পানি আনতে গিয়ে ধর্ষণের স্বীকার বাকপ্রতিবন্ধি নারী, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে এক বাক্প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ওই নারী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী মাকছুদা আক্তার (২৪) উপজেলার ৩ নম্বর চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জন্মগতভাবে বাক্প্রতিবন্ধী এবং কথা বলতে পারেন না।
ভুক্তভোগীর মা হালিমা খাতুন জানান, কিছুদিন ধরে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। পরে মেয়েকে সুবর্ণচরের খাসেরহাট লাইট হাউজ ক্লিনিক হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তাঁর মেয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
হালিমা খাতুনের দাবি, বিষয়টি জানার পর মেয়েকে ইশারা-ইঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি স্থানীয় মকবুল খাঁর ছেলে রহমানের কথা জানান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাকছুদা রহমানের একটি ছবি দেখিয়েও অভিযুক্তকে শনাক্ত করেন। পানি আনতে বাড়ির পাশের নলকূপে যাওয়ার সময় রহমান তাঁকে জোর করে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলেও ইশারায় জানান বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমি মেয়ের কয়েকটি লক্ষণ দেখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরীক্ষা করার পর জানতে পারি, আমার মেয়ের গর্ভে পাঁচ মাসের সন্তান। পরে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে রহমানের কথা বলে এবং তাঁর ছবি দেখায়। পানি আনতে গেলে রহমান তাকে জোর করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মেয়ে ইশারায় জানিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় চাই।”
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি গর্ভের সন্তান নষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে পরিবারটি এতে রাজি হয়নি এবং অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারটি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবলেও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসে সামাজিক সালিশে রাজি হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ বিষয়ে সামাজিকভাবে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে সালিশের আগে অভিযুক্ত রহমান সংশ্লিষ্ট সভাপতিকে ফোন করে বিচার থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান এবং তিনি বৈঠকে উপস্থিত হবেন না বলে জানান। এতে নির্ধারিত সালিশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. ফারুক বলেন, “আমার বোন বাক্প্রতিবন্ধী। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার বোনের গর্ভে থাকা সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর ভাষ্য, ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারের এবং বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রহমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে মুঠোফোনে একাধিক কল করার পর ও কলে পাওয়া যায় নি।
এই বিষয়ে চর জব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হাসান জানান- আমরা আপনাদের মাধ্যমে বিষয় টা অবগত হয়েছি, ভুক্তভোগীর পরিবার কোনো অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিষয় টা জানা যাবে।
এমএসএম / এমএসএম
নওয়াপাড়ায় সিজারের পর নারীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
আদমদীঘি প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি: সভাপতি হাফিজার, সম্পাদক মেহেদী
মুরাদনগরে যুবলীগের মিছিলের পর রাতভর অভিযান, ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১৫
ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক উইমেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু
মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক আটক
রাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে সভাপতি ছাদিক, সম্পাদক সুজা
পানি আনতে গিয়ে ধর্ষণের স্বীকার বাকপ্রতিবন্ধি নারী, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা
মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্তি দাবিতে বাগেরহাটে অবসরপ্রাপ্ত ইপিআর সদস্যের সংবাদ সম্মেলন
ভোলায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার-২
শান্তিগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন
আমরা পুলক চ্যাটার্জী মৃত্যুর শ্বেতপত্র চাই: এমপি সরোয়ার
পটুয়াখালীতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রতিনিধি সভায় ৩টি পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষনা