মোহনগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যেন একসঙ্গে দুটি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুল শূন্যপদ, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন। শিক্ষক নেই, নিরাপদ শ্রেণিকক্ষও নেই-এমন বাস্তবতায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে সংকট। শিক্ষা প্রশাসন চলতি দায়িত্ব আর সাময়িক ব্যবস্থায় বিদ্যালয় সচল রাখার চেষ্টা করলেও শিক্ষক-অভিভাবকরা বলছেন, এতে সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৮৯টি। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৭৫টি পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদই খালি রয়েছে ৪৮টি, আর সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ ২৭টি। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয় কার্যত পরিচালিত হচ্ছে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই।
তবে শিক্ষক সংকটই প্রাথমিক শিক্ষার একমাত্র সমস্যা নয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘ইমার্জেন্সি ইন এডুকেশন’ খাতের চাহিদাপত্র অনুযায়ী, ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যবহার অনুপযোগী। কোথাও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল। অনেক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই শ্রেণি কার্যক্রম চলছে।
প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক ঘাটতিও শিক্ষা কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিচ্ছে। উপজেলা প্রাক-প্রাথমিকসহ সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৭৪টি। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৭টি পদ। আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংকট সবচেয়ে বেশি।
স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের একই সঙ্গে সামলাতে হচ্ছে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি নিয়মিত পাঠদানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পৌরশহরের মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা জানান, তার বিদ্যালয়ে ৫৩২ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। শিক্ষক আছে ১০ জন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য প্রায় অনেকদিন ধরে। পাঠদানের পাশাপাশি অফিসের কাজসহ তাকে সব কিছু সামলাতে হচ্ছে। এতে অনেকটা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনেক পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। বৃষ্টি হলেই স্কুলে ক্লাস করানো যায় না। ছাদ বেয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালু করেছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শ্রেণিকক্ষের সংকট। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিসও ওই ভবনে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হয়। বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ নিতে পারবে।'
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম আল মামুন বলেন , ‘প্রধান শিক্ষক না থাকায় বেড়েছে দাপ্তরিক কাজের চাপ। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এর ফলে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতিও।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু রায়হান খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ৪৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ২৭ জন সহকারী শিক্ষক সংকট আছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিয়োগ প্রদান হলে এই সংকট কেটে যাবে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। পলেস্তার খসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে ও মাথায় না পড়ে। সেজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জিআই তারের নেট স্ক্রু আটকিয়ে দিব। তাহলে পলেস্তার খসে নিচে পড়বে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের ফাটলসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম বলেন, বিষয়টি বিভাগীয় উপ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শূন্যপদ দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করছেন তিনি। আর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পাঠিয়ে থাকে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই সংকট শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি শিক্ষার গুণগত মানের জন্যও বড় হুমকি। মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল বারী আজাদ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রাণ হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এমএসএম / এমএসএম
ধামইরহাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল
কুড়িগ্রামে ৭ম কাব ক্যামপুরি অনুষ্ঠিত
বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণ
গাসিকে নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন: হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স অটোমেশনের সফটওয়্যার চালু
টাঙ্গাইল বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ দুর্নীতির বরপুত্র শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ এর বিরুদ্ধে
ঠাকুরগাঁওয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ভূল্লীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
ভূরুঙ্গামারীতে ‘স্পেস টু লিড’ প্রকল্পের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা
উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরন অনুষ্ঠিত
জামিনে বের হয়ে এসে মাদকব্যবসায়ি ফের গ্রেপ্তার
পাবনায় মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেচ্ছা সরকারি কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাক সংঘর্ষে প্রবাসীসহ নিহত ২