পাপেট শিল্পের অগ্রদূত মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের গভীর শোক
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও পাপেট শিল্পের অগ্রদূত মুস্তাফা মনোয়ার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
এক শোক বার্তায় জি এম কাদের বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারকে ‘বাংলাদেশের পাপেট ম্যান’ নামে সারা দেশে পরিচিতি এনে দিয়েছিল তাঁর অসাধারণ পাপেট শিল্প। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরগুলোতে পাপেট শো আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তাঁর জনপ্রিয় পাপেট অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’ টানা ১২ বছর সম্প্রচারিত হয়। লোককাহিনি ‘সাত ভাই চম্পা’ অবলম্বনে নির্মিত এই অনুষ্ঠানটি পারুল ও তার সাত ভাইয়ের গল্পের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর সৃজনশীল কাজ দেশের একাধিক প্রজন্মের শৈশবকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
মুস্তাফা মনোয়ারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে জি এম কাদের আরও উল্লেখ করেন, এই মহান গুণী ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন খ্যাতিমান কবি গোলাম মোস্তফার কনিষ্ঠ সন্তান। নারায়ণগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে তিনি সরকারি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট কলেজে চারুকলায় অধ্যয়ন করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
পেশাজীবনে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং জাতীয় গণযোগাযোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশ-বিদেশে তাঁর অনন্য শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অল ইন্ডিয়া ফাইন আর্টস প্রতিযোগিতার পুরস্কার, জয়নুল আবেদিন স্বর্ণপদক এবং ২০০৪ সালে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘একুশে পদক’ লাভ করেন।
পরিশেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এমএসএম / এমএসএম
সৌদিতে নিহত মুফতি নাসরুল্লাহর পরিবারের পাশে এনসিপি, খোঁজ নিলেন নাহিদ
দুই পুলিশ সদস্যকে বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা
‘আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে দেশে প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে’
ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কারের দাবিতে দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা
‘দীনেশ ত্রিবেদীর অবাধে চলাফেরা দেশের প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রতি অবমাননা’
মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে বিএনপি পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত : আবদুস সালাম
সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা সরকার ও বিরোধী উভয় দলের দায়িত্ব: গোলাম পরওয়ার
সৌদিগামী যাত্রী ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নিন
'সারা পৃথিবী যাকে সম্মান করে, তাকে ন্যাক্কারজনকভাবে অপমান করা হয়েছে'
পলাতক ফ্যাসিস্টদের হুংকারে কাজ হবে না, চক্রান্ত ভেস্তে দেবে জনগণ: আমান
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত