসেবার জায়গা থেকে সরে গিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। আর এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যারা জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু খরচ করেও অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা পায় না।
বর্তমানে প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বারের সামনে দেখা যায় ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়। তারা ডাক্তারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে, বিভিন্ন উপহার দেয়, বিদেশ ভ্রমণের প্রলোভন দেখায়, দামী মোবাইল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র এমনকি নগদ অর্থ পর্যন্ত দেওয়ার অভিযোগও বহুবার উঠেছে। এই উপহারকে অনেকে “প্রমোশন” বললেও বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রেই এক ধরনের ঘুষের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কারণ এর বিনিময়ে ডাক্তারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লেখার প্রত্যাশা করা হয়। ফলে রোগীর প্রয়োজনের চেয়ে কোম্পানির বাণিজ্যিক স্বার্থ অগ্রাধিকার পেতে শুরু করে।
একজন রোগী যখন ডাক্তারের কাছে যান, তখন তিনি বিশ্বাস করেন ডাক্তার তার সর্বোচ্চ জ্ঞান ও সততার জায়গা থেকে সঠিক চিকিৎসা দেবেন। কিন্তু যদি সেই প্রেসক্রিপশনের পেছনে কোম্পানির চাপ, উপহার কিংবা কমিশনের হিসাব কাজ করে, তাহলে সেই আস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। সমাজের জন্য এর চেয়ে ভয়াবহ সংকট আর কিছু হতে পারে না। কারণ মানুষের শেষ ভরসার জায়গা হলো চিকিৎসক। সেই জায়গায় যদি সন্দেহ জন্ম নেয়, তাহলে গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এখন এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছে যেখানে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চেম্বারের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখেন। কোন ডাক্তার কতটি তাদের কোম্পানির ঔষধ লিখছেন, তা প্রতিদিন হিসাব করা হয়। কোনো ডাক্তার কম লিখলে তাকে আবার জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়। এই প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক চাপ চিকিৎসকদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তরুণ চিকিৎসকদের অনেকেই চাকরি বা সুযোগ-সুবিধার আশায় এই অনৈতিক চক্রের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লিখছেন, কারণ চারপাশের বাস্তবতা তাদেরকে ভিন্ন পথে হাঁটার সাহস দিচ্ছে না।
অন্যদিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কমিশনভিত্তিক ব্যবসা আজ চিকিৎসা খাতের আরেকটি বড় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। রোগীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ এখন প্রায় প্রতিদিনের বাস্তবতা। অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামকরা চিকিৎসকদের জন্য দৃষ্টিনন্দন চেম্বার তৈরি করে দেয়, আধুনিক সাজসজ্জা করে, ভাড়া বহন করে, এমনকি গাড়ি বা অন্যান্য সুবিধাও দেয়। বিনিময়ে চিকিৎসক সেই প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠান এবং বিভিন্ন পরীক্ষার কমিশন গ্রহণ করেন, এমন অভিযোগ বহু পুরনো হলেও কার্যকর প্রতিরোধ খুব কমই দেখা গেছে। আবার অনেক সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ঔষধ থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরের দোকান থেকে ঔষধ কিনতে, রোগ নির্ণয়ে বিভিন্ন টেস্ট করাতে বাধ্য করেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে চিকিৎসা হয়ে উঠছে এক ভয়াবহ আর্থিক চাপের নাম। একজন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত রোগী যখন হাসপাতালে যায়, তখন শুধু রোগের যন্ত্রণাই নয়, তাকে লড়তে হয় অর্থনৈতিক দুর্ভোগের সঙ্গেও। একের পর এক পরীক্ষা, ব্যয়বহুল ঔষধ, পুনরায় ভিজিট, অপ্রয়োজনীয় স্ক্যান, সব মিলিয়ে একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেক মানুষ চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন, সঞ্চয় শেষ করেন। অথচ সেই সব পরীক্ষার অনেকগুলোই হয়তো চিকিৎসার জন্য জরুরি ছিল না।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি থাকে। সেখানে কোনো চিকিৎসক যদি কোম্পানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন, তবে তা প্রকাশ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ”ফিজিসিয়ান পেমেন্টস সানশাইন এ্যাক্ট” নামে একটি আইন রয়েছে, যার মাধ্যমে কোন ডাক্তার কোন কোম্পানি থেকে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও চিকিৎসকদের ওপর ওষুধ কোম্পানির প্রভাব কমাতে কঠোর নীতিমালা রয়েছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে, চিকিৎসা খাতে স্বচ্ছতা না থাকলে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ে।
বাংলাদেশে সমস্যাটি আরও গভীর কারণ এখানে নজরদারি দুর্বল, জবাবদিহিতা সীমিত এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা কম। অধিকাংশ রোগী জানেনই না কোন ঔষধের জেনেরিক কী, কোন টেস্ট প্রয়োজনীয় আর কোনটি অপ্রয়োজনীয়। ফলে তারা চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে লাভবান হচ্ছে।
ঔষধ কোম্পানিগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হলো ঔষধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। একই ধরনের ঔষধ বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন দামে বিক্রি করছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের তুলনায় বহু গুণ বেশি দামে ঔষধ বাজারজাত করা হয়। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে সেই ঔষধ কিনছে। কারণ অসুস্থ মানুষ দর কষাকষি করতে পারে না। জীবন বাঁচানোর তাগিদে সে যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকে। এই মানবিক দুর্বলতাকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত অমানবিক। আবার বাজারে ভেজাল ঔষদের ব্যাপক ছড়াছড়ি রয়েছে, একটি চক্র মানুষের জীবন বাঁচানোর ঔষধের পরিবর্তে ভেজাল ঔষধ দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট। অনেক কোম্পানি গুণগত মানের চেয়ে বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় বেশি মনোযোগী। ফলে চিকিৎসককে প্রভাবিত করা, বাজারজাতকরণে অতিরিক্ত ব্যয় করা এবং রোগীর ওপর সেই ব্যয়ের চাপ চাপিয়ে দেওয়া একটি অলিখিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
এ অবস্থার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে জনআস্থার ওপর। এখন অনেক মানুষ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়েও সন্দেহ করেন। কেউ মনে করেন ডাক্তার কমিশনের জন্য টেস্ট দিয়েছেন, কেউ ভাবেন কোম্পানির সুবিধার জন্য ঔষধ লিখেছেন। এই অবিশ্বাস ধীরে ধীরে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ককে দুর্বল করে দিচ্ছে। অথচ চিকিৎসার ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী যদি চিকিৎসকের ওপর আস্থা হারায়, তাহলে চিকিৎসার ফলাফলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও দুঃখজনক হলো, যাদের হাতে এই সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা রয়েছে, তাদের অনেকেই দেশে চিকিৎসা করান না, দেশের বাইরে চিকিৎসা নেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, বিত্তশালী ব্যবসায়ী, অনেকেই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করান। ফলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা তারা নিজেরা অনুভব করেন না। সাধারণ মানুষের কষ্ট তাদের কাছে পরিসংখ্যান হয়ে থাকে মাত্র। যদি নীতিনির্ধারকদেরও দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হতো, তাহলে হয়তো অনেক আগেই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হতো।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন শক্তিশালী নীতিমালা ও কঠোর প্রয়োগ। চিকিৎসকদের জন্য একটি স্বচ্ছ আচরণবিধি তৈরি করতে হবে। কোন ধরনের উপহার গ্রহণ করা যাবে, কোনটি যাবে না, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ঔষধ কোম্পানির সঙ্গে চিকিৎসকদের আর্থিক সম্পর্ক প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। একইসঙ্গে প্রেসক্রিপশন মনিটরিং ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে, যাতে অস্বাভাবিকভাবে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লেখার প্রবণতা শনাক্ত করা যায় এবং নিম্নমানের ঔষধ লেখা থেকে বিরত রাখা যায়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কমিশন বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি। অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিলে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে স্বাধীন মেডিকেল অডিট টিম গঠন করা যেতে পারে, যারা নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রের কার্যক্রম মূল্যায়ন করবে। একইসঙ্গে রোগীদের জন্য অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল স্বচ্ছতা চালু করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ই-প্রেসক্রিপশন চালু করা গেলে কোন ডাক্তার কোন কোম্পানির ঔষধ কত বেশি লিখছেন, তা বিশ্লেষণ করা সহজ হবে। একইসঙ্গে রোগীর মেডিকেল ইতিহাসও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট কমবে এবং চিকিৎসার মান বাড়বে।
