কাদা-পানির দুর্ভোগ শেষ, স্বস্তির পথে ঠাকুরভোগ
বর্ষা এলেই চারদিকে থইথই পানি। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যেত গ্রামের পথঘাট। স্কুলগামী শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ কিংবা অসুস্থ রোগী—সবার জন্যই ছিল চরম দুর্ভোগ। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের মধ্যেই চলাচল করতে হয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম ঠাকুরভোগের বাসিন্দাদের।
তবে এখন বদলেছে সেই চিত্র। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিশেষ বরাদ্দে ঠাকুরভোগ গ্রামে নির্মিত হয়েছে দুটি সিসি ঢালাই সড়ক। পৃথক বরাদ্দে মোট সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দুই সড়ক বদলে দিয়েছে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা।
এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৬২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সিসি ঢালাই সড়ক। আর দুই দফায় বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রজনীগঞ্জ সড়ক থেকে পূর্বপাড়ার বিলাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি সিসি সড়ক।
দুটি সড়ক নির্মাণের ফলে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। আগে বর্ষাকালে কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হতো তাদের। অনেক সময় পা পিছলে কাদাজলে পড়ে যেত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টির দিনে অনেকেই স্কুলে আসতে চাইত না। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। নতুন সড়ক নির্মাণের পর বদলে গেছে সেই চিত্র।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম তালুকদার ও তানিশা জান্নাত বলে, “আগে কাদা-পানির কারণে স্কুলে আসতে পারতাম না। এখন দৌড়ে স্কুলে আসতে পারি।”ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ চন্দ্র দাসও জানালেন আগের দুর্ভোগের কথা। তিনি বলেন, “আমি যখন এই স্কুলে যোগদান করি, তখন স্কুলে আসার পথে ৫-৬ ফুট জায়গা খুবই কর্দমাক্ত ছিল। জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হতো। এখন রাস্তা সিসি ঢালাই হওয়ায় আমরা জুতা পায়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে স্কুলে আসতে পারি। আগে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিল, এখন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের ওপরে।”
শুধু বিদ্যালয় নয়, ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্বপাড়ার ৮০০ ফুট সড়কটিও স্বস্তি এনেছে স্থানীয়দের জীবনে। রজনীগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া এই সড়ক দিয়ে এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছেন ঠাকুরভোগ ও সাপেরকোনা গ্রামের মানুষ।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বড়। তাদের দাবি, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, শান্তিপুর, টাইলা, দুর্বাকান্দা, দুর্গাপুরসহ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে সরাসরি উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক বাস্তবায়িত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও আসবে নতুন গতি।
দীর্ঘদিনের কাদা-পানির দুর্ভোগ পেরিয়ে দুটি নতুন সড়ক এখন ঠাকুরভোগবাসীর জন্য স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। একসময় যে পথ ছিল দুর্ভোগের, সেই পথই এখন হয়ে উঠেছে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের মাধ্যম।
এমএসএম / এমএসএম
ঝিনাইদহে সার ডিলারশিপ নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি
সুবর্ণচরে ভূয়া চিকিৎসক রাসেলের অপচিকিৎসায় প্রাণ হারাতে বসেছে ১ শিশু
শিবগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড
মধুখালীতে কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভা
কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নিয়োজিত ১ হাজার ৭১ কর্মী
বকশীগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর ঝোপে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
তেঁতুলিয়ায় ১০ কেজির বার্মিজ অজগর উদ্ধার
কামরুজ্জামান সিকদার কামালকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলার আহ্বান
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জেলা বিএনপির মতবিনিময়
রাজারহাটে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত