ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্তে বন্দর রক্ষা কমিটির তীব্র ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১-১০-২০২৬ বিকাল ৬:৪৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ ১৫ বছরের জন্য কনসেশন চুক্তির আওতায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক যুক্ত বিবৃতিতে কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মূল অ্যাজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ বিষয়টি ‘বিবিধ’ অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে উত্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধান্তকে শুধু বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা, কৌশলগত নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ সরাসরি জড়িত।

তারা বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, জনস্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থাকা প্রয়োজন। জাতীয় সম্পদ ও কৌশলগত বন্দর অবকাঠামোর মতো একটি বিষয় কেন মূল এজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হলো না, সরকারের কাছে দেশবাসী তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করে।

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, কনসেশন চুক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কাঠামো। এর মাধ্যমে শুধু টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিচালনা, রাজস্ব, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ওপর বেসরকারি বা বিদেশি অপারেটরের প্রভাব তৈরি হতে পারে। তাই চুক্তির প্রতিটি ধারা, আর্থিক কাঠামো, রাজস্ব ভাগাভাগি, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, ঝুঁকি বণ্টন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার শর্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিনিয়োগে নির্মিত ও পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠিত টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনের আওতায় দেওয়ার আগে রাষ্ট্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটির সক্ষমতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করেছে কি না, তা স্পষ্ট করা দরকার। একই সঙ্গে কনসেশন থেকে রাষ্ট্র কী পরিমাণ আর্থিক সুবিধা পাবে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করলে সম্ভাব্য আয় কত হতে পারে, তার তুলনামূলক হিসাবও জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও দেশীয় ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে দুর্বল বা অকার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশি অপারেটরকে অপরিহার্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সংস্কারের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে আরও সক্ষম করা সম্ভব।

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বা প্রযুক্তির বিরোধিতা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামোর পরিচালনা এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাজস্ব, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ, কর্মসংস্থান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা নিয়ে যথাযথ যাচাই প্রয়োজন।

তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথ হিসেবে এ বন্দরের কার্যক্রম জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই বন্দরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনের আওতায় দেওয়ার প্রভাব শুধু বর্তমান সরকারের মেয়াদে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আগামী একাধিক সরকারের সময়েও এর প্রভাব বহাল থাকবে।

নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো পরিচালনায় দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের আয় ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

তারা এনসিটি কনসেশন চুক্তির বিষয়ে সরকারের কাছে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া ও আর্থিক কাঠামো জনসম্মুখে প্রকাশ, স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সুস্পষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

একই সঙ্গে এনসিটি পরিচালনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামো বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।

বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি; তাদের অবস্থান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বন্দর ব্যবহারকারী জনগণ, শ্রমিক-কর্মচারী এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্বার্থের পক্ষে।

তারা অবিলম্বে এনসিটি কনসেশন চুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল, চুক্তির সব শর্ত প্রকাশ এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

aliul / aliul

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতাই মুখ্য : চসিক মেয়র

৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু সাইবার পুলিশ ইউনিটের

১৫ বছরের জন্য এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্তে বন্দর রক্ষা কমিটির তীব্র ক্ষোভ

‘মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি বাল্যবিয়েকে উৎসাহিত করবে’

সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার ৪৯ নারী-কন্যা, হত্যা ৫২ জন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে সেপা চুক্তি সই হ‌বে

বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে, আশা রাষ্ট্রপতির

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, আজ থেকেই কার্যকর : স্পিকার

শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান

রাজনীতিতে সংঘাতের সংস্কৃতি বন্ধ করে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে

ক্যান্টনমেন্টে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া আহত যুবকের মৃত্যু

ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগ, সংরক্ষিত আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির জামিন মেলেনি