হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির ফলাফল হিসেবে আগামী ১৯ জুন শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি ফের খুলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রণালি ব্যবহারের জন্য কোনো দেশকে আর টোল দিতে হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “শুক্রবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাইন অপসারণের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। অপসারণ শেষ হওয়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে হরমুজ। আর একটি কথা, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য কখনও কাউকে আর টোল দিতে হবে না।”
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎকারেও একই কথা বলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে এই প্রণালির ওপর অবরোধ জারি করে ইরান। অবরোধ নিশ্চিতভাবে কার্যকর করতে প্রণালির বিভিন্ন জায়গায় জলমাইন পাতে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টে এই মর্মে আইন পাস হয় যে এই প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না; অন্যান্য যেসব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে, সেসব জাহাজকে অবশ্যই ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং টোল দিতে হবে।
ইরানের এই পদক্ষেপের কারণে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পণ্যের বাজারে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ তেলের সরবরাহ কমে যায় আন্তর্জাতিক বাজারে, ফলে দেশে দেশে দেখা দেয় মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইরানকে অবরোধ তুলতে আহ্বান জানালেও তেহরান তার অবস্থানে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নয়।
এদিকে ইরানে টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র; সেই সঙ্গে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে জারি করে পাল্টা অবরোধ। মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানের বন্দরগুলো থেকে জাহাজ ছেড়ে যাওয়া কিংবা নতুন জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের পক্ষেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পাকিস্তান এবং কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার জেরে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে আসতে রাজি হয় ইরান; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৬০ দিন সময় পাবেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা এবং ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেবে, পেতে রাখা জলমাইনও অপসারণ করবে।
গতকাল রোববার ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সূত্র : সিএনএন, বিবিসি
Aminur / Aminur
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণা ট্রাম্পের
কলকাতায় আগুনে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে
নভেম্বরে কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার অর্ধেকের বেশি তেল যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ-জ্বালানি সহায়তা নিয়ে যা বলল ভারত
তারেক রহমানের ভারত সফরে খুলতে পারে সম্পর্কের ‘নতুন দুয়ার’
ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহ, যুক্তরাজ্যকে কঠোর হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে না: ট্রাম্পের জামাতা
বিশ্বজুড়ে এক বছরে রেকর্ড ৩৫০ দাতব্যকর্মী নিহত
ইরান নিয়ে দ্বিমত: দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ভাটা স্পষ্ট