ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কি সত্যিই অবনমনের ঝুঁকিতে?
শনিবার চেলসির কাছে ২-০ গোলে হারের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক চিন্তাশীলন ভঙ্গিতে বলছিলেন, ‘আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে, এটাই সহজ কথা।’
কোচের চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকা ক্যারিক একবার অবনমনের স্বাদ পেয়েছিলেন। তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে এমন বাজে অভিজ্ঞতা তার হয়েছিল। ২০০২-০৩ মৌসুমে হ্যামাররা অবনমন হতে পারে না বলেই মনে হচ্ছিল। ক্যারিক ছাড়াও তাদের স্কোয়াডে ছিলেন ইংল্যান্ড গোলকিপার ডেভিড জেমস। জো কোল, জার্মেইন ডিফো ও ট্রেভর সিনক্লেয়ারদের সবাই সব প্রতিযোগিতা মিলে ৪০টির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন।
কিন্তু তারপর তারা তলানির তৃতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। পয়েন্ট ছিল ৪২। এখন পর্যন্ত ৩৮ ম্যাচের প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমে অবনমিত কোনো দলের এটাই সর্বোচ্চ পয়েন্ট। ৯ ম্যাচ শেষে বর্তমানে ম্যানইউর সাত পয়েন্ট। এভাবে পুরো মৌসুম চলতে থাকলে তারা ৩০ পয়েন্টও পাবে না। তাহলে কি সত্যিই অবনমনের দিকে এগোচ্ছে ম্যানচেস্টার ক্লাব?
যাদের বয়স এখন ষাটের কাছাকাছি কেবল তারাই শেষবার ম্যানইউর অবনমনের স্মৃতি মনে করতে পাররবেন। কথিত আছে, তৎকালীন ম্যানসিটি সেন্টার ফরোয়ার্ড ডেনিস লর একটি ব্যাকহিল কিক ম্যানইউকে অবনমনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। বাস্তবতা হলো, তৎকালীন কোচ টমি দোচার্টির দলের ভাগ্য তারও আগেই নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল।
১৯৮৬ সালের নভেম্বর থেকে ৯ বা তার বেশি ম্যাচের পর ইউনাইটেড কখনও অবনমন অঞ্চলে ছিল না। ওইবার রন অ্যাটকিনসন ছাঁটাই হওয়ার পর স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে প্রথম দুটি ম্যাচ থেকে একটি পয়েন্ট পেয়েছিল তারা।
তারপর থেকে এক মৌসুমে অন্তত ৯ ম্যাচের পর তাদের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে, ১৭ নম্বরে। শনিবার তারা চেলসির কাছে হেরে নেমেছিল ১৬ নম্বরে। কিন্তু এদিনের অন্য ম্যাচগুলোর পর তাদের অবস্থান এখন ১৭তম স্থানে।
চেলসির কাছে হারের কারণে ক্যারিকের দল এখন সব প্রতিযোগিতা মিলে ৯ ম্যাচ ধরে জয়হীন, ১৯৮৮-৮৯ সালের পর সবচেয়ে বাজে। চলতি মৌসুমে তাদের একমাত্র প্রিমিয়ার লিগ জয় আগস্টে এসেছিল। ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও তারা ইপসউইচকে হারায়।
ম্যানইউকে টেবিলের নিচের দিকে দেখার অভিজ্ঞতা সমর্থকদের জন্য এই প্রথম নয়। গত মৌসুমে ৩৭ ম্যাচ শেষে রুবেন আমোরিমের দল ১৬তম ছিল। তবে ওই সময় তারা পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় সর্বনিম্ন দল লিস্টারের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল এবং কোনো দিক থেকেই তারা অবনমনের ঝুঁকিতে ছিল না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সত্যিকারের ঝুঁকিতে ছিল টটেনহ্যাম। গত মৌসুমের চার ম্যাচ বাকি থাকতে তারা তৃতীয় সর্বনিম্ন দল ছিল এবং ওয়েস্ট হ্যামের চেয়ে ২ পয়েন্ট পেছনে ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে যে মানসিক পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটি খেলোয়াড়দের আছে কি না প্রশ্নে ক্যারিক বললেন, ‘আপনি সেভাবে এটা দেখতে পারেন কিংবা আপনি দেখতে পারেন, ফুটবলে কয়েকটি ম্যাচ জিতলে কীভাবে দ্রুত লিগ টেবিলে উপরে ওঠা যায়। এভাবেই এটা মোকাবিলা করতে হবে।’
ক্যারিকের মতে, নিজেদের বাঁচাতে হলে ম্যানইউকে ম্যাচ জিততে হবে। তাদের পরের ম্যাচ ৮ নভেম্বর অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। পরের সাত ম্যাচের মধ্যে তারা খেলবে লিভারপুল, নিউ ক্যাসেল ও আর্সেনালের মাঠে।
এখন পর্যন্ত ক্যারিকের ভবিষ্যৎ কোনো টু শব্দ নেই। শনিবারের হারের পর ম্যানইউর বোর্ডরুমে কী চলছে, তা জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচেও তাকে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে।
কিন্তু এগুলো নতুন অভিজ্ঞতা এবং কেউই নিশ্চিত নয়, পরবর্তীতে কী ঘটতে যাচ্ছে। এটা পরিষ্কার যে অনেক খেলোয়াড়কে তাদের পারফরম্যান্সের ধার বাড়াতে হবে। হাতে এখনও অনেক সময় থাকলেও নিশ্চিতভাবে ম্যানইউকে লিগে টিকে থাকার লড়াই এখন থেকেই শুরু করতে হবে।
aliul / aliul
‘দলে পরিবর্তনের জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় দিন’, সিরিজ হারের পর কামিন্স
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কি সত্যিই অবনমনের ঝুঁকিতে?
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল : বাংলাদেশসহ ৬ দলের সামনে যে সমীকরণ
ইয়ামালকে বদলি করার ‘সহজ’ কৌশল জানালেন ফ্লিক
ফাইনালে হারের পর শাস্তি পেল শ্রীলঙ্কা
গার্দিওলাকে টপকে বার্সেলোনায় ইতিহাস গড়লেন ফ্লিক
ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ
লিড নিয়েও লজ্জার হার বাংলাদেশের
উইন্ডিজদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বাজে শুরু
কিউইদের বিপক্ষে পুরো সিরিজের দলে নবিকে নিলো ভারত
নাঈমের ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিংয়ে দেড়শ পেরোল বাংলাদেশের লিড
ব্যালন ডি’অরে মেসিকে পছন্দের শীর্ষে রেখেছিলেন ব্রাজিলসহ ৬ দেশের সাংবাদিক