রায়গঞ্জে গ্রেপ্তার হলেও ফিরছে অপরাধীরা, প্রশ্নের মুখে মাদক নিয়ন্ত্রণ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যকে কেন্দ্র করে একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ, ছুরিকাঘাত, চাঁদাবাজি ও হুমকির মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চান্দাইকোনা, ধানগড়া, ভূইয়াগাঁতী, পাঙ্গাসী ও ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় মাদকসেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় দলবদ্ধ আড্ডা, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করলেও একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেক অপরাধী রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি থানায় অবৈধ তদবির করে গ্রেপ্তারদের ছাড়িয়ে আনেন। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই চক্রের কারণে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, একাধিক অটোরিকশা চালক হত্যা, শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, ছিনতাই ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা, অটোরিকশা ছিনতাই এবং চাঁদা দাবির মতো একাধিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা এসব ঘটনার পেছনে মাদক ও অপরাধচক্রকে দায়ী করছেন।
এদিকে সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাগানে নিয়মিত এক ব্যক্তি মাদক সেবন করত। বাধা দিলে সে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিতে চাইলে পরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দেওয়া হয়। এখন আমি হয়রানির শিকার হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।”
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী জলবায়ু ও পরিবেশ কর্মী ফয়সাল বিশ্বাস জানান, “রায়গঞ্জে মাদক ও কিশোর অপরাধের বিস্তার এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাদকের কারণে কিশোররা অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বড় হুমকি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “মাদক ও কিশোর অপরাধ একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদকবিরোধী কমিটি সক্রিয় রাখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।”
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে। মাদকসেবী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান নয় অপরাধচক্রের পেছনের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে রায়গঞ্জে অপরাধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এমএসএম / এমএসএম
সিংড়ায় আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস
তারাগঞ্জে টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা
পটুয়াখালীতে বিসিপিএস এর সিদ্ধান্ত বাতিল ও ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি উপলক্ষে মহেশখালী হাস্পাতালে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
রাজারহাটে বোরো ধান সংগ্রহে লটারিপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম
পূর্বধলায় মনিহারী দোকানে মাদক কারবার! ২৫৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১
গাইনী রোগের জটিল চিকিৎসায় রায়পুরে ভূয়া ডাক্তার সিনথিয়া কর্তৃপক্ষের অবহেলায় খুলছেন অননুমোদিত ক্লিনিক
নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত বানিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতি নিবন্ধন
গাজীপুরে ট্রাকের গোপন চেম্বার থেকে ৭৫ কেজি গাঁজাসহ ট্রাক জব্দ, আটক ২
রায়গঞ্জে গ্রেপ্তার হলেও ফিরছে অপরাধীরা, প্রশ্নের মুখে মাদক নিয়ন্ত্রণ
পত্নীতলায় মাদক ব্যবসায়ী আটক
চট্টগ্রাম বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণে ‘দালাল বড়ুয়া বাবু’! ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা