ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাসযোগ্য নগর গড়তে ঢাকা’র ওপর চাপ কমান


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ১৩-৬-২০২৬ দুপুর ১:১০

বাংলাদেশের উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং রাষ্ট্রীয় সেবা বিস্তারের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, দেশের প্রায় সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, করপোরেট অফিস, আন্তর্জাতিক সংযোগ, এমনকি সংস্কৃতি ও বিনোদনের বড় অংশও ঢাকাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। ফলে রাজধানী ঢাকা আজ শুধু একটি শহর নয়, বরং পুরো দেশের ওপর এক বিশাল চাপের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ জীবিকার সন্ধানে, চিকিৎসার জন্য, উচ্চশিক্ষা গ্রহণে, মামলা পরিচালনায় কিংবা সরকারি সেবা নিতে ঢাকায় প্রবেশ করছে। এর ফলে ঢাকা যেমন ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে, তেমনি দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আদর্শ ও ভারসাম্যপূর্ণ নগরব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ঢাকার ওপর চাপ কমানো খুব জরুরী। প্রয়োজনে সচিবালয়ের কিছু অংশ, উচ্চ আদালতের বেঞ্চ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এবং বিশেষায়িত সেবার শাখা অফিস বিভাগীয় শহরগুলোতে স্থাপন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তুলে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখলে ঢাকামূখী মানুষের ভীর অনেকটা কমবে বলে আশা করা যায়।
একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন উন্নয়ন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ করেছে। বাংলাদেশেও যদি সত্যিকার অর্থে একটি আধুনিক, মানবিক ও পরিকল্পিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়, তাহলে ঢাকার বিকল্প শক্তিশালী নগরকেন্দ্র তৈরি করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
ঢাকার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বুঝতে বাকি থাকে না, শহরটি তার ধারণক্ষমতার বহু গুণ বেশি চাপ বহন করছে। যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপরাধ বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, সব মিলিয়ে নাগরিক জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। একজন মানুষকে অফিসে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকে রাস্তায়। শিক্ষার্থীকে স্কুলে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। এই বাস্তবতা কেবল নাগরিক দুর্ভোগই নয়, বরং অর্থনৈতিক ক্ষতিরও কারণ। গবেষণা বলছে, ঢাকার যানজটের কারণে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও নানা রোগ। অথচ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা গেলে এই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশের মানুষ ঢাকায় আসে মূলত তিনটি কারণে, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও সরকারি সেবা। একজন মানুষ যদি নিজের বিভাগীয় শহরেই মানসম্মত হাসপাতাল, উচ্চ আদালতের শাখা, উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবা পায়, তাহলে তার ঢাকামুখী হওয়ার প্রয়োজন অনেক কমে যাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার ওপর চাপ কমবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সফল উদাহরণ রয়েছে। মালয়েশিয়া তাদের প্রশাসনিক রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম সরিয়ে পুত্রজায়ায় স্থানান্তর করেছে। এর ফলে কুয়ালালামপুরের ওপর চাপ কমেছে এবং পুত্রজায়া একটি আধুনিক পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া রাজধানী সিউলের ওপর চাপ কমাতে “সেজং সিটি” নামে নতুন প্রশাসনিক শহর গড়ে তুলেছে। সেখানে অনেক মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে সিউলের জনসংখ্যার চাপ ও যানজট কমেছে, পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও উন্নয়ন ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতেও বিকেন্দ্রীকরণের উদাহরণ রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দিল্লিতে হলেও বিভিন্ন হাইকোর্ট বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থিত। এছাড়া অনেক কেন্দ্রীয় দপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, কলকাতাসহ প্রত্যেকটি শহর নিজস্ব অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তি অর্জন করেছে। ফলে পুরো দেশ শুধু দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েনি।
জার্মানির উদাহরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রাজধানী বার্লিন হলেও অর্থনৈতিক শক্তি হামবুর্গ, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে আছে। আদালত, শিল্প, ব্যাংকিং, গবেষণা, সবকিছু এক শহরে কেন্দ্রীভূত নয়। ফলে দেশব্যাপী ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে।
বাংলাদেশেও একই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করা যায়। রাজশাহীকে শিক্ষা ও কৃষি গবেষণার কেন্দ্র, খুলনাকে শিল্প ও পরিবেশ গবেষণার কেন্দ্র, সিলেটকে পর্যটন ও প্রবাসী বিনিয়োগের কেন্দ্র, বরিশালকে নদীবন্দর ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র, রংপুরকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরের নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি হবে।
উচ্চ আদালতের শাখা বিভাগীয় শহরে স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষকে মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় হয়। দরিদ্র মানুষ অনেক সময় ন্যায়বিচার পাওয়ার আগেই অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে। যদি বিভাগীয় শহরগুলোতে আপিল বিভাগ বা উচ্চ আদালতের বেঞ্চ স্থাপন করা যায়, তাহলে মানুষ নিজ অঞ্চলে থেকেই বিচারসেবা পাবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন হাইকোর্ট রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেও বিভাগভিত্তিক উচ্চ আদালতের কার্যক্রম বিস্তৃত করা যেতে পারে।
সচিবালয়ের কিছু কার্যক্রম বিভাগীয় শহরে স্থানান্তর করাও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের মতো বিভাগীয় শহরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিস স্থাপন করে সেবা সহজ করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় প্রশাসন শক্তিশালী হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়বে।
তবে শুধু অফিস স্থানান্তর করলেই হবে না; বিভাগীয় শহরগুলোকে আধুনিক ও বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। উন্নত গণপরিবহন, পরিকল্পিত আবাসন, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র, সবকিছুর সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। নচেৎ মানুষ কাগজে-কলমে অফিস স্থানান্তর হলেও বাস্তবে ঢাকাকেই কেন্দ্র হিসেবে ধরে রাখবে।
চিকিৎসা খাতের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ উন্নত হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকাকেন্দ্রিক। ফলে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা বা সিলেটের একজন জটিল রোগীকে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসতেই হয়। এতে রোগীর পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শুধু চিকিৎসা ব্যয় নয়, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিটি বিভাগীয় শহরে যদি আন্তর্জাতিক মানের বহুমুখী হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়, তাহলে এই সংকট অনেকটাই দূর হবে। সেখানে ক্যানসার, হৃদরোগ, কিডনি, নিউরোসার্জারি, শিশুস্বাস্থ্য, ট্রমা কেয়ারসহ সব ধরনের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ চিকিৎসক, গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। কারণ, হাসপাতাল যদি শুধু ধনীদের জন্য হয়, তাহলে সেটি জনকল্যাণমূলক হবে না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার সফল উদাহরণ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) সাধারণ মানুষকে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা দেয়। কানাডায় সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য বড় সহায়তা। থাইল্যান্ড স্বল্প খরচে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ভারতেও  ”অখিল ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান সংস্থান” মডেলের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।
চট্টগ্রামের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়া সত্ত্বেও এখনও উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক মানুষকে ঢাকায় যেতে হয়। অথচ চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মেডিকেল গবেষণা কেন্দ্র এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা গেলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। একই কথা অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ঢাকার ওপর চাপ কমানোর ফলে যে উপকারগুলো হবে, তা বহুমাত্রিক। প্রথমত, যানজট ও দূষণ কমবে। দ্বিতীয়ত, আবাসন সংকট কিছুটা লাঘব হবে। তৃতীয়ত, সরকারি সেবার গতি বাড়বে। চতুর্থত, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। পঞ্চমত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ষষ্ঠত, মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই উন্নত জীবনযাপন করতে পারবে। এতে পরিবার ও সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী হবে।
এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে উন্নয়ন ছড়িয়ে পড়লে গ্রাম থেকে ঢাকামুখী জনস্রোতও কমবে। কারণ মানুষ সাধারণত সুযোগের সন্ধানেই রাজধানীতে আসে। যদি সেই সুযোগ নিজ অঞ্চলে তৈরি হয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় অভিবাসন কমে যাবে। ফলে রাজধানী এবং গ্রাম, উভয় জায়গায় ভারসাম্য তৈরি হবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি লাভজনক হতে পারে। বর্তমানে ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়নের কারণে জমির দাম, বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অন্যদিকে বিভাগীয় শহরগুলোর অনেক সম্ভাবনা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। সেখানে শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন ও সেবা খাতের উন্নয়ন ঘটলে জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য ক্ষতির দিকও রয়েছে। প্রথমত, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। নতুন অবকাঠামো, অফিস ভবন, আবাসন, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, শুরুতে সমন্বয়হীনতা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা আদালতের কার্যক্রম বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে গেলে যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব থাকলে প্রকল্পগুলো অর্ধসমাপ্ত থেকে যেতে পারে। 
আরেকটি বড় সমস্যা হতে পারে দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন। যদি পরিকল্পনা ছাড়া শুধু ভবন নির্মাণ করা হয়, তাহলে তা কার্যকর উন্নয়ন আনবে না। অতীতে বাংলাদেশের অনেক প্রকল্পেই দেখা গেছে, অবকাঠামো তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় জনবল বা সেবা নিশ্চিত হয়নি। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। তাই বিকেন্দ্রীকরণ শুধু অবকাঠামো নয়, বরং দক্ষ প্রশাসন ও সুশাসনের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
চিকিৎসা খাতে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সের সংকট। শুধু ভবন তৈরি করলেই আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে ওঠে না। প্রয়োজন দক্ষ জনবল, গবেষণা, নৈতিকতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা। অনেক সময় দেখা যায়, বিভাগীয় শহরে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে তা ব্যবহৃত হয় না। তাই চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের বিভাগীয় শহরে কাজ করতে উৎসাহিত করতে হবে। তবে সরকার চাইলে এসব সমস্যা তেমন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। একসাথে সকল বিভাগীয় শহরে সম্ভব না হলে যেকোন একটি শহর থেকে শুরু করা যেতে পারে। আর সেটি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে শুরু হলে আরো ভালো।
এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ডিজিটাল প্রশাসন, অনলাইন শুনানি, ই-ফাইলিং, টেলিমেডিসিন, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকাকেন্দ্রিকতা কমানো সম্ভব। একজন রোগী যদি অনলাইনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পান, অথবা একজন নাগরিক যদি অনলাইনে সরকারি সেবা নিতে পারেন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমবে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নগরনীতি। যেখানে প্রতিটি বিভাগীয় শহরের নিজস্ব ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে। রাজধানী ঢাকাকে শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে রেখে অন্যান্য শহরে অর্থনৈতিক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিভিত্তিক শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এতে শুধু ঢাকার চাপ কমবে না, বরং পুরো দেশই ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের পথে এগোবে।
একটি আদর্শ রাষ্ট্র কখনো এক শহরের কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকে না। বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চল যখন উন্নয়নের অংশীদার হয়, তখনই রাষ্ট্র সত্যিকারের শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ আজ যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে, সেই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে ঢাকার বিকল্প শক্তিশালী নগরকেন্দ্র গড়ে তুলতেই হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে সচিবালয়ের শাখা, উচ্চ আদালতের কার্যক্রম, আধুনিক হাসপাতাল ও উন্নত নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।
যদি এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ঢাকা আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে। যানজট, দূষণ, জনসংখ্যার চাপ ও নাগরিক দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে উন্নয়নের সুফলও ম্লান হয়ে যাবে। অন্যদিকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহের মতো শহরগুলো নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তখন বাংলাদেশ হবে শুধু ঢাকানির্ভর একটি রাষ্ট্র নয়, বরং বহু শক্তিশালী নগরকেন্দ্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক, মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দেশ। তাই দেশ ও দশের স্বার্থে বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়ে এগুতে পারে।

লেখক: কবি, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সভাপতি, রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।

 মোবাইল:০১৭১১০৩২৪৮৯।

এমএসএম / এমএসএম

‎মামলা চলমান, তবুও থামেনি হুমকিঃ জামিনে মুক্ত আসামিদের ভয়ে আতঙ্কে বৃদ্ধ বাদী, নিরাপত্তা চায় পরিবার

কেশবপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আকস্মিক মিছিলের ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে মামলা

দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে মান্দায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শালিখায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ" কর্মসূচির উদ্বোধন

সাতক্ষীরা সদরে চেয়ারম্যান মফিজুলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

পত্নীতলায় নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

আলী নগর স্কুলের মার্কেটে দেয়াল নির্মাণ, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে গ্রামবাসীর হামলা ৩ শতাধিকের বিরুদ্ধে মামলা

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তাকারী এক অভিযুক্ত আটক : সিএমপি কমিশনার

‘ভুয়া চিকিৎসকের’ রমরমা বাণিজ্য: মাত্র ৫০ টাকার ভিজিটে চিকিৎসার নামে প্রতারণা,ভুয়া ডাক্তার ইকবাল কবিরের মুখোশ উন্মোচন

বরগুনার সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি,বস্তি কালু গণপিটুনিতে নিহত

কসবা-আখাউড়াকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা কবীর আহমেদ ভূইয়ার

বাসযোগ্য নগর গড়তে ঢাকা’র ওপর চাপ কমান