ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

চীনের বাজারে যশোর-খুলনার কুচিয়া, বদলে যাচ্ছে হাজারো মানুষের জীবন


মতিন গাজী, যশোর photo মতিন গাজী, যশোর
প্রকাশিত: ২৭-৭-২০২৬ দুপুর ৪:৩

একসময় স্থানীয় জলাশয়ে সহজলভ্য হলেও অবহেলিত ছিল কুচিয়া। ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও ছিল সীমিত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র পাল্টেছে। বর্তমানে যশোর-খুলনা অঞ্চলে কুচিয়া একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিপণ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি চীনের বাজারেও যাচ্ছে এই জলজ সম্পদ। ফলে কুচিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান, বদলে যাচ্ছে বহু মানুষের জীবন। যশোরের অভয়নগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা কুমার বৈরাগী সেই পরিবর্তনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। একসময় মাছ ও কুচিয়া শিকার করে কোনোরকমে সংসার চালালেও এখন তিনি প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। প্রায় সাত বছর আগে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে কুচিয়া ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও ধৈর্য ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ফলে আজ তিনি স্বাবলম্বী। বর্তমানে অভয়নগর, মণিরামপুর ও চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিকারিদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খুলনা ও ঢাকার পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন কুমার। পরে সেখান থেকে এসব কুচিয়া রপ্তানি হয় চীনে। কুমার জানান, গত বছরে প্রায় ১০ হাজার কেজি কুচিয়া বিক্রি করে খরচ বাদে তিন লাখ টাকারও বেশি লাভ করেছেন। এই আয় দিয়ে তিনি জমি কিনেছেন, পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং ব্যবসাও সম্প্রসারণ করেছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও ছেলে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন কুচিয়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং রেডি-টু-কুক কুচিয়া বাজারজাতের উদ্যোগ নিয়েছেন। কুমারের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদ। সংস্থাটির সহায়তায় তার বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে কুচিয়া সংরক্ষণাগার। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসার পরিধি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিকারিরা জানান, কয়েক বছর আগেও কুচিয়া তেমন মূল্য পেত না। এখন এটি অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। কুচিয়া শিকার ও ব্যবসা করে অনেকে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন, ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন এবং স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে যশোর মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায় , যশোর জেলায় গত বছর ২৮ মেট্রিক টনের বেশি কুচিয়া আহরণ হয়েছে। কুচিয়াভিত্তিক ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে পৃথক বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কুচিয়ার দাম ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। মৌসুম ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে এ দাম কমবেশি হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে কুচিয়া আহরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা গেলে এই খাত থেকে আরও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে যশোর-খুলনা অঞ্চলের এই সম্ভাবনাময় জলজ সম্পদ।

এমএসএম / এমএসএম

ইউএনও থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খাদিজা বেগম

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সস্মেলন ২০২৬ যোগদান করবেন সাংবাদিক ও আন্তজার্তিক মানবাধিকারকর্মী চাইথোয়াইমং মারমা

লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভারকে অপহরণ ও ছিনতাই: ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মির্জাগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

বেতাগীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

সিংড়ায় বই পাঠ ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

ধামইরহাটে হাসপাতালে ছুরিকাঘাতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী খুন

সরিষাবাড়ির সীমান্তবর্তী উপশহরে ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনা, নিহত-১ আহত- ২

পুলিশ সুপার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন পুলিশ অফিস

চীনের বাজারে যশোর-খুলনার কুচিয়া, বদলে যাচ্ছে হাজারো মানুষের জীবন

লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভারকে অপহরণ ও ছিনতাই: ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মহিপুরে মুদি দোকান ব্যবসায়ীর ছেলে ইদ্রিস(২৬) কে হাতুড়ি পেটালেন ইউপি সদস্যসহ সঙ্গবদ্ধ দল

শালিখায় জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত