পাবনা প্রসূতি হাসপাতাল: ‘প্রায়শই একটি ব্যবস্থাপত্র পেয়েই শেষ হয়, আর তেমন কিছুই নয়’
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮০-এর দশকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা ২০ শয্যার এই হাসপাতালটি পাবনার একমাত্র বিশেষাীয়ত প্রসূতি কেন্দ্র। কিন্তু কয়েক দশকের অবহেলার কারণে এটি ন্যূনতম মাতৃস্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে।
রূপা খাতুন তার দ্বিতীয় গর্ভাবস্থায় নিয়মিত প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এসেছিলেন। তিনি শুধু একটি প্রেসক্রিপশন নিয়ে চলে গেলেন।
চার মাসের গর্ভবতী রূপা বলেন, “এখানে আলট্রাসনোগ্রাফি বা প্রয়োাজনীয় পরীক্ষার কোনো সুবিধা নেই।”
বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত প্রেগন্যান্সি চেক-আপের খরচ ৩,০০০ টাকারও বেশি হওয়ায়, এই সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই, যেখানে নামমাত্র খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়।
অন্য একটি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার প্রথম প্রেগন্যান্সির সমাপ্তি ঘটেছিল, কারণ সেই কেন্দ্রটি এই পরিষেবা দিতে পারেনি। এখন তিনি আবারও একই পরিণতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
এদিকে, শহিদুল ইসলাম তার ছয় মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে ভিন্ন একটি কারণে একই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন: তার পরিবার যে সরকারি প্রেগন্যান্সি অ্যালাউন্সের ওপর নির্ভরশীল, সেটির জন্য স্ত্রীকে যোগ্য রাখতে।
সরকার ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নিম্ন-আয়ের পরিবারের (যাদের মাসিক আয় ২,০০০ টাকার কম) যোগ্য গর্ভবতী নারীদের প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভাবস্থায় ২৪ মাস ধরে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে প্রদান করে। এই ভাতা পাওয়ার জন্য তাদের জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে গর্ভধারণের সনদপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
“আমি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানি, কিন্তু তারপরেও ভাতার জন্য আমার স্ত্রীকে এখানে নিয়ে এসেছি,” শহিদুল বলেন।
অপারেশন থিয়েটারটি জানুয়ারি মাস থেকে অব্যবহৃত পড়ে আছে।
হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. উর্মি সাহা বলেন, “এখানে দু’টি সার্জিক্যাল টেবিল আছে, কিন্তু আমাদের অ্যানেস্থেসিয়া মেশিনটি ৪০ বছরের পুরোনো এবং অবিশ্বস্ত। আমাদের একজন অ্যানেস্থেটিস্টও নেই, তাই গত ছয় মাস ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।”
ডা. সাহা জানান, প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন এবং প্রসবোত্তর সেবার পাশাপাশি তাকে একাই সমস্ত বহির্বিভাগের ক্লিনিক সামলাতে হয়।
হাসপাতালটি এখন শুধু স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করে, এবং সেগুলোও চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের মাত্র দু’টি কিট ব্যবহার করে পাঁচটি প্রসব সামলাতে হয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বছরের পর বছর ধরে কোনো নতুন তহবিল বা সরঞ্জাম আসেনি।
হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে এই বছরের মে মাসের মধ্যে ৬৭৭টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে অর্থাৎ মাসে প্রায় ৬১টি যেখানে গত বছরের শেষের দিকে মাত্র ১২টি সিজারিয়ান সেকশন করা হয়েছিল।
দরিভাউডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ আমিনা বেগম বলেন, যদিও পরিষেবাগুলো মূলত বিনামূল্যে দেয়ার কথা, রোগীদের প্রতিটি প্রসবের জন্য ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জামের পেছনে নিজেদের পকেট থেকে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা খরচ করতে হয়।
ফার্মাসিস্ট কামরুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে স্যালাইন, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম বা ওষুধের কোনো সরবরাহ নেই। জ্বালানি বরাদ্দের অভাবে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি অচল হয়ে পড়ে আছে, অন্যদিকে ভবনটি শেষবার ১৯৯২ সালে মেরামত করা হয়েছিল এবং ভারী বর্ষায় এর ওয়ার্ডগুলোতে এখন পানি জমে যায়।
ডাক্তার সাহা বলেন, “আমরা আমাদের কাঠামোগত দুর্বলতা, কর্মী সংকট এবং সরঞ্জামের ঘাটতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।”
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপ-পরিচালক এবিএম শরিফুল হক এই চিত্রটি অস্বীকার করেননি।
তিনি বলেন, “সারা দেশের বেশিরভাগ পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতালের এটাই বাস্তবতা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু তহবিল অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করে।”
শরিফুল হক বলেন, ডাক্তার ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগ, ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম সরবরাহ এবং হাসপাতাল মেরামত ও পুরোনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্য তহবিল চেয়ে অফিসটি নিয়মিতভাবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়; কিন্তু এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি।
এমএসএম / এমএসএম
তারাগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এমপি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা
বিতর্কিত এসআই নেয়ামতের বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর
রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার
কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই
শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম
অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার
শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল
পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ
উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন
মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন