খালেদার আশঙ্কাজনক অবনতি কিংবা আশাব্যঞ্জক উন্নতি নেই
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত দুদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি কিংবা আশান্বিত হওয়ার মতো উন্নতিও হয়নি। একটি জায়গায় স্থির হয়ে আছে। এ অবস্থাকে কোনোভাবেই ভালো বলা যাবে না। এখনই তার উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার শঙ্কাই বেশি।
এদিকে, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, তার শরীর ভালো না। ডাক্তাররা তো বললেন, তারা আর এখানে তার চিকিৎসা করতে পারছেন না। তাদের যতটুকু করার, ততটুকুই করেছেন। বাকি চিকিৎসা তারা করতে পারবেন না। দেশে তা সম্ভবও নয়। দেশের বাইরে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে না দিলে আর কী করার আছে। একজন অসুস্থ মানুষ, তাকে বাইরে যেতে দেবে না, এটা তো হতে পারে না। সরকারের তো দায়িত্ব এটা। চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এগুলো তো সরকারের দায়িত্ব। মানুষের জান বাঁচানো ফরজ। মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচালে আল্লাহ খুশি হন। এখন সরকার কেন জান বাঁচাতে চাচ্ছে, না আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত এক চিকিৎসক বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে ম্যাডামের অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক আছে। এখন এ স্বাভাবিক অবস্থা কতদিন থাকে, সেটিই দেখার বিষয়। কারণ তার বর্তমান বয়স, তার শরীরে যে ধরনের রোগ রয়েছে, তাতে যেকোনো সময় শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে পারে। কয়েকদিন আগে তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা সেই আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার বড় দুইটি সমস্যা হচ্ছে লিভার আর শরীরে রক্তক্ষরণ। হঠাৎ করে তার হিমোগ্লোবিন কমে যায়, আবার কখনো রক্তক্ষরণ হয়। তার