গল্প
“ফটিক দাদুর দুর্ভাগ্য” সাঈদুর রহমান লিটন
ফটিক দাদু আবারও দাদির ভয়ে বাড়ি ঢুকতে পারছেন না। বাড়ির রাস্তার সামনে জাম গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দাদি তাকে নোটিশ দিয়েছেন, আজ আর তার ঘরে ফেরা যাবে না। ফটিক দাদুর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফিরতে মাঝে মাঝেই দেরি হয়। দাদুর আজও একটু দেরি হয়েছে।
ফটিক দাদু দাদিকে বাঘের মতো ভয় পান। কারণ ফটিক দাদুর মেয়েদের সাথে আদিখ্যেতা করার একটু বদঅভ্যাস আছে। বিষয়টি দাদির চোখে পড়েছিলো। বাঘ দেখলে মানুষের যেমন থরকম্প লাগে, দাদিকে দেখলেও দাদুর ঠিক তেমনই হয়। দাদু যতই সাবধানে চলতে চান, ততই যেন বিপদে পড়েন।
একদিন দাদু বাথরুমে গিয়েছেন, মোবাইলটা টেবিলের ওপর রেখে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। দুইবার বাজার পর দাদি রিসিভ করলেন। ওপাশ থেকে এক মিহি কন্ঠ ভেসে উঠল, হ্যালো জান, রিসিভ করতে এত দেরি হলো কেন? তুমি ফোন ধরতে দেরি করলে আমার কষ্ট হয়, তুমি জানো না?
এইটুকু শুনেই দাদি আগুন! ফোন রেখে রাগে গজগজ করতে লাগলেন। দাদু বের হতেই বললেন,
—তোমার জান ফোন করেছে, ফোন করো!
দাদু অবাক—জান মানে?
—ফোন করো!
দাদু ফোন করতেই ওপাশ থেকে উত্তর—সরি ভাই, রং নম্বর। ভুলে আপনার নম্বরে চলে গেছে।
দাদু শতবার বোঝালেন—দেখো, এটা ভুল নম্বর।
কিন্তু দাদি কিছুতেই মানেন না। শুরু হলো কান্নাকাটি, রাগারাগি। কয়েকদিন ধরে দাদুর মোবাইল ব্যবহারই বন্ধ!
এই ঝামেলা কাটতে না কাটতেই আরেক কাণ্ড ঘটল। ফটিক দাদু ফরিদপুর থেকে বাইকে ফিরছেন। পথে এক ভদ্রমহিলা লিফট চাইলেন। পরিচিত মানুষ, চারপাশে আর কোনো যানবাহনও নেই। দাদু উপায়ান্তর না দেখে তাকে উঠালেন।
ঠিক তখনই বিধিবাম! দাদি সেই পথেই বোনের বাড়ি যাচ্ছিলেন। দাদুর বাইকে অন্য নারী দেখে দাদি এমন ভাব করলেন যেন চিনতেই পারছেন না। দাদু মধুর স্বরে ডাকলেও না শোনার ভান করলেন।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দাদি চুপ। একদম চুপ। দিন যায়, তবু কথা নেই।
দাদু নানা নামে ডাকেন, জান, সোনা, যাদু, লক্ষ্মী...
তবু রাগ ভাঙে না।
অবশেষে একদিন দাদি ঝাঁঝালো কন্ঠে বললেন—
পথে ঘাটে এইভাবে নষ্টামি করা হয়? নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না!
দাদু আবারো বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হলেন। মুখ বুজে থাকাই নিরাপদ মনে করলেন।
যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়। একদিন দাদি হঠাৎ অফিস ছুটির আগেই হাজির। গিয়ে দেখেন, দাদুর পি.এ. একা রুমে চা দিচ্ছে! ব্যস—আর যায় কোথায়!
—এই জন্যই তোমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়! সব জায়গায় একজন না একজন জোগাড় থাকে!
—সে আমার পি.এ...
—চুপ! আজ আর বাড়ি ঢুকতে পারবেন না। চরিত্রহীন কোথাকার!
দাদি হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। দাদু আবারো জাম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলেন, কখন ডাক আসবে কে জানে| নাকি সারারাত এই গাছেই হেলান দিয়ে কাটাতে হবে?
দাদু, কন্ঠ মধুর করে ডাকতে থাকেন, জানু আমার, ও আমার লক্ষ্মী সোনা।
ঘরের ভিতর থেকে হাঁড়ি পাতিল ভাঙ্গার শব্দ শুনতে পান দাদু। দাদুর বুকের মধ্যে রেলগাড়ি চলছিল।
দাদি বলতে থাকেন, ঘরে ঢোকো আমি তোমার পিণ্ডি খাবো।
দাদির চিৎকার শুনে দাদু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, হে ভগবান, পরের জন্মে বাঘ বানিও, তবু কারো স্বামী বানিও না!
শান্তা / শান্তা
“একটি হত্যার ইতিকথা” সুলেখা আক্তার শান্তা
“ফটিক দাদুর দুর্ভাগ্য” সাঈদুর রহমান লিটন
তুমিহীনা ফারজানা ইয়াসমিন
অন্তর্বাসের আড়ালে স.ম. শামসুল আলম
“দাদি-নাতির দোয়ার ফি” -সুলেখা আক্তার শান্তা
“অলীক বেদনা” -সুলেখা আক্তার শান্তা
“ভালোবাসার রক্তদাগ”-সুলেখা আক্তার শান্তা
ইবনে খালদুনের ‘আল মুকাদ্দিমা’ সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির আকরগ্রন্থ এস ডি সুব্রত
হাহাকার জ. ই. মামুন
রূপান্তর রাত্রি-সুলেখা আক্তার শান্তা
বক্তা রেজাউদ্দিন স্টালিন
নিঃসঙ্গ ভোর -সুলেখা আক্তার শান্তা