রাকাব-এসইসিপি'তে কর্মরতদের চাকুরি স্থায়ীকরণের দাবি
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (RAKUB) স্মল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (SECP) এর কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ীকরণ, সার্ভিস রুলে বর্ণিত আর্থিক সুবিধাসমূহ প্রদান সহ নানাবিধ অসচ্ছতা বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাকাব এসইসিপি'র ইউএফও মোহাম্মদ রেজাউল আলম বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রকল্প "রাকাব-স্মল এন্টারপ্রাইজেস ক্রেডিট প্রজেক্ট" (SECP)-এ বর্তমানে আমরা স্থায়ী ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ২ যুগ ধরে কর্মরত। প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর তত্ত্বাবধানে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যে রাজকীয় নরওয়ে সরকারের এককালীন আর্থিক অনুদানে (অফেরতযোগ্য) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জামানত/জামানত বিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বর্ধিত করা হয়। সমাপ্ত প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী আইএমইডি এর মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। প্রকল্পটি ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদে ২০০৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আইএমইডি'র মুল্যায়ন অনুযায়ী সাফল্য দেখে SECP প্রকল্পটিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করার সুপারিশ করা হয়। যদিও ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির অভাবনীয় সাফল্যে প্রকল্প শেষ হবার পর রাকাবের সাথে একীভূত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি রাকাবের সাথে একিভূত না করে রাকাবের একটি সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় প্রকল্পটিকে কোম্পানী গঠনের অনুমোদন দিলেও তা রাকাবের সংবিধান বর্হিভূত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক রাকাবের সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠনের এখতিয়ার নেই মর্মে একাধিকবার (৪ বার) রাকাবের আবেদন নাকোচ করে দেন। এদিকে প্রকল্পের সাফল্যের কথা চিন্তা করে রাকাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের মেয়াদোত্তীর্ণর পরও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা যারা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদেরকে রাজস্ব/ব্যাংকের সাথে আত্মীকরন না করে চাকুরীতে যোগদানের পর থেকে একই গ্রেডে/স্কেলে বেতন প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্প সমাপ্তির পরও রাজস্ব কিংবা মূল প্রতিষ্ঠানের সাথে আত্মীকরণ না করে কোন সরকারি প্রকল্প চলমান থাকা চাকুরী বিধানে পড়ে কি-না বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়। না-কি ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে শুরু হওয়া প্রকল্প বলে আমাদের জীবনে এত বৈষম্য ? এরপরেও প্রকল্পকালীন সময়ে প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আমাদের জন্য বরাদ্দ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ৫% পিএফ থাকলেও তা কখনই দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলা হলে চাকুরী স্থায়ী করা হলে বকেয়াসহ সবকিছু একসাথে দেওয়া হবে বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হতো। সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত প্রনোদণা বা আর্থিক বেনিফিট দেওয়ার কথা থাকলেও আমাদেরকে তা দেওয়া হয়না। আমাদের আনেকেরই সরকারী চাকুরীর বয়স প্রায় অবসরের দ্বার প্রান্তে, আমাদের এখনও পর্যন্ত চাকুরী স্থায়ীকরণ না করায় পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। অথচ প্রতিবছর আমাদের প্রকল্পের নিজস্ব আয় থেকে আমাদের বেতন ভাতাদি এবং প্রকল্পে রাকাব হতে প্রেষণে বদলীকৃত উর্দ্ধতন প্রায় ডজন খানেক কর্মকর্তার বেতন ভাতাদি, বোনাস, অতিরিক্ত বোনাস, পিএফ, গ্র্যাচুইটি ছাড়াও অন্যান্য বিশেষ ভাতাদি নেওয়ার পরও প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৮-১০ কোটি টাকা আয় করে দেওয়া হয়। অথচ আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আমাদের বিষয়টি অবহিত করা হলেও কেউ কোন কর্নপাত করেনি। তবে আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে-ব্যাংকের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকল্পটি জনবলসহ রাকাবের সাথে আত্মীকরনের জন্য গত ১০ জুলাই ২০২৫ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় কোন সিদ্ধান্ত জানান নাই। পত্র প্রেরণের পর দীর্ঘ প্রায় ১ বছর হয়ে গেলেও রাকাব ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না।
এ অবস্থায় আমাদের দাবী সমূহ:
১। ১০/০৭/২০২৫ তারিখে প্রেরিত পত্রের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসইসিপি প্রকল্প জনবল সহ রাকাবের সাথে আত্মীকরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ২। চাকুরীতে যোগদানের তারিখ হতে চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট ও পিএফ কার্যকর করা ৩। সরকার ঘোষিত ২০২৩ সালে ৫% যা পরবর্তীতে ১০% / ১৫% বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান
৪। সরকারী বিধি মোতাবেক ১০ (দশ) বছর একই গ্রেডে চাকুরী করায় পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে উন্নিত করণ। ৫। রাকাব এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানীর ১৪ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন
৬। সরকারী বিধি মোতাবেক টিএ বিল, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান ৭। প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক পদক্ষেপ গ্রহন করার কথা থাকলেও বর্তমান প্রকল্প পরিচালক দীর্ঘ ৭ (সাত) বছর যাবত কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করে অযোগ্যতার প্রমান দিয়েছেন। বিধায় এই অযোগ্য প্রকল্প পরিচালকের আতিদ্রুত অপসারণ।
তারা বলেন, আমাদের সার্ভিস রুল অনু্যায়ী কাজ করতে হচ্ছে, অফিসিয়াল পানিশমেন্ট গুলোও দেয়া হচ্ছে সার্ভিস রুল অনুযায়ী-ই, তাহলে আমাদের আর্থিক সুবিধাদি কেন সার্ভিস রুল অনুযায়ী দেয়া হচ্ছে না ? কর্তৃপক্ষের এরকম দ্বিচারি আচরণের কারণে
বর্তমানে আমরা কলম বিরতিতে আছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি ব্যাংকের সাথে আত্মীকরন করা হলেও সরকারীভাবে আলাদা করে অতিরিক্ত কোন আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন হবে না কারন প্রকল্পের আয় হতেই কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা নির্বাহ করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএসএম / এমএসএম
রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে : ডা: শফিকুর রহমান
নওগাঁয় এমপি জাহিদুল ইসলাম ধলু’র ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মানের মাল্টি মডেল পদ্ধতি চালু করা হবেঃ রবিউল আলম
দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা ও ‘চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন
তাড়াশে সাবেক ছাত্রনেতা হাসান ইকবাল শহিদের স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
শরণখোলায় ইউএনওর বাসভবন থেকে সাপ উদ্ধার, সুন্দরবনে অবমুক্ত
নাচোলে মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ
ধান সংগ্রহের তথ্য দিতে নারাজ দুই খাদ্য কর্মকর্তা; স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন !
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন শ্যামনগরে মরা কাঁকড়ার দুর্গন্ধে অতষ্টি এলাকাবাসী
গৌরনদীতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ কর্তৃক ৩ বছরের এক শিশু কন্যা ধর্ষিতা
বরুড়া বাজারে যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থার দাবি
জয়পুরহাট পৌরসভার উদ্যোগে ১ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন