খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা
খুলনা সিটি ২০২৬—২৭ অর্থবছরের ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬—২৭ অর্থবছরে বাজেটের প্রস্তাবিত ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেটে রাজস্ব তহবিলে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই বাজেট ঘোষণা করেন।
এ সময় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭১৯ কোটি ৫০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা সংশোধিত আকারে দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৯৭ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। নিজস্ব তহবিলের অর্জনের হার ৭১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্জনের হার ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত অর্থ বছরের বাজেটের অর্জনের হার ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ।
বর্তমান অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রকল্পগুলো চলমান রাখা হয়েছে। যার জন্য আমি খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ২০২৬—২৭ অর্থবছরে বাজেটের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬০১ কোটি ৭৯ লক্ষ ০৭ হাজার টাকা। তার মধ্যে রাজস্ব তহবিলে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লক্ষ ০৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। অনুরূপভাবে সরকারি অনুদান ২য় অংশে ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। ২০২৪—২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫—২৬ অর্থ বছরে বরাদ্দ কম হওয়ার কারণে খুলনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা উন্নয়নে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়েছে। খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে। উন্নয়ন তহবিল বিশেষ প্রকল্পে ৭৯ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এবারের বাজেটের বিশেষ বৈশিষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বাজেটে নতুন কোন কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নব নির্মিত স্থাপনার উপর প্রচলিত নিয়মে করধার্য, নিজস্ব আয়ের সম্প্রসারণ যেমন মার্কেট, দোকান, নতুন স্থাপনা নির্মাণ, জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণসহ সিটি কর্পোরেশনের পার্কগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এটি একটি উন্নয়নমুখী বাজেট। এ বাজেটে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বাজেটে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের স্থাপনা রক্ষণা—বেক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বাজেটে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নাগরিক জীবন—মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পার্ক, বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও কেসিসির বিভিন্ন দপ্তর আধুনিকায়ন কাজ চলমান রয়েছে।
ডেঙ্গু মোকাবেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, নগরবাসীকে সচেতনকরণসহ মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তাছাড়া নগরীর সকল মসজিদের ইমাম ও বিভিন্ন উপাসনালয়ের পুরোহিতদের ডেঙ্গু মোকাবেলায় ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলা এবং নিজ গৃহ ও আঙ্গিনা পরিষ্কারের বিষয়টি প্রচারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে তা মোকাবেলায় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্থ নাগরিকদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলাসহ স্বল্প আয়ের বসতি এলাকায় রাস্তাঘাট, ড্রেন, কার্লভাট, ল্যাট্রিনসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা এ বাজেটে রয়েছে। একই সাথে নগরীতে প্রায় ৫০ হাজার বৃক্ষ রোপণের কাজ চলমান রয়েছে।
বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত, মাস্টাররোল ও আউটসোসিং কর্মকর্তা কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন ভাতা প্রতি বছরই বাড়ছে, নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নিজস্ব তহবিল হতে উন্নয়ন খাতে ৭৩ কোটি ৩৫ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো তৈরি, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি ও কঞ্জারভেন্সি উন্নয়ন খাতে ৫৫ কোটি ২৬ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১৮ কোটি ৯ লক্ষ টাকা এবং মূলধন খাতে ৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। থোক বরাদ্দ থেকে পূর্ত খাতে ৯২ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা, জরুরি পানি চাহিদা খাতে ২ কোটি টাকা, ভেটেরিনারি খাতে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ২০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং কঞ্জারভেন্সি খাতে ৩৩ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করছি। ২০২৬—২৭ অর্থ বছরে জাতীয় এডিপিতে ৩টি প্রকল্পে ৪৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা চলতি বছরে পাওয়া যাবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা যা জানুয়ারী ২০২১—২২ অর্থবছর থেকে আরম্ভ করে ২০২৬—২৭ অর্থ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে রোড সুইপিং মেশিন, ছোট বড় এস্কেভেটর, আরো অনেক ইকুইপমেন্ট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন করা হচ্ছে। শলুয়ায় আধুনিক কন্ট্রোল ডাম্পিং পয়েন্ট তৈরির কাজ ও কুয়েট রাস্তার কাজ এগিয়ে চলছে। এ ডাম্পিং পয়েন্টের বর্জ্য হতে কম্পোষ্ট সার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী উৎপন্ন হবে। হেলদিসিটি খুলনা আরবান লীড প্রোগ্রাম, ওয়ার্ড হেলথ অরগানাইজেশন প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরে ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সাসটেনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরের বাজেট ৭৯ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বরা রাখা হয়েছে। কোভিড—১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারী প্রকল্পে ২০২৬—২৭অর্থবছরে ১৬ কোটি ৩১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে মার্কেট নির্মাণ ও সংস্কার, রাস্তা, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, মুরদারদের গোসলখানা নির্মাণ, জানাজা চত্বর, ঈদগাহ চত্বর নির্মাণ করার কাজ এগিয়ে চলছে।ইউনিসেফ সাপোর্টেড ক্লাইমেট স্মার্ট প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরে ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। লিভেবল এন্ড ইনক্লুসিভ সিটিস ফর অল প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রিজিওনাল আরবান টিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প প্রকল্পে ২০২৬—২৭ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গঅঈচ প্রকল্প সাপোর্ট ইউনিসেফ:— এই প্রকল্প ২০২৬—২৭ অর্থবছরে ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেখানে ইপিআই ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
নগরবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, খুলনা মহানগরীকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করতে আমাদের আন্তরিকতা এবং প্রচেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। যে কোন উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন অর্থের। অর্থ সংস্থানের জন্য একটি স্ব—শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন শুধুমাত্র সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অবস্থান অনেকটা সুদৃঢ়। তাকে নিজস্ব আয়ের উপর নির্ভর করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা করতে হবে। এটা আজ সময়ের দাবি। এজন্য প্রয়োজন সকল শ্রেণির নাগরিকের পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও সহযোগিতা। কর্পোরেশনের যেমন দায়িত্ব রয়েছে নগরবাসীর নাগরিক স্বাচ্ছন্দের ব্যবস্থা করা, তেমনিভাবে নাগরিকদেরও কর্তব্য রয়েছে কর্পোরেশনের সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করা। তাই আমি আপনাদের মাধ্যমে কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিয়মিত কর পরিশোধসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানাই।
এসময় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬—২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট সুধীজন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও কেসিসি'র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা—কর্মচারী ও নাগরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Aminur / Aminur
ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা
জামাত-বিএনপি দুই ভাইয়ের ক্ষমতার দাপটে সিআরবিসিতে বৃদ্ধের দোকান ভাঙচুর
নড়াইলে সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত
কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট হওয়ার অভিযোগ
ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী জামিনে বেড়িয়ে এসে বাদীকে হত্যা চেষ্টা
কুড়িগ্রামে পুকুরে ডুবে খালাতো ভাইবোনের মৃত্যু
পেকুয়ায় দুই দফা হামলার পর বৃদ্ধের মৃত্যু
শালিখায় বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
অভয়নগরে বাগান থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
কোনাবাড়িতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মনপুরার ফকির হাটে নিষিদ্ধ ইয়াবাসহ এক ব্যবসায়ী আটক