কুতুবদিয়ায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ ভয়াবহ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ
টানা বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এ স্বাস্থ্য সংকট জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ডায়রিয়া, ডেঙ্গু, জন্ডিস, টাইফয়েড এবং বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪৮৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আর জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ভর্তি হয়েছেন আরও ২২২ জন। রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় হাসপাতালের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক গুরুতর রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা অন্যত্র রেফার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূষিত পানি পান ও ব্যবহার করছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, জমে থাকা পানি মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করায় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালু রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, শুধু ওষুধ বিতরণ বা চিকিৎসা সেবা দিয়ে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।
দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে কুতুবদিয়ায় পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এমএসএম / এমএসএম
লাকসামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
রৌমারীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয়, মনপুরায় গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তারাগঞ্জে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় 'ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' পালিত
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী
রায়গঞ্জে শহীদ নজরুলের নামে সড়ক, উদ্বোধন করলেন এমপি আয়নুল হক
খানসামায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন
তাড়াশে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
বিলাইছড়িতে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
আত্রাইয়ে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা
কেশবপুরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অর্থ লুটপাটের অভিযোগ