ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চিকিৎসকের অভাবে ৮ বছরেও চালু হয়নি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র,


সাঈদ ইব্রাহিম (পটুয়াখালী) photo সাঈদ ইব্রাহিম (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ১০-৮-২০২৬ বিকাল ৫:১

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ পানপট্টি এলাকায় প্রায় ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে আট বছর আগে। ভবন, শয্যা, আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবন—সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও শুধুমাত্র চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আজও চালু হয়নি হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজারো মানুষ, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশু, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে দক্ষিণ পানপট্টি এলাকায় প্রায় ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটিতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় শয্যা, আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসকদের আবাসন নির্মাণ করা হলেও মেডিকেল অফিসার, সেবিকা, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়ন হয়নি। বর্তমানে উন্নয়ন খাতের মাত্র একজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে হাসপাতালটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। কোটি টাকার স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য এখনো গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। দক্ষিণ পানপট্টিসহ আশপাশের চরাঞ্চল থেকে সেখানে পৌঁছানো দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। অনেক সময় জরুরি অবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রসূতি মায়েরা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।
হাসপাতালে কর্মরত উন্নয়ন খাতের কর্মী কাজল রেখা বলেন, “বর্তমানে এখানে আমি একাই দায়িত্ব পালন করছি। আগে একজন টেকনিশিয়ান ছিলেন, তবে কিছুদিন আগে তিনিও বদলি হয়ে চলে গেছেন। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো কোনো জনবল নেই।”
অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের হাসপাতালে একজন মেডিকেল অফিসার, সেবিকা, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। এসব পদে নিয়োগের দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, “হাসপাতালের ভবনসহ সব অবকাঠামো আট বছর আগে নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে জটিল রোগীদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।”
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “যথাযথ জনবল না থাকায় এখানে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলাতেই চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। চিকিৎসক পদায়ন হলে দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দক্ষিণ পানপট্টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দ্রুত চিকিৎসক, সেবিকা, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক। এতে করে দক্ষিণ পানপট্টিসহ আশপাশের ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের হাজারো মা ও শিশু সহজেই নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে ছুটতে হবে না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলই নিয়োগ দেওয়া না হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্য কী ছিল?

Aminur / Aminur

ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ‘গডফাদার’ গ্রেপ্তার ২৭ মামলার আসামি

মিরসরাইয়ে হোটেল কক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ, পাশে রক্তাক্ত স্ত্রী

পাবনা ক্যাডেট কলেজে ৫২ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সবাই

নিশাত ডাক্তার হতে চায়

ফরিদগঞ্জে এসএসসিতে পাসের হার ৬৫.৭৯%, জিপিএ-৫ পেল ১১৬ জন, ফলাফলে এগিয়ে এ.আর. পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

বিলাইছড়িতে জিপিএ ৫ পেয়েছে তানজিলা আহাম্মদ বৃষ্টি ; পাসের হার ৩২.৭৬ %

চাঁদপুরে এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে হাইমচর, জিপিএ-৫-এ সদর

মুরাদনগরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

কাপ্তাইয়ে এসএসসির ফলাফলে ধস, পাশের হার ৫১.৮৮%, জিপিএ-৫ পেল ৪৬ জন

এসএসসি-২০২৬, রাজশাহী বোর্ডে পাস ও জিপিএ-৫, দুই সূচকেই বগুড়ার শ্রেষ্ঠত্ব

গাছ লাগানোর মধ্যেই আগামীর সবুজের স্বপ্ন: গাজীপুরে সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কুুড়িগ্রা‌মে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জেলের মৃত্যু, আহত-৫

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চিকিৎসকের অভাবে ৮ বছরেও চালু হয়নি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র,