৬৮ ও ৬৪ সিটের কোচে বিক্রি ৬০ টিকিট!
রেলের অবিক্রিত আসনের টাকা কার পকেটে?
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবায় নানা ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ বহু পুরোনো হলেও এবার টিকিট বিক্রিতে পুকুর চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৬৮ ও ৬৪ সিটের শোভন শ্রেণির কোচের ৬০টি সিটের টিকিট বিক্রি হলেও বাকি সিটের টিকিটগুলো বিক্রি হয়না আবার সিটও খালী থাকে না। তাহলে প্রশ্ন আসে এসব সিটে কারা ভ্রমণ করেন আর দীর্ঘ ১৫ বছর পরিবহনের কোটি কোটি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? নাকি সবাই যার যার ভাগ নিয়ে না দেখার ভান ধরছেন?
জানা যায়, রেলে যুক্ত ১৯০০, ২০১৭, ২০২১, ৭০১৪, ৭০৫৫, ৭৫১৪, ৮৫০১ ও ৯৩৮৭ নং কোচগুলোর প্রতিটিতে ৬৮টি এবং ৭০০৪, ৭০০৮, ৭০৫৬ ও ৭০৬৩ কোচগুলোতে ৬৪টি করে করে শোভন শ্রেণির সিট রয়েছে। অনলাইনে বিক্রিত সিস্টেম অনুযায়ী প্রতি কোচে ৬০ টি সিট বিক্রি হলেও এসব কোচের অবশিষ্ট ৬৪টি সিটের টিকিট বিক্রি হয় না। প্রতি সিঙ্গেলে ৬৪টি সিট হিসেবে দৈনিক ২বার আসা যাওয়ায় (মোট ৪ বার) দৈনিক অবিক্রিত টিকিটের পরিমান ২৫৬টি। প্রতি সিটের মূল্য ১৫০ টাকা ধরা হলে দৈনিক লুটের টাকার পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার। বছরে ৩০০ দিন ধরে (সরকারি বন্ধ ছাড়া) হিসেব করলে বিগত ১৫ বছরে এই খাত থেকে কমপক্ষে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যেহেতু টিকিট বিক্রি না হলেও এসব সিট কখনো খালি থাকে না নিয়মিত যাত্রী বহন করে এসব সিটে। সেই হিসেবে টিটিই’র মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হলে এই খাত থেকে যাত্রী বহনে গত ১৫ বছরে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা অর্থাৎ বছরে ২ কোটি টাকা আদায় করা যেত। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এই পুরো টাকাটাই হারাচ্ছে রেলওয়ে। যদিও এই হিসাব একটি উদাহরণ মাত্র, তবুও এটি দেখায় যে কয়েকটি আসনের অনিয়মও দীর্ঘমেয়াদে কত বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
রেলওয়ের সাবেক কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, রেল একটি সেবামূলক সরকারি সংস্থা, নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিতে প্রতি বছর ১৫শ কোটি টাকা (কম/বেশি) ভূর্তুকি দেয় সরকার। কতিপয় কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে সরকারের এই বিপুল অর্থ লোকসান দিতে হচ্ছে। দুর্নীতির লাগাম টানতে পারলে ভূর্তুকির পরিমান অনেক কমানো যেত। কোচ সংস্কার, আসন পুনর্বিন্যাস বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে আসন সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন যদি টিকিটিং সফটওয়্যার বা কেন্দ্রীয় ডাটাবেইসে হালনাগাদ না করা হয়, তাহলে একটি প্রশাসনিক ত্রুটি বছরের পর বছর চলতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো, এতদিনেও কেন তা সংশোধন হয়নি? কারা এতে লাভবান হচ্ছে?
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, রেলের টিটিই, স্টুয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারিরা এসব অতিরিক্ত সিটে প্রায়ই যাত্রীদের বসাচ্ছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অবিক্রিত দেখানো আসন বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তি, দালাল চক্র বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়। সূত্র জানায়, রেলের টিকিট কালোবাজারি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। ঈদ, পূজা বা অন্যান্য ছুটির মৌসুমে টিকিট সংকট যখন চরমে পৌঁছে, তখন অতিরিক্ত বা অঘোষিত আসনগুলো অসাধু চক্রের জন্য লাভজনক ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হয়। সরকারি বিক্রয় ব্যবস্থার বাইরে থাকা এসব আসন অনিয়মের সুযোগ আরো বাড়িয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একজন যাত্রী যখন নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে টিকিট কিনতে ব্যর্থ হন, অথচ একই কোচে অতিরিক্ত আসনে অন্য কেউ ভ্রমণ করেন, তখন পুরো ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায়। শুধু তাই নয়, রেলওয়েকে প্রতি বছরই বিপুল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। সেই অবস্থায় রাজস্ব আদায়ের প্রতিটি সম্ভাব্য উৎসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, শুধু এসব অবিক্রিত আসন নয়, টিকিট ছাড়াও বিপুল পরিমান যাত্রী বহন করে থাকে রেল। এসব যাত্রীর কাছ থেকে অর্থও আদায় করছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে সেই অর্থ রাজস্ব খাতে জমা না হয়ে ব্যক্তিগত পকেটে জমা হয়, পরে এসব অর্থের ভাগ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিকট পৌছে দেওয়া হয়। এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ”৬৮ সিট বা ৬৪ সিটের কোচের সংখ্যা খুব কম। এসব কোচ অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহার করা হয়, ফলে কখন, কোন ট্রেনে লাগানো হবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল। তাই এসব সিটের টিকিট অনলাইনে দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি, ট্রেন ছাড়ার পূর্ব মুহুর্তে স্টেশনে টিকিট বিক্রি করা যায় কিনা তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।”
এবিষয়ে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এম আর মনজু বলেন, ”দেশের সরকারি সম্পদ হলো জনগণের সম্পদ। একটি আসনের ভাড়া যত সামান্যই হোক, হাজার হাজার ট্রিপে সেই অর্থই কোটি টাকায় রূপ নেয়। তাই প্রশ্ন উঠছে ৬৮ ও ৬৪ সিটের কোচে যদি ৬০টি টিকিট বিক্রি হয়, বাকি আসনের টাকা কোথায় যায়? তার স্বচ্ছ উত্তর এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। যদিও বিগত সরকারের আমলে কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা রেলে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। কিন্তু সরকার বা কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে যে যেভাবে পারছে সেভাবেই লুটের রাজ্য কায়েম করছে। আজকের টিকিট কেলেঙ্কারি তারই প্রতিফল। রেলওয়ের আধুনিকীকরণ, নতুন কোচ, নতুন রেললাইন, আধুনিক স্টেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হচ্ছে। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যদি ফাঁকফোকর থেকে যায়, তাহলে উন্নয়নের সুফল পূর্ণমাত্রায় পাওয়া সম্ভব হবে না।”
এমএসএম / এমএসএম
মান্দায় পানিবন্দি ২৫০ পরিবারের পাশে 'ডার্মা ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন'
বরগুনায় ৫০ টি দোকান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই
খেলনা গাড়িতে লুকানো ছিল ১২ হাজার ইয়াবা, রায়গঞ্জে বাসযাত্রী গ্রেপ্তার
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর বহরে ইট নিক্ষেপের খবর গুজব, চাকা থেকে ছিটকে আসা টুকরো বলছে পুলিশ
ঘোড়াঘাটে অবহেলায় অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সাড়ে ৫০০ বছরের পুরনো সুরা মসজিদ
নবাবগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন
চন্দনাইশে বিএনপির নেতার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
উশৃঙ্খল যুবকরা এখন বাংলাদেশে আইসা ক্ষমতায় বসেছে- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকের রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা
আত্রাইয়ে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম
রেলের অবিক্রিত আসনের টাকা কার পকেটে?
পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস গ্রেপ্তার