ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

নদীভাঙনের তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে শেষ সম্বল , দিশেহারা রসুলপুর চর


মজিবর রহমান, ফুলছড়ি photo মজিবর রহমান, ফুলছড়ি
প্রকাশিত: ৭-৭-২০২৬ দুপুর ৪:৩৯

ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াল ভাঙনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর চরাঞ্চলে আবারও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি আর মানুষের দীর্ঘদিনের গড়া স্বপ্ন। ভাঙনের আতঙ্কে এখন দিশেহারা শত শত পরিবার।
চরের স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বারবার নদীর কাছে হারছি। একসময় নিজের ঘর ছিল, জমি ছিল, সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে বাঁচতাম। এখন শুধু পালানোর গল্প। ঘর বানাই, নদী নিয়ে যায়। আবার বানাই, আবার হারাই—এই জীবন আর কতদিন?”
চোখে পানি মুছতে মুছতে তিনি আরও বলেন, “রাতের ঘুম নেই। কখন যে নদী এসে আমাদের সব শেষ করে দেবে, সেই ভয়েই বেঁচে আছি।”
একই এলাকার বাসিন্দা মালেকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চোখের সামনে আমার ঘরটা নদীতে চলে গেল। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারি না। সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা সাহায্য চাই না, শুধু চাই নদীর ভাঙনটা যেন থামানো হয়। আমরা আর পালাতে চাই না।”
আরেক বাসিন্দা রাজু মিয়া ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর প্রশাসন আসে, দেখে যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমাদের জীবন যেন কাগজের নৌকা, নদী এলেই ভেসে যায়।”
এদিকে চরাঞ্চলের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন সামাজিক সংগঠন বিশ্বাস ফাউন্ডেশন–এর চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান বিশ্বাস তোহা।
তিনি বলেন, “রসুলপুর চর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আমাদের নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। এখনই জরুরি ভিত্তিতে টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। শুধু জিওব্যাগ ফেলা নয়, স্থায়ী বাঁধ, নদীশাসন পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চরবাসীর পাশে সামাজিক সংগঠনগুলো থাকবে, তবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আমরা চাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “রসুলপুর চর এলাকায় ভাঙনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “যেসব এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, সেখানে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
রসুলপুর চর আজ শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়—এটি নদীভাঙনের বিরুদ্ধে মানুষের শেষ লড়াইয়ের প্রতীক। প্রতিটি ঢেউ যেন এখানে ভেঙে দিচ্ছে একটি করে পরিবার, একটি করে স্বপ্ন। স্থানীয়দের একটাই দাবি—এই লড়াই যেন আর বারবার পরাজয়ে শেষ না হয়।

এমএসএম / এমএসএম

দর্শনা কেরুতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

গোপালগঞ্জে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

চুয়েট'র ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. আবু সাদাত সায়েম

ভেসে আসা সেই দুই শ্রীলঙ্কান জেলেকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত

জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রশক্তির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল

বারুর আলী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসেবার ব্যতিক্রমী আয়োজন

মুদাফফরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমের ইন্তেকাল

শেরপুরে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

জাতীয় পর্যায়ে জুডো-কারাতে চ্যাম্পিয়ন ছালুয়া ফজলে রাব্বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (জাহিন)

মেঘনা দখল করে দুই হোটেল, অনুমতি ছাড়াই চলছে ‘জলবিলাস’

হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, ৬ মাসের গর্ভের জমজ দুই সন্তানের মৃত্যু

এমপি রাশেদা বেগম হীরার দেবিদ্বার সফর ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি সভা, তৃণমূলের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

টুঙ্গিপাড়ায় নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক