ঢাকা শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প–ডুবছে ভবদহ


মতিন গাজী, যশোর photo মতিন গাজী, যশোর
প্রকাশিত: ৭-৮-২০২৬ বিকাল ৫:৪৫
জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি নদী পুনঃখননের প্রকল্প চলছে। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, বর্ষা মৌসুমেই মিলবে এর সুফল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। টানা বর্ষণে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৫০টি গ্রাম। ঘরে ঘরে পানি, ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, মাছের ঘের ও কৃষিজমি। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত বড় প্রকল্পের পরও যদি প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়, তবে এর সুফল কোথায়? চলতি জুলাই মাসে লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টির পর ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নেয়। অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, বারান্দী, দিঘলিয়া, দামুখালী, কপালিয়া ও দত্তগাতীসহ মণিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি। অনেক বাড়ির উঠান পেরিয়ে বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে গবাদিপশু। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় নেই। স্থানীয়দের হিসাবে, শুধু মাছের ঘের ও পুকুর খাতেই প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। ডুমুরতলা গ্রামের শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, “গ্রামের ১৫৫টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ছয়টি বাড়ি ছাড়া সব বাড়ির উঠানে দুই থেকে তিন ফুট পানি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ে।” মণিরামপুর উপজেলার হরিদাশকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপকর মণ্ডল বলেন, “ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।” পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হরিহর, হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি নদীর বড় অংশের খনন শেষ হলেও চলতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে এর কার্যকর প্রভাব দেখা যায়নি। সরেজমিনে ভবদহ স্লুইসগেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গেটের কপাট সচল নয়। চারটি পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। আরও পাঁচটি পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অব্যাহত বৃষ্টিতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, “কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই ৫০টির বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নদী খননে নয়, বিলভিত্তিক টিআরএম বাস্তবায়নে।” চলিশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান বলেন, “২০১৩ সালের পর ভবদহ অঞ্চলে কোনো বিলে টিআরএম চালু হয়নি। নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমেছে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খাল সংস্কার না হওয়া এবং খালের ওপর ত্রুটিপূর্ণ সেতুর কারণে পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।” এদিকে ডুমুরতলা-বেদভিটা, আন্দা-বলারাবাদ, বলারাবাদ ও মশিয়াহাটি-সুন্দলী সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে, যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, “সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী খননের কাজ চলছে। হরি নদীর খর্নিয়া এলাকার সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। স্লুইসগেট খুলে পানি নামানো হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”

এমএসএম / এমএসএম

দৌলতপুরে পুলিশ পরিচয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প–ডুবছে ভবদহ

মগনামার মটকাভাঙ্গা সড়কের বেহাল দশা, সড়ক নয় যেন চাষের জমি

মনপুরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, আটক ৩

রাণীশংকৈলে মডেল মসজিদের উদ্বোধন

বগুড়ায় ৭ শ্রমিকের মৃত্যু : স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল

বগুড়ায় নিহত বেড়ে ৭, স্পিডব্রেকার নির্মাণের আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন স্থানীয়রা

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড, একই পরিবারের দগ্ধ ৩

ট্রেনের ৫ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

আমিও বিশ্বাস করতে চাই তিনি ডিসেম্বরেই আসবেন, আইনের মুখোমুখি হবেন’

কুমিল্লা বার্ডে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপিত

আদমদীঘিতে গৃহবধুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা মামলার আসামী গ্রেফতার

রায়গঞ্জ উপজেলা সদরে টিটিসি স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ- সমাবেশ, ইউএনওকে স্মারকলিপি প্রদান