চিকিৎসকদেরও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। সমাজে চিকিৎসক পেশার মর্যাদা অত্যন্ত উঁচু। একজন সৎ চিকিৎসক শুধু রোগ সারান না, মানুষের ভরসা হয়ে ওঠেন। ইতিহাসে বহু চিকিৎসক আছেন যারা মানবসেবার জন্য কিংবদন্তি হয়ে আছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামগঞ্জে এখনও অনেক সৎ ডাক্তার আছেন, যারা সামান্য ফি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা দেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকদের নিজেদের ভেতর থেকেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
মেডিকেল শিক্ষায় নৈতিকতা ও মানবিকতার ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ভালো ছাত্র হলেই ভালো ডাক্তার হওয়া যায় না; একজন ভালো মানুষ হওয়াও জরুরি। ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের শেখাতে হবে যে চিকিৎসা একটি মানবিক দায়িত্ব, এটি শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের পেশা নয়।
গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম তুলে ধরতে হবে। মানুষকে জানতে হবে কোন অধিকার তাদের রয়েছে, কীভাবে প্রতারণা থেকে বাঁচতে হবে এবং কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে।
সরকার চাইলে অনেক পরিবর্তন সম্ভব। রাষ্ট্র যদি আন্তরিকভাবে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগবে না। কারণ এখনও এই দেশে অসংখ্য সৎ ও মানবিক চিকিৎসক আছেন, যারা পরিবর্তন চান। প্রয়োজন শুধু সঠিক নেতৃত্ব, কার্যকর আইন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান।
স্বাস্থ্যসেবা কখনোই কেবল ধনী মানুষের জন্য বিলাসিতা হতে পারে না। এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একজন দরিদ্র কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক কিংবা গার্মেন্টস কর্মীর জীবনও সমান মূল্যবান। তারা যেন অর্থের অভাবে বা কমিশনভিত্তিক অনৈতিক চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
স্বাস্থ্যখাতকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এখনই। মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা নয়, দরকার মানবিকতা। চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঘুষ, কমিশন ও কর্পোরেট লোভের কবল থেকে মুক্ত করতে না পারলে ভবিষ্যতে সংকট আরও ভয়াবহ হবে। জনআস্থা একবার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।
তাই এখন প্রয়োজন একটি সম্মিলিত মানবিক আন্দোলন, যেখানে চিকিৎসক, সরকার, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ সবাই একসঙ্গে দাঁড়াবে। কারণ টাকা-পয়সা জীবনের সবকিছু নয়। মানুষের জীবন, বিশ্বাস, মানবিকতা এবং সুস্থ সমাজ, এসবের মূল্য অনেক বেশি। যদি আমরা এখনই সতর্ক না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আর যদি সাহস করে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারি, তাহলে একদিন হয়তো এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠবে যেখানে রোগী হাসপাতালের দরজায় গিয়ে ভয় নয়, ভরসা অনুভব করবে।
লেখক: কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সভাপতি, রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন। মোবাইল:০১৭১১০৩২৪৮৯।
এমএসএম / এমএসএম
স্বাস্থ্যখাতের অরাজকতা রোধ করা জরুরী
অদম্য প্রত্যয়, নিরলস সেবা ও নিবিড় মনিটরিংয়ে অনিন্দ্য হজ ব্যবস্থাপনা
অন্তর্ভুক্তিমূলক সমতাভিত্তিক শিক্ষা : প্রতিবন্ধী শিশুরা কি অন্তর্ভুক্ত
মহাসাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারী: বিপন্ন মানুষের পরম আশ্রয় ও অলৌকিকতার মহাকাব্য
ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ ও উত্তরণের উপায়
অপরাধ আড়ালের মাধ্যম যেন না হয় ’গণমাধ্যম’
বাংলাদেশের টেকসই কৃষি ও গ্রাম উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এবং রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের প্রশ্ন
নিরাপদ ট্রেন ভ্রমন নিশ্চিতে সচেষ্ট জিএম সুবক্তগীন
অসাধু কসাইদের প্রতারণা ও আমাদের অজ্ঞতা: সতেজতার আড়ালে অনিরাপদ মাংস
আত্মত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঈদুল আজহা
পাহাড়ে শান্তির পথপ্রদর্শক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
বিদ্যুৎ বিল কমানো জরুরি , সরকার উদ্যোগ নিবে এটাই সকলের প্রত্যাশা