রায়গঞ্জে ‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’ ব্যানার টাঙিয়ে মানবসেবায় শফিকুল, চান মানবিক সহায়তা
দোকানের সামনে টাঙানো একটি ব্যানার সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে। সেখানে লেখা—‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’। ব্যানারটি দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান, জানতে চান এর পেছনের গল্প। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি শুধু একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আর্থিক সংকটের কথা নয়; বরং সংগ্রাম, মানবিকতা ও সমাজসেবার এক অনন্য উদাহরণ।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভুইয়াগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শরবতের ব্যবসা করেন মো. শফিকুল ইসলাম। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিজের কোনো পুঁজি না থাকায় উচ্চ সুদে টাকা ধার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭০ টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়। এতে সংসার চালানো এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুটোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে নিজের কষ্টের মধ্যেও মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেননি শফিকুল। প্রতিদিন দোকানে আসা পথচারী, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে শরবতের ব্যবস্থা করেন তিনি। গরমে ক্লান্ত মানুষের হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত তুলে দিতে পারলেই যেন তার মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরবত বিক্রির পাশাপাশি কয়েকজন পথচারীকে বিনামূল্যে শরবত পান করাচ্ছেন শফিকুল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিজের কোনো পুঁজি ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে সুদে টাকা এনে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রতিদিন সুদের টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক সময় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। কেউ শরবত খেয়ে দোয়া করলে মনে হয় কষ্টগুলো সার্থক।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বপ্ন সুদের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে ব্যবসাটাকে আরও বড় করা। যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থা বিনা সুদে কিছু পুঁজি দিয়ে সহযোগিতা করত, তাহলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের সেবা করতে পারতাম।”
শফিকুলের এই কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর একমাত্র ছেলে আরিফুল ইসলাম। তিনি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার ফাঁকে বাবার সঙ্গে দোকানে কাজ করেন এবং শরবত বিতরণে সহায়তা করেন।
আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাবাকে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করতে দেখেছি। সংসারে কষ্ট থাকলেও তিনি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দেন না। মানুষের উপকার করতে পারলেই তিনি খুশি হন। আমি চাই, বাবার স্বপ্ন পূরণ হোক এবং তিনি আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করতে পারেন।”
শুধু মানবসেবাই নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও রয়েছে শফিকুলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুইয়াগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিজ উদ্যোগে প্রায় শতাধিক গাছ রোপণ করেছেন তিনি। নিয়মিত সেসব গাছের পরিচর্যাও করেন। তার এই উদ্যোগে এলাকাটি আরও সবুজ ও ছায়াময় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মো. একরামুল হক ও মো. শাকিল আহমেদ বলেন, “শফিকুল ভাই সুদের ঋণের চাপ নিয়েও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও তিনি পথচারী ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে শরবতের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর মতো সামাজিক কাজও করছেন। তার মতো একজন মানবিক মানুষকে সহযোগিতা করা সমাজের দায়িত্ব। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বিনা সুদে পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে তিনি সুদের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, নিজের কষ্টকে আড়াল করে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর যে চেষ্টা শফিকুল করে চলেছেন, তা সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Aminur / Aminur
সিংড়ায় চলতি বছরে অর্ধ শতাধিক মটর সেচ ও ট্রান্সফরমার চুরি
রাজারহাটে লাল কেঁচো দিয়ে জৈবসার উৎপাদনে সফল উদ্যোক্তা সাজু মন্ডল
নোয়াখালীতে আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ২৫, সুধারাম থানার ওসি ক্লোজড
সুন্দরবনে নতুন আতঙ্ক 'পরগাছা': শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাচ্ছে প্রাণভোমরা সুন্দরী গাছ
ব্যয় বৃদ্ধি রোগে আক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প
লালমনিরহাটে মধ্যরাতে সাংবাদিককে আটক, সকালে মুসলেকায় মুক্তি
চট্টগ্রাম প্রবাসী ক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত: ১১ জুন জাফলংয়ে আনন্দ ভ্রমণ
রাজস্থলীতে মাদকের স্বর্গরাজ্য ধরা ছোয়া বাইরে পাচারকারী জৈনক রাজনৈতিক চক্র সম্রাট প্রভাবশালী
শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
"অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো লুতফরের ঘরে মানবতার আলো জ্বাললেন পলাশ রহমান"
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জামিল পাভেলের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল
রায়গঞ্জে ‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’ ব্যানার টাঙিয়ে মানবসেবায় শফিকুল, চান মানবিক সহায়তা