ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

বই সংকটে রায়গঞ্জের ‘নৈঃশব্দ্য মহাকাল’ উন্মুক্ত লাইব্রেরি, পাঠক টানছে ধুলো-ময়লা


সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ photo সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ
প্রকাশিত: ২২-৬-২০২৬ দুপুর ৩:৫৪

উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঢুকলেই চোখে পড়ে ছোট্ট একটি উন্মুক্ত পাঠাগার—‘নৈঃশব্দ্য মহাকাল’ উন্মুক্ত লাইব্রেরি। একসময় যেখানে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও বইপ্রেমীদের বসে বই পড়ার দৃশ্য দেখা যেত, এখন সেখানে অনেকটাই নীরবতা। বইয়ের তাকগুলোও যেন হারিয়েছে আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত এই ‘নৈঃশব্দ্য মহাকাল’ উন্মুক্ত লাইব্রেরিটি চালু করা হয়েছিল মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের অবসর সময়কে জ্ঞানচর্চায় কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে।

শুরুতে লাইব্রেরিতে ছিল প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক বই। গল্প, উপন্যাস, সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাসসহ নানা ধরনের বই ছিল পাঠকদের জন্য। তবে বর্তমানে সেখানে বই রয়েছে মাত্র ৬৫টি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়ার পর অনেকেই তা আর ফেরত দেন না। ফলে ধীরে ধীরে কমে গেছে বইয়ের সংখ্যা। নিয়মিত তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

লাইব্রেরিতে বই পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “আগে এখানে অনেক বই ছিল। পড়ার মতো বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যেত। এখন এসে অনেক সময় পছন্দের বই পাওয়া যায় না।”

একজন স্থানীয় বইপ্রেমী বলেন, “নৈঃশব্দ্য মহাকাল লাইব্রেরিটি ছিল খুব সুন্দর একটি উদ্যোগ। কিন্তু বই ফেরত না আসা এবং নতুন বই যোগ না হওয়ায় এর কার্যক্রম ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।”

শুধু বই সংকট নয়, লাইব্রেরির পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। আগের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কমে গেছে। চারপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় অনেক সময় বইপ্রেমী ও সেবাপ্রত্যাশীরা সেখানে বসে বই পড়ার পরিবেশ পান না।

উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী জানান, এমন একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সচল রাখতে হলে নিয়মিত পরিচর্যা, নতুন বই সংযোজন এবং বই নেওয়া-ফেরতের সঠিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি লাইব্রেরি শুধু বইয়ের তাক নয়, এটি জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশের জায়গা। তাই ‘নৈঃশব্দ্য মহাকাল’ উন্মুক্ত লাইব্রেরিকে আবার পাঠকদের উপযোগী করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “উন্মুক্ত লাইব্রেরিটি মানুষের পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। বই কমে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নতুন বই সংযোজন এবং লাইব্রেরির পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বই নিয়ে গেলে তা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত একটি জ্ঞানচর্চার স্থান, তাই এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

এমএসএম / এমএসএম

ধামরাইয়ে বেহাল সড়কের সংস্কার করলেন নাজমুল হাসান অভি

যমুনায় অভিযান: ৫ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ, জরিমানা

লালমনিরহাটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখের বেশি শিশু

গজারিয়ার বালুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা

শান্তিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বিচারপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়াতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আহ্বান বিচারপতি জাফর আহমেদের

বগুড়া জেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওযয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার

কুতুবদিয়ায় সংঘর্ষের মামলায় ‘নির্দোষ’ তিনজনকে আসামী করার অভিযোগ, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষার মধ্যে কোন বৈষম্য থাকবে না- নোয়াখালীতে শিক্ষা মন্ত্রী

মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি

কৃষক বাচ্চুর ‘বীজের জাদুঘর’

রাজশাহীতে ছেলের করা মুগুরের আঘাতে স্কুলশিক্ষক নিহত