ঢাকা শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

গ্রীষ্মেই বারহাট্টার প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে বর্ষাদূত কদম ফুল


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬-৬-২০২৬ দুপুর ১:২১

ষড়ঋতুর বাংলায় প্রতিটি ঋতুই কোনো না কোনো ফুলের জন্য বিখ্যাত। এমনই এক ফুল বর্ষার রাণী খ্যাত কদম ফুল। বর্ষার শুরুতে আষাঢ় মাসে ফোটার কথা থাকলেও ফুটেছে জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই। প্রকৃতির নিয়মের ছন্দপতনে বর্ষার আগেই গ্রীষ্মের প্রখর রোদেও বারহাট্টার প্রকৃতিতে গাছে গাছে ফুটতে দেখা গেছে বর্ষাদূত কদম ফুল।

বাংলা কবিতা, গান কিংবা গীতিকাব্যে সমভাবে সমাদৃত হয়েছে কদম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন- 'চামেলি কদম যূথী মুঠি মুঠি ছড়ায়ে/উতল পবন দে অঞ্চল উড়ায়ে।' তেমনি পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের ভাষায়- 'প্রাণ সখিরে...ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে।' নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর 'শ্যামলী নিসর্গ' বইয়ে কদম ফুল নিয়ে বলেছেন, 'কদম আমাদের অনুপম প্রকৃতির আত্মজ। বর্ণে গন্ধে সৌন্দর্যে কদম এ দেশের রূপসী তরুর প্রথমদের অন্যতম।' গীতিকবির কথায়- 'আমি ফুল কদম ডালে ফুটেছিৃ বর্ষাকালে।' অথচ বর্ষার আগমনী বার্তা বহনকারী হিসেবে পরিচিত কদম ফুল আষাঢ় মাসে দেখতে পাওয়ার কথা থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জ্যৈষ্ঠ মাসেই গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কদম ফুল।

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আঁকাবাঁকা পথের ধারে, বসতবাড়ির আশেপাশে, পুকুর ও জলাশয়ের ধারে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ আর সাদার আভায় গ্রীষ্মেই ফুটেছে চোখজুড়ানো বর্ষারাণী কদম ফুল। আবহমানকাল থেকে বর্ষাকালে কদম ফুল ফুটতে দেখা গেলেও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালেই গাছে গাছে ফুটেছে কদম। অসময়ে ফোটা এ ফুলের মন ভোলানো সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ।

উপজেলা সদরের গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাবুর রহমান হানিফের সাথে কথা বললে তিনি সকালের সময়কে বলেন, কদম ফুল মানেই প্রকৃতিতে জানান দেয় বর্ষার আগমনী বার্তা। গাছে গাছে কদম ফুটতে দেখলেই মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে বর্ষার রূপ। তবে গেল কয়েক বছর ধরে প্রকৃতির চিরাচরিত এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। এখন বর্ষাার আগেই গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়েও কদম ফুল ফুটতে দেখা যায়। এখন প্রকৃতিতে বর্ষা আসার আগেই গাছে গাছে কদম ফুটেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কদমসহ দেশীয় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।

কথা হয় বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল-কলেজ) বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে তিনি বলেন, মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য জুড়ে রয়েছে কদমের সুরভীমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা। ভগবত গীতা থেকে শুরু করে লোকগাথা, পল্লীগীতি, রবীন্দ্র কাব্যে পর্যন্ত কদম ফুলের উল্লেখ রয়েছে। ভানুসিংহ, পদাবলী, বৈষ্ণব পদাবলী ও শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে নানাভাবে নানা আঙ্গিকে এসেছে কদম ফুলের কথা। তাছাড়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে জড়িত কদম গাছ। শ্রীকৃষ্ণের লীলা খেলা থেকে শুরু করে রাধাকৃষ্ণের বিচ্ছেদ সব কিছুতেই রয়েছে কদম গাছের উল্লেখ।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতিতে বর্ষা মানেই কদম ফুল। তাইতো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, 'বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।'  ছোটবেলায় বর্ষাকালে কদম ফুল ফুটতে দেখতাম। তবে গেল কয়েক বছর ধরে অসময়ে কদমফুল ফুটতে দেখছি। যদিও অসময়ে ফোটা কদম সময়ে ফোটা কদমের তুলনায় কিছুটা ছোট এবং ক্ষণস্থায়ী। তবে প্রকৃতির এই পরিবর্তনের পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনই অনেকাংশে দায়ী।

বারহাট্টা সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিষয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রভাষক মজিবুল হক জানান, কদম 'Rubiaceae' পরিবারের অন্তর্গত 'Neolamarckia' গণের একটি বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম- 'Anthocephalus indicus' এবং ইংরেজি নাম- 'Burflower tree' যা নীপ নামেও পরিচিত। কদম গাছ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ ফুট লম্বা হয়। প্রস্থ ঊর্ধ্বে ৫ থেকে ৭ ফুট হয়। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, মালয় ও চীনে। এই গাছের পাতা লম্বা, চকচকে উজ্জ্বল সবুজ। শীতকালে এই গাছের পাতা ঝরে গেলেও বসন্ত এলেই এই গাছে পাতা নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। কদম ফুল গোলাকার। ফুলটিকে একটি ফুল মনে হলেও আসলে এটি অসংখ্য ফুলের একটি গুচ্ছ। এর ভেতরে মাংসল পুষ্পাধার রয়েছে, যাতে হলুদ রংয়ের ফানেলের মতো নরম সাদা পাপড়িগুলো আটকে থাকে। কদম গাছের ফল বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য। এরাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় এই গাছের বংশবিস্তারে সাহায্য করে থাকে।

তিনি বলেন, ভেষজ ঔষধিগুণে ভরা কদম পাতা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। এর ব্যবহারে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ব্যথানাশক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কদমের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পায়ের তালু জ্বলা, ব্রণসৃষ্ট ক্ষত ও গ্রন্থিস্ফীতি রোগে এর ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। এ ছাড়া কদম ফুল সেদ্ধ করা পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক বলেন, কদম ফুল বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কদমগাছে শাখায় শাখায় এখন ফুলের সমাবেশ। অথচ বর্ষা আসতে আরও কিছুদিন বাকি। ঋতুর চক্রে এখনো ঝরঝর বাদলের সময় আসেনি। তবু বাদলের সঙ্গে এরই মধ্যে অনেকবার দেখা হয়ে গেছে। বর্ষা যে আসছে- 'বাদল–দিনের প্রথম কদম ফুল' ফুটবে। সেই কদমগাছ এই গ্রীষ্মে, জ্যৈষ্ঠেই ডালে ডালে, শাখা-প্রশাখায় ফুল ফুটিয়ে জানান দিচ্ছে- আমি এসে গেছি।'

এমএসএম / এমএসএম

দুমকিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

নবনিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা

কাউনিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, তিনজন কারাগারে

চুরির অপবাদে স্ত্রী-সন্তানের সামনে মারধর: ওসিসহ স্থানীয় সরকারকে আদালতের তদন্ত ও ব্যবস্থার নির্দেশ

দুমকিতে র‍্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ যুব আন্দোলনের নেতা আটক

সাভা‌রে আল মুস‌লিম গ্রু‌পের সহস্রাধিক শ্রমিককে বিনা নো‌টি‌শে ছাটাই, শ্রমিকরা রাস্তায়

সলঙ্গায় দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ যুবক আটক

সাভা‌রে ডেঙ্গু প্রতি‌রো‌ধে জনস‌চেতনতামূলক র‌্যালি

শূন্য রেখায় থাকা সেই ১৭জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ; প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি

গ্রামীণ ক্রীড়া-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে কাউনিয়ায় নৌকা বাইচের পুরস্কার বিতরণ

কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত‌্যু

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের গজনী পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

‎কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে ৪টি সফল নরমাল ডেলিভারি