ঢাকা বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে স্কেল কারসাজি করে রাজস্ব ফাঁকি: জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা


সুমন হোসাইন, শার্শা photo সুমন হোসাইন, শার্শা
প্রকাশিত: ৫-৮-২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য ওজন পরিমাপক (স্কেল) কারসাজিতে জড়িত থাকার অপরাধে ওয়্যারহাউজ/ইয়ার্ড সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর মোল্লাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্মারক নং-১৮,১৫,০০০০,০০০,০২০.২৭.০০১৭,২৬.১৫৩ আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই সাথে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা, ২০০৪ এর প্রবিধি ৪০ (ক), (খ) ও (চ) অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলা’, ‘অসদাচরণ’ এবং ‘প্রতারণা’ এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-০৩/২০২৬ ইং।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় ডাব্লু বি-২৫এফ-১৪৩৪ নং গাড়িতে বহনকৃত ঘোষণাবর্হিভূত ৫০ প্যাকেজ পণ্যের ওজন আড়াল করার উদ্দেশ্যে উক্ত গাড়ীটি ওজন না করে বন্দরের ওয়েব্রিজ স্কেল নং-২ এ ভারতীয় পণ্যবাহী ডাব্লু বি-৭৩সি-৮২৬৮ নং গাড়ি ওজন করে ডাব্লু বি-২৫এফ-১৪৩৪ নং গাড়ির অনুকূলে সংরক্ষণ করে চক্রের হোতা ওয়্যারহাউজ/ইয়ার্ড সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর মোল্লা। অপরদিকে, ওয়েব্রিজ স্কেল নং-৪ এ ডাব্লু বি-২৫এফ-১৪৩৪ নং খালি গাড়ির (ওজন-৯৬৭০ কেজি) স্থলে ৬১৪০ কেজি ওজনের একটি খালি গাড়ি (ছোট গাড়ি) ওজন করে বড় গাড়ির ৩৫৩০ কেজি ওজন কমানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোট ৪২৬৭ কেজি পণ্যের ওজন কারচুপি করা হয়।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আমদানি হয়ে আসা পণ্য চালানগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পূর্বে বন্দর স্কেলে ট্রাকসহ পণ্যের গ্রোস ওজন নিশ্চিত করা হয়। পণ্য আনলোড হওয়ার পরে আবার খালি ট্রাক ওজন করে পণ্যের নিট ওজন নিশ্চিত করে ওজন স্লিপ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে কয়েকটি পণ্য চালানে গড়মিল পাওয়াতে বন্দরকে চিঠি দেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।  
বন্দর ও কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল আমদানিকারক রোকেয়া ট্রেডার্স ভারত থেকে ডাব্লু-বি-২৩-এফ-৮১৪২ গাড়িতে আঙ্গুর আমদানি করে যার ম্যানুফেস্ট নাম্বর ৬০১-২০২৬-০০১-০০২৫৮৩৩/০৪, তারিখ: ২৫/০৪/২০২৬ইং। আর এই পণ্য চালনটি ছাড় করণের দায়িত্ব ছিলো বেনাপোলের বহুল আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট উৎস শিপিং লাইন্স। ট্রাকটির ওজন কারসাজিতে ৫৭০ কেজি বেশি দেখানো হয়। খালি ট্রাকটির ওজন ছিলো ১৩হাজার ৩১০ কেজি অথচ কার সাজির মাধ্যমে স্লিপ দেওয়া হয় ১৩ হাজার ৮৮০ কেজি। ফলে ৫৭০ কেজি বেশি দেখানো হয়। 
শুল্ক ফাঁকির হিসাব মতে, এই ট্রাক আগামী ৩ মাসে বন্দরে যে কোন পণ্য চালান নিয়ে মুভমেন্ট করবে সেখানে এই (ওজন কারসাজির) স্লিপ ব্যবহার করা হবে। সে ক্ষেত্রে ৫৭০ কেজিতে আঙ্গুরে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া উচ্চ শুল্ক যুক্ত পণ্য হলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিবে। এর পরপরই ওজন স্কেলে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।   
কস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উঠে আসে বন্দরের ৫ নম্বর ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই সময়ে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন দেখানো হয়েছে। পণ্য তালিকায় ট্রাকটির খালি ওজন ৪ হাজার ৮৮০ কেজি এবং অন্যটিতে ৪ হাজার ৯২০ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে। ২৫ জুন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সে চালানটি আটক করে এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তবে এ বিষয়ে কাস্টমস আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। 
ব্যবসায়ীদের জানান, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য একই শেডের বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে সেগুলো খালাস করে নিয়ে যায়। আর এ কাজে বন্দরের শেড ইনচার্জরা সিঅ্যান্ডএফ সরাসরি জড়িত থাকে। 
অভিযোগ রয়েছে, বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যৌথ কারসাজিতে ওজন স্কেলে (ওজন পরিমাপক যন্ত্র) কারসাজি করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে একটি চক্র। এতে ট্রাক প্রতি ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা রফাদফা করেছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারনে, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থ বছরে  রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি ও বহিস্কার করলেও কাস্টমসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে অভিযুক্ত করেনি কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া শুল্ক ফাঁকির চালান আটক হলেও জড়িত সিঅ্যান্ডএফ-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আর ব্যবস্থা নিলেও খুবই সামান্য। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব কমছে এ বন্দরে। 
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ১৪০টির অধিক পণ্য চালানে ঘাপলা,লোপাট,মিথ্যা ঘোষণা, ওজন স্কেল কারচুপিসহ বন্দরের অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কবলে মুখ থুবড়ে পড়েছে এ বন্দর। কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তাদের নামে মামলা হলেও ধোঁয়াসার ছাদরে ঢাকা পড়েছে।  
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ওজন স্কেল কারসাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁক দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর মোল্লার সাথে আরও হোমড়া চোমরা জড়িত। বিগত ছয় মাস স্কেলে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে জড়িত ব্যাক্তিদের ইতিহাস। 
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বন্দরকেন্দ্রিক এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় রাজস্ব খাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। তাছাড়া জড়িত কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র বরখাস্ত ও মামলা দিলেই হবে না। কারন এসব কাজে অবৈধ আয়ের পরিমান এত বেশি যে চাকরি গেলে তাদের কিছু আসে যায় না। এজন্য তাদের অবৈধ আয়ের অর্থ ও সম্পদ সম্পত্তি খুঁজে বের করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। 
এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর মোল্লার মুঠোফোনে করলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এমএসএম / এমএসএম

বাগেরহাটে গণ অভ্যুত্থান দিবস পালিত

‎কুতুবদিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

Bangla QR ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে নরসিংদীতে সোনালী ব্যাংকের বর্ণাঢ্য র‌্যালি

জুলাই শহীদ হৃদয় ও নজরু‌লের লাশের সন্ধান ও শহীদি স্বীকৃতি দাবিতে গাজীপুরের প্রতিকী কফিন মিছিল

গুরুদাসপুরে পাট ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষক, বিলাঞ্চলে সোনালী আঁশের সুবাস

পানিতে গেল ধানখেত, আগুনে পুড়ে ছাই দুই দোকান, ১২ লাখ টাকার ক্ষতি

বেনাপোল বন্দরে স্কেল কারসাজি করে রাজস্ব ফাঁকি: জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে শিবিরের ‘বিজয়ের দৌড়’

সুবর্ণচরে প্রথমবারের মতো উপজেলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন

সিটি ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত; স্মৃতি পাঠাগার গড়ার ঘোষণা

বরগুনায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে,পাকা ভবন নির্মাণ

ভারী বৃষ্টি-উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে

ছুটির আনন্দে ঘরমুখী মানুষের ঢল, গাজীপুরে মহাসড়কে তীব্র চাপ