গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠে সারের হাহাকার: সরবরাহ শৃঙ্খলে গলদ ও চাহিদার গরমিল
জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করা হলেও চলতি আমন মৌসুমে মাঠপর্যায়ে তীব্র সারসংকটের চিত্র ফুটে উঠছে। সরকারি হিসাবে বর্তমানে গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত রয়েছে এবং পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন। তবে কাগজে-কলমে এই পর্যাপ্ত মজুতের বিপরীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।
সম্প্রতি ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে কৃষকরা গাছের গুঁড়ি ফেলে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। এর আগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কৃষকেরা। ভোরে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের, যা সরবরাহ ব্যবস্থার প্রান্তিক পর্যায়ে মারাত্মক সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলাকে স্পষ্ট করছে।
সরকারি তথ্য পর্যালোচনায় চাহিদার পরিসংখ্যানেও বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে প্রধান রাসায়নিক সারের মোট চাহিদা ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৯ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে চলতি বছরের জন্য কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া মোট বার্ষিক চাহিদা নেমে এসেছে ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে। আবাদি জমির পরিমাণ না কমলেও চাহিদা প্রায় ১৯ লাখ টন কম নির্ধারণের ভিত্তি নিয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাস্তব চাহিদার তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা কম ধরা হলে কাগজে মজুত দেখালেও মাঠে কৃত্রিম বা প্রত্যক্ষ ঘাটতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
অন্যদিকে পাইপলাইনে থাকা সার কৃষকের জমিতে পৌঁছানো নিয়েও রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের বার্থিং তথ্য অনুযায়ী আমদানি করা সারের জাহাজ পৌঁছালেও সেখান থেকে খালাস, ব্যাগিং ও পরিবহন শেষে স্থানীয় গুদামে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। একইভাবে মরক্কো থেকে আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা চালানের জাহাজীকরণেই বিলম্ব ঘটছে। আন্তর্জাতিক পরিবহন থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা পেরিয়ে কৃষকের হাতে সার পৌঁছাতে মাসের পর মাস সময় লেগে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটটি সামগ্রিক মজুতের চেয়ে বেশি তৈরি হচ্ছে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতার কারণে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সঠিক চাহিদার গরমিল, সময়মতো ডিলারদের বরাদ্দ না পৌঁছানো, স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণে অস্বচ্ছতা, খালাসে ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবই কৃষকদের ভোগান্তির মূল কারণ। আমন মৌসুমের সার প্রয়োগের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং সামনেই রবি মৌসুমে সারের চাহিদা আরও বাড়বে। এ অবস্থায় কেবল মোট মজুতের পরিসংখ্যান তুলে না ধরে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ, খালাস এবং বিতরণের তথ্য স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ করে মাঠপর্যায়ে দ্রুত সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি।
এমএসএম / এমএসএম
চিতলমারীতে সাক্ষরতা দিবসের আলোচনা: ‘শুধু পড়া-লেখা নয়, দক্ষ নাগরিক গড়াই লক্ষ্য’
মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলদে পাখি ও গার্লস গাইড গঠন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বারহাট্টায় সারের দোকানে অনিয়ম, ছয় ব্যবসায়ীকে জরিমানা
মেঘনা উপজেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ১ লাখ টাকা জরিমানা
নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার দুই বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন
নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার দুই বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন : সভাপতি ফারুক হোসেন, সম্পাদক বেলাল
গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠে সারের হাহাকার: সরবরাহ শৃঙ্খলে গলদ ও চাহিদার গরমিল
দাউদকান্দিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাস খাদে, আহত ২০
ভূরুঙ্গামারীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত
মনপুরায় আড়াই কেজি ওজনের রাজা ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে এগিয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়