নদীভাঙনের তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে শেষ সম্বল , দিশেহারা রসুলপুর চর
ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াল ভাঙনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর চরাঞ্চলে আবারও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি আর মানুষের দীর্ঘদিনের গড়া স্বপ্ন। ভাঙনের আতঙ্কে এখন দিশেহারা শত শত পরিবার।
চরের স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বারবার নদীর কাছে হারছি। একসময় নিজের ঘর ছিল, জমি ছিল, সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে বাঁচতাম। এখন শুধু পালানোর গল্প। ঘর বানাই, নদী নিয়ে যায়। আবার বানাই, আবার হারাই—এই জীবন আর কতদিন?”
চোখে পানি মুছতে মুছতে তিনি আরও বলেন, “রাতের ঘুম নেই। কখন যে নদী এসে আমাদের সব শেষ করে দেবে, সেই ভয়েই বেঁচে আছি।”
একই এলাকার বাসিন্দা মালেকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চোখের সামনে আমার ঘরটা নদীতে চলে গেল। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারি না। সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা সাহায্য চাই না, শুধু চাই নদীর ভাঙনটা যেন থামানো হয়। আমরা আর পালাতে চাই না।”
আরেক বাসিন্দা রাজু মিয়া ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর প্রশাসন আসে, দেখে যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমাদের জীবন যেন কাগজের নৌকা, নদী এলেই ভেসে যায়।”
এদিকে চরাঞ্চলের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন সামাজিক সংগঠন বিশ্বাস ফাউন্ডেশন–এর চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান বিশ্বাস তোহা।
তিনি বলেন, “রসুলপুর চর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আমাদের নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। এখনই জরুরি ভিত্তিতে টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। শুধু জিওব্যাগ ফেলা নয়, স্থায়ী বাঁধ, নদীশাসন পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চরবাসীর পাশে সামাজিক সংগঠনগুলো থাকবে, তবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আমরা চাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “রসুলপুর চর এলাকায় ভাঙনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “যেসব এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, সেখানে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
রসুলপুর চর আজ শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়—এটি নদীভাঙনের বিরুদ্ধে মানুষের শেষ লড়াইয়ের প্রতীক। প্রতিটি ঢেউ যেন এখানে ভেঙে দিচ্ছে একটি করে পরিবার, একটি করে স্বপ্ন। স্থানীয়দের একটাই দাবি—এই লড়াই যেন আর বারবার পরাজয়ে শেষ না হয়।
এমএসএম / এমএসএম
অবশেষে তিস্তার পেটে নিচিহ্ন হল ভোরের পাখি প্রাথমিক স্কুলটি৷
পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙন: দেড়শ পরিবার নিঃস্ব, রাস্তায় ২০টি ঘর
ক্ষেতলালে সন্তান নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গৃহবধূর অবস্থান
বাঘার চকরাজাপুরে ভয়াবহ বন্যা: ইউনিয়নের ৮০% বাড়ি পানিবন্দি
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তি রূপান্তরে বাকলজোড়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান-ফারুক আকন্দ
দেবোত্তর সম্পত্তি দখল: তানোরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধনে উত্তাল শিবরামপুর
নেত্রকোণায় প্রেমের বিয়ে না-কি অপহরণ? নিকাহনামা স্বাক্ষর অনুযায়ী তরুণীর সম্মতিতেই বিয়ে
বাগেরহাটে কৃষি ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকদের সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
অনিশ্চয়তায় হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ: মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি
বিমানবন্দর এলাকায় সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার বিপুল মালামাল
পেকুয়ায় পুলিশের অভিযান, ইয়াবা-টাকাসহ আটক ২
ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে নগদ টাকাসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার