ঢাকা বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

রোগ সারাতে এসে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বেহাল রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ photo সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ
প্রকাশিত: ৮-৭-২০২৬ দুপুর ৩:২২

মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। অথচ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, অপরিষ্কার ড্রেন, দুর্গন্ধ, ব্যবহার অনুপযোগী গণশৌচাগার এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে তাদের।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ভবনের চারপাশে ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের উচ্ছিষ্ট, ঔষধের খালি প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য দিনের পর দিন পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় এসব স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কক্ষ পরিদর্শনে দেখা গেছে, রোগীদের ব্যবহৃত ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে অপসারণ না করে অনেক ক্ষেত্রে কক্ষের একপাশে জমিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

হাসপাতাল চত্বরে নির্মিত ভবনের পাশের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ড্রেনে জমে থাকা আবর্জনা ও স্থির পানিতে পোকামাকড়ের বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে ফেলে রাখা ডাবের খোসায় পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

এদিকে হাসপাতালের গণশৌচাগারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। শৌচাগারের ভেতরে ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় দুর্গন্ধে সেখানে প্রবেশ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পরিচ্ছন্নতার অভাবে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় নোংরা পরিবেশ দেখে। হাসপাতালের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে, ড্রেনগুলো অপরিষ্কার, শৌচাগার ব্যবহার করা যায় না। ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন বর্জ্যে পানি জমে মশার প্রজনন হচ্ছে। একটি হাসপাতালের পরিবেশ যদি এমন হয়, তাহলে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা চাই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করে রোগী ও স্বজনদের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করুক।”

একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালে ঢুকেই মনে হয় যেন চিকিৎসাকেন্দ্রে নয়, ময়লার ভাগাড়ে এসেছি। চারদিকে দুর্গন্ধ, ভবনের পাশে বর্জ্যের স্তূপ, অপরিষ্কার ড্রেন আর ব্যবহার অনুপযোগী শৌচাগার—এটাই এখন রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তব চিত্র। রোগীরা এখানে সুস্থ হতে আসেন, কিন্তু এমন পরিবেশে নতুন করে সংক্রমণের ভয় নিয়েই থাকতে হয়।”

হাসপাতালে ভর্তি থাকা উপজেলার তেঘুরি এলাকার ষাটোর্ধ্ব আব্দুল বারিক এবং দাঙ্গলমুড়া এলাকার ৮৩ বছর বয়সী হযরত আলী বলেন, “আমরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। নির্ধারিত গামলায় পানি ও ময়লা রেখেছি। এখন আমাদেরই বলা হচ্ছে এগুলো অন্য জায়গায় নিয়ে ফেলতে। চিকিৎসা নিতে এসে অসুস্থ অবস্থায় যদি রোগীকেই নিজের ময়লা পরিষ্কার করতে হয়, তাহলে যাদের দায়িত্ব তারা কী করছেন? আমরা এ অনিয়মের বিচার চাই।”

স্থানীয় পরিবেশকর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতাল এমন একটি জায়গা, যেখানে পরিচ্ছন্নতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিবেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চারপাশে ময়লা-আবর্জনা, অপরিষ্কার ড্রেন এবং ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় রোগ নিরাময়ের এই স্থান থেকেই বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে জীবাণুর বিস্তার এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আ. ফ. ম. মো. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির অন্যতম কারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল চত্বরের ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা এবং গণশৌচাগার ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাসহ পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় রোগ সারাতে এসে রোগী ও তাদের স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

এমএসএম / এমএসএম

সমাজসেবিকা সুফিয়া বেগম সরকারের সহযোগিতা চায়

আইএইচআর (২০০৫) মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

শ্যামনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ পাল্টাপাল্টি দখল ও মামলার অভিযোগ

বিএমইউতে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু, উপাচার্যের পরিদর্শন

কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু

হাঁটু পানিতে নেমে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে মসিক প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৩ মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত

নোয়াখালীতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বসতবাড়ি দখল ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ

‎পাঁচ বছর পর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি: আহ্বায়ক হাবিব, সদস্য সচিব মামুন

পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যার আভাস

মান্দায় মাঠ ভরাটের নামে টিআর প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

রোগ সারাতে এসে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বেহাল রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে চাঁদপুরে কার্গোডুবি, ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল পানিতে