বিশ্বের আধুনিক শহরের আদলে সাজবে নজরুলের তীর্থভূমি : একনেকে পাসের অপেক্ষায় ২০০ কোটির মেগা প্রকল্প
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলাকে বিশ্বের উন্নত ও আধুনিক শহরের আদলে ‘আধুনিক নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। সরকারের ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এ মাসের শুরুতেই (১ সেপ্টেম্বর) আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এই মেগা প্রকল্প। ইতিমধ্যে উপজেলাজুড়ে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (Feasibility Study) মাঠপর্যায়ের কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বর্তমানে একনেক (ECNEC) সভায় পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৩ মে ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ২ জুলাই সচিবালয়ে নজরুল বর্ষের বিশেষ যৌথ সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালকে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ‘থিম সিটি’ বা ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে রূপান্তর করার জন্য দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেন। গত কয়েক দিনে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা এবং বাজেট তৈরির কাজ শেষ হওয়ায় আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই প্রকল্পের অগ্রগতি বিশদভাবে প্রকাশিত হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ত্রিশাল উপজেলাকে ঢালাওভাবে রূপান্তর না করে পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ল্যান্ড-ইউজ গাইডলাইন’ বা স্থানিক নকশা তৈরি করা হয়েছে। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি দল ত্রিশালের নামাপাড়া, দরিরামপুরসহ কবির বাল্যস্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ত্রিশালকে একটি 'কোর অ্যান্ড নোডাল নেটওয়ার্ক'-এর আওতায় এনে আন্তর্জাতিক নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, দৃষ্টিনন্দন নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র, পর্যটকবান্ধব থিম পার্ক এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক পৌরসভা গঠন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, 'আধুনিক নজরুল সিটি' প্রকল্পের প্রথম ফেইজ বা প্রাথমিক ধাপ বাস্তবায়নে ২০০ কোটি টাকার একটি বাজেট প্রাক্কলন চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবনাটি যাচাই-বাছাই শেষে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আগামী একনেক (ECNEC) সভায় উপস্থাপিত ও পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান: "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজে স্থানীয় প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। নজরুল সিটি বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু ত্রিশালবাসীর জন্য নয়, পুরো বিশ্বের নজরুল গবেষক ও পর্যটকদের জন্য এক অনন্য তীর্থস্থানে পরিণত হবে।"
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন: "ত্রিশালের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কবির স্মৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। 'নজরুল বর্ষে' প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০০ কোটি টাকার এই প্রাথমিক প্রাক্কলন একনেকে পাসের অপেক্ষায় থাকার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই মূল অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শুরু হবে।"
আজ ১ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির অগ্রগতি গণমাধ্যমে আসার পর থেকে ত্রিশালের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহের সামগ্রিক অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এমএসএম / এমএসএম
রৌমারীতে বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী পালিত
সিংড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
বাগেরহাটে এলজিইডি’র প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশ টেন্ডার হওয়া ব্রিজ না করে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন
মুকসুদপুরে আওয়ামীলীগ নেতা খোকন বালার পদত্যাগ
ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
রাণীনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
বরিশালে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
সাতক্ষীরায় ডোবা থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার
উলিপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
বৈরী আবহাওয়ার কারনে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছে মহেশখালীর জেলেরা, চোখে মুখে অনিশ্চয়তার চাপ
ঘিওরে বিএনপির বর্ণাঢ্য প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
তিস্তার ভাঙ্গনে হুমকিতে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের সড়ক