কুতুবদিয়ায় অনাহারে ও মানসিক চাপে শিক্ষিকার ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করল পুলিশ
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও তীব্র আর্থিক সংকটের জেরে মায়ের অনুপস্থিতিতে ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। তবে সময়মতো কুতুবদিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে সে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পুরো উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, স্থানীয় ঘিলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে কুতুবদিয়া থানার পাশে নুর আলমের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রতিদিনের মতো দুপুরে দুই ছেলেকে খাইয়ে তিনি তাঁর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া বড় ছেলে নুমীমকে বাসায় রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে বিদ্যালয়ে চলে যান। বিকেলে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ করা। বারবার ডাকাডাকি করেও ছেলের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাত প্রায় ৮টার দিকে কুতুবদিয়া থানায় খবর দেওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজেই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় নুমীমকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশ দ্রুত তাকে নামিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নেছারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল। তবে আর কিছুটা সময় দেরি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হতে পারত।
ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও চরম আর্থিক সংকটের নির্মম বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত প্রায় দুই বছর ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নামের ভুলের কারণে আমার সরকারি বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েও এখনো তা সংশোধন না হওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে। বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে বাজার করে কোনো রকমে সংসার চালাতে হচ্ছে। তার ওপর বকেয়া ভাড়ার জন্য বাড়ির মালিকও বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনবরত চাপ দিচ্ছেন।” শিক্ষিকার বৃদ্ধ পিতা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাহের আক্ষেপ করে বলেন, “আমার মেয়ের বেতন বন্ধ হওয়ার পর থেকে নাতিরা ঠিকমতো খেতে পারে না। বাইরে গেলে ছোটখাটো কিছু খেতে চাইলেও তাদের সেই ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। নির্বাচন অফিসে সব কাগজ জমা দেওয়ার পরও জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন হয়নি। এতে আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং এর প্রভাব সন্তানদের ওপরও পড়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই শিশুর বাবা ওমর ফারুক চৌধুরী চট্টগ্রামে থাকেন। পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে সন্তানদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও ভরণপোষণ খুবই সীমিত। প্রতিবেশীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, শিক্ষিকা প্রায়ই দুই ছেলেকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে তালা দিয়ে বিদ্যালয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ঘরের ভেতর বন্দি ও অবরুদ্ধ থাকার কারণে শিশুরা তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিল। তবে এ বিষয়ে শিক্ষিকা বলেন, “ছেলেদের একা রেখে গেলে তারা বাইরে চলে যায়। তাই তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাইরে তালা দিয়ে যাই, যাতে তারা ঘুম ভেঙে বাইরে বের হয়ে কোনো বিপদে না পড়ে।” এই লোমহর্ষক ঘটনাটি আবারও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার করুণ চিত্রটি সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জটিলতা দ্রুত সমাধান করে অসহায় শিক্ষিকার বেতন চালু করা এবং পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Aminur / Aminur
লাকসামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
রৌমারীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয়, মনপুরায় গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তারাগঞ্জে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় 'ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' পালিত
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী
রায়গঞ্জে শহীদ নজরুলের নামে সড়ক, উদ্বোধন করলেন এমপি আয়নুল হক
খানসামায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন
তাড়াশে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
বিলাইছড়িতে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
আত্রাইয়ে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা
কেশবপুরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অর্থ লুটপাটের অভিযোগ