বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় সাড়ে তিন টন সিলডেনাফিল সাইট্রেট (ভায়াগ্রা)-র চালান জব্দ
বেনাপোল স্থলবন্দরে ‘কোয়ার্টজ পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা একটি চালানে বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রার কাঁচামাল (সিলডেনাফিল সাইট্রেট) ও বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী ওষুধের অননুমোদিত কাঁচামাল জব্দ করেছে কাস্টমস। পণ্য চালানটি ল্যাব পরীক্ষায় পণ্যের মধ্যে রয়েছে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট, যা দিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি করা হয়। বন্দরের নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারনে কাস্টমস পণ্য চালান নজরদারির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মেসার্স আরাফাত এন্টারপ্রাইজ ভারত থেকে প্রায় ১৬ টন ‘কোয়ার্টজ পাউডার’ আমদানি করে। যার বি/ই নং-১৯০৪২ তারিখ:১৫/০৩/২৬ইং। পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের হায়দার অ্যান্ড সন্স নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, আমদানিকৃত পণ্য চালানটি প্রবেশের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রাথমিক জব্দ করা হয় এবং ৭টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে রেজাল্ট নেগেটিভ হয়। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গোডাউন থেকে সরাসরি নমুনা নিয়ে খুলনার বিএসটিআই-এর পরীক্ষাগারে পাঠালে সেখানে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট পাওয়া যায়। অথচ শুল্ক গোয়েন্দার ৭টি নমুনায় কোন সিলডেনাফিল সাইট্রেট পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, এই পণ্য চালানের সাথে একটি শক্তিশালি চক্রের হাত রয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দার দেওয়া নমুনাতে তারা কারসাজি করে পরীক্ষাগারে পাঠায়। এদিকে কাস্টমসের নমুনা পরীক্ষায় তিন হাজার ৬৭৫ কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট পাওয়াতে পণ্য চালানটি জব্দ করা হয়।
জানা যায়, জব্দ করা ভায়গ্রার পণ্য চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রয়েছে। এ চালানে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামাল (সিলডেনাফিল সাইট্রেট), ৮ হাজার ২০০ কেজি কোয়ার্টজ পাউডার, ১২০ কেজি ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট, ৪৯৫ কেজি এটোরিকক্সিব, ১৮০ কেজি হাইড্রোকুইনোন, ২ হাজার ১৫০ কেজি ওমিপ্রাজল/এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট, ৪০ কেজি মন্টেলুকাস্ট সোডিয়াম, ১০০ কেজি রিবোফ্লাভিন সোডিয়াম ফসফেট, ২৫ কেজি ডমপেরিডন/প্যারাসিটামল, ৩৫০ কেজি সেফট্রিয়াক্সন সোডিয়াম, ১০০ কেজি ক্যাফেইন এবং ৫০ কেজি স্যালিসিলিক অ্যাসিড রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, একটি চক্র কাস্টমসের নজর এড়িয়ে ৩২ নম্বর শেড থেকে চালানটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শেডে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাত এর নিরাপত্তাকর্মী এবং বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বন্দরের আরেকটি শেডে দীর্ঘদিন ধরে ভায়াগ্রা সন্দেহে জব্দ থাকা চালানেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, অত্যাধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্র মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্রের যোগসাজশে বিভিন্ন সময় পণ্যগার থেকে অবৈধভাবে পণ্য বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এটি বেনাপোল বন্দরে ভায়াগ্রা জব্দের প্রথম ঘটনা নয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি পাউডারজাত রাসায়নিক আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল শাহিনিং শিপিং সার্ভিসেজ। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর সেটিও ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই চালানটি এখনও বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রয়েছে।
উচ্চমূল্যের এ চালানটি অবৈধভাবে বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট পণ্যগারে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কাস্টমসের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব গোয়েন্দা সদস্যদের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক এ নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গেল প্রায় সাত মাস ধরে বেনাপোল স্থলবন্দরের রাসানিক পরীক্ষণ ল্যাব বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন রাসায়নিক দ্রব্য পরীক্ষার জন্য খুলনার বিএসটিআইতে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে বন্দরে রাসায়নিক পণ্য খালাশে বিলম্ব হচ্ছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মহাসিন মিলন বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আনা ভায়াগ্রা দেশের বাজারে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন কাস্টমস ও দেশের আইনে বিচার হওয়া উচিত। একই সাথে পণ্যর সাথে জড়িত সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, কাস্টমসের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জব্দকৃত চালানগুলোর নিরাপত্তায় আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।
এমএসএম / এমএসএম
অনলাইনে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের সতর্ক করল চাঁদপুরের অংশীজনরা
ব্রহ্মপুত্রের চরে তালাবদ্ধ সরকারি স্কুল, ক্ষোভে ক্লাসরুমের তালা ভাঙার চেষ্টা শিশুদের
কুমিল্লায় প্রাডো গাড়িতে ৩ লাখ ইয়াবা, আটক ২
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ৪ শত পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
ধামইরহাটে বাল্যবিবাহ শিশুশ্রম ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝড়েপড়া রোধে সাংবাদিকদের নিয়ে আলোচনা সভা
শিলক খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দুটি ষাঁড় গরু আকস্মিক মৃত্যু
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের পাশে ইউএনও (অ.দা) নাহিদ আহমেদ, দিলেন মশারি
কালিয়ায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
নাচোলে পানিতে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু
বাবাকে হারিয়ে স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার, দারিদ্র্যে থমকে যেতে পারে শয়নের পথ
ত্রিশালে পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু