চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা
চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্টার ও গোমস্তাপুর সাবরেজিস্টার অফিসের নকল নবীশদের পদোন্নতিতে দুর্নীতি অনিয়মের প্রতিবাদ করায় একজন নকল নবীশকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে রেজিস্টারের বিরুদ্ধে হুমকীসহ গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গোমস্তাপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ মোসা. সায়েরা খাতুন বাদী হয়ে জেলা রেজিস্টার, গোমস্তাপুর সাবরেজিস্টার নকল নবীশ মোসা. তাজনেহার খাতুন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিদর্শক (নিবন্ধন) মহপরিদর্শক (নিবন্ধন)সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরের বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ভুক্তভোগি মোসা. সায়েরা খাতুন বাদি হয়ে ৮৭/২০২৫ নম্বর মামলা করেছেন। উক্ত মামলাটি জেলা রেজিস্টারের পক্ষে তার কার্যালয়ের বিতর্কিত কম্পিউটার কাম মুদ্রক্ষরিক দিলরুবা খাতুন ওরফে তুহিন পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের কম্পিউটার কাম টাইপিস্ট দিলরুবার বিরুদ্ধেও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন চাকুরীচ্যুত ছিলেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি মুনজিলা নামের একজন ভুক্তভোগি দিলরুবার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন (মহাপরিদর্শক) দপ্তর, আইনমন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় ভূমি ও রেজিষ্ট্রি অফিস দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক) এবং গোমস্তাপুর থানায় ভুক্তভোগী মুনজিলা বেগম নামের এক নারী লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, জেলা রেজিস্টি অফিসের টাইপিস্ট দিলরুবা খাতুন তার ভোগদখলীয় গোমস্তাপুরের ফকিরপাড়া মৌজাস্থ পৌনে পাঁচ কাঠা জমি ও বাড়ি ভুক্তভোগি মুনজিলার কাছে বিক্রির জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বর ও গণমাধ্যদের উপস্থিতিতে ২১ লাখ মূল্য টাকা ধার্য্য করেন। পরে ধার্য্যকৃত মুল্যের মধ্যে দুই কিস্তিতে মোট ১৭ লাখ টাকা স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে মুনজিলার কাছ থেকে দিলরুবা গ্রহন করেন। যা জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দিলরুবা গ্রহণ করেছেন।আর উক্ত টাকা গ্রহণের সময় দিলরুবা তার দখলীয় বাড়ি ও জায়গা মুনজিলাকে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে টাকার অংক লিখে স্বাক্ষর করে ভোগদখলে বুঝিয়ে দেন। আর ৪ মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধের পর জমি ও বসতবাড়ি মুনজিলাকে রেজিস্ট্রি করে দিবেন বলে দিলরুবা অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তিনি এখন তার বসতবাড়ি ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দিতে তালবাহানা করছেন। আর নির্ধারিত সময়ের পরও বাকি টাকা গ্রহন এবং সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দিতে সময়ক্ষেপন করছেন। অথচ উক্ত জমি ও বসতবাড়ি বিক্রয় এবং ১৭ লাখ টাকা গ্রহণের সময়ে স্থানীয় মো. বেলার উদ্দিন, মো. আলমগলি শেখ ওরফে তোতা, মোসা. শামীমা জানান, ও মো. সবুজ মিয়া স্বাক্ষী হিসেবে স্টাম্পে স্বাক্ষর করেছেন।
মুনজিলা জানান, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের কম্পিউটার কাম টাইপিস্ট দিলরুবা তার সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলে স্বীকার জানান। ৭ লাখ টাকার কথা অস্বীকার করছেন। গত ৫ জানুয়ারি দিলরুবার বাড়িতে গিয়ে জমি ও বসত বাড়ি ক্রয়ের বাকী টাকা পরিশোধ এবং সম্পত্তি রেজিষ্টি করে দিতে বলা হলে তিনি মারমুখি আচড়ন করে হত্যার হুমকি দেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন।
উল্লেখিত বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, বাড়ি ও জায়গা বিক্রির নামে টাকা নেওয়ার বিষয়টির প্রমান পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখন কিছু টাকা কম নিয়েছেন বলে দিলরুবা দাবি করেছেন। অভিযুক্ত দিলরুবা খাতুন জানিয়েছেন, মুনজিলা আমার প্রতিবেশী। তার বসত বাড়ি ও জায়গা বিক্রির নামে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকার করে তার আইনজীবী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, চাপাইনবাবগঞ্জ সদরের জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে গত ২০২৫ সারৈর ৫ মার্চ স্বারক নং- ১০.০৫---২৫.১৬৩ জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশগণের ক্রমায়ন তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে প্রক্রিয়াটি বেআইনী অবৈধ যোগাসাজসী আইন বর্হিভূত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগি মোসা. সায়েরা খাতুন গোমস্তপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীশ পদে ৩৫৮ নং স্বারকে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর যোগদান করে কার্যক্রম করে আসছেন। যা জেলা রেজিস্টারের কর্তৃক স্বারক নং ৬৪৯ (১০০ ২৬-১০-২০২৪ মুলে অনুমোদন প্রাপ্ত। গোমস্তাপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একই দিন ৬জন নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এর মধ্যে উক্ত মামলার বাদি মোসা. সায়েরা খাতুন ক্রমিক নং ১ নম্বর ছিল। তার বালামের সিরিয়াল নম্বর ১১০/০২ দলিল লেখুনি পূর্বে রেজিঃ দলিল নং ৬৬৫১/২০০২ পত্র জারীর নিবন্ধন বইতেও উল্লেখিত ৬ জনের মধ্যে ১ নম্বরে নকল নবীশ শিক্ষাগত যোগ্যতাও বেশী এবং পরিক্ষার ফলাফল ভাল। তিনি কারিগরি শিক্ষাগ বোর্ড হতে কম্পিউটারে বিশেষ প্রশিক্ষত এবং বিএ পাশ।
অপরদিকে বিবাদী যোগদানের ক্রমিক নং ৩৬৩ বালাম সিরিয়াল নং ১১২, দলিল লিখনীতেও দলিল নং ৬৬৬১/০২। কিন্তু সায়েরার ক্রমিক নং জেলার মধ্যে ৬ এবং জেলা রেজিস্টারের অফিসের আদেশ নামায় ক্রমিক নং-০১ এবং ৩ নম্বর বিবাদীর ক্রমিক নং জেলার মধ্যে ১১ আর জেলা রেজিস্টার অফিসের আদেশনামায় ক্রমিন নম্বর- ৬ বলে জানা গেছে। আবার মামলার ৩ নম্বর বিবাদীর উল্লেখিত বিষয়টি আলোচনা পর্যালোচনা না করেই ১ নম্বর বিবাদী জেলা রেজিস্টা গত ২০২৫ সালের ৫ মার্চ স্বারক নং ১০.০৫.---২৫-১৬৩ পত্রাদিতে ১ নম্বর ক্রমিকে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যা বেআইনী যোগসাজসী এবং আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী বলে মামলায় করা হয়েছে।
উল্লেখিত সাবরেজিস্ট্রি অফিসের অস্থায়ীভাবে নকল নবীশ হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ১০/১২ বছর চাকুরী করার পর বিশেষ আদেশে মহানিবন্ধন অধিদপ্তরের চাকুরী স্থায়ীকরণ বা স্থায়ী মোহরার হিসেবে নিয়োগ দান করা হয়। মহানবিন্ধন কর্তৃপক্ষ গোমস্তাপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ১ জন মোহরার নিয়োগের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে অবহিত করা হলে উল্লেখিত অস্থায়ী নকল নবীশদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। যাতে মামলার বাদি সায়েরা খাতুন গোমস্তাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১ নম্বর ক্রমিক হতে ৬ নম্বর ক্রমিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আর ৩ নং বিবাদীকে ৬ নং ক্রমিক হতে ১ নম্বর ক্রমিকে উন্নত করা হয়েছে। ফলে তালিকা মতে মহানিবন্ধন অধিদপ্তর ৩ নং বিবাদী চাকুরী স্থায়ী মোহরার হিসাবে নিয়োগ পেতে পারেন।
অভিযোগে জানা গেছে, উল্লেখিত বিষয়টির ১ নম্বর বিবাদী অজ্ঞাত কারণে ৩ নং বিবাদীকে স্থায়ী ভাবে মোহরার নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম হিসেবে নিবন্ধন আইন পরিপত্র প্রচলিত নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজ ইচ্ছায় পূর্বের নামের তালিকা বাদ দিয়ে নতুন ক্রমিক অনুসারে ৩ নং বিবাদীর নাম ১ নমন্বর ক্রমিকে বসিয়েছেন। যা অবৈধ বেআইনী যোগসাজসী এবং মনগড়া বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা রেজিস্টার গোমস্তাপুর সাবরেজিস্টারকে অবহিত করা হলে মামলার বাদীনি গত ২০২৫ সালের ৬ মার্চ জানতে পেরে জেলা রেজিস্টার দপ্তরে ডাক যোগে আবেদন করেন। কিন্তু তিনি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
ভুক্তভোগি জানান, উক্ত মামলা দায়ের করার পর গোমস্তাপুর সাবরেজিস্টার ও জেলা রেজিস্টার জেলারেজিস্ট্রি অফিসে আমাকে ডেকে নেয় এবং তাদের সঙ্গে আমার তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আমাকে নানা ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। তিনি আরো বলেন, মামলাটির বিষয়ে ইনজাংশন করে। পরে আপিল করলে আমার পক্ষে রায় দেন। আগামি ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন দার্য্য করেছেন আদালতন।
উক্ত মামলার বিষয় মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্টারের সেল ফোনে কল করা হলেও তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেন। আর চাপাই নবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্টারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদবার্তা প্রেরণ করা হলেও তিনি তার প্রতিউক্তর দেননি।
এমএসএম / এমএসএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা
আদমদীঘিতে জামায়াতে ইসলামীর অর্ধ শতাধিক হুইল চেয়ার বিতরণ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে ব্র্যাকের ২০০ ফলজ চারা প্রদান
শ্যামনগরে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী বিষয়ে কর্মশালা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড়: তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ দাবি
জনসেবার ধারাবাহিকতায় আবারও ভোটের মাঠে শাহীন হাওলাদার
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বসতঘরের মাটির নিচে থেকে ১৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার-মাদক ব্যবসায়ী আটক
অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে চিতলমারীতে হাবিবা ক্লিনিক পরিচালকের সংবাদ সম্মেলন
রাজস্থলীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
বর্ণাঢ্য আয়োজনে মধুখালীতে মহিলা দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন
মান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
নির্ধারিত সময়ে অফিসে নেই কর্মকর্তারা ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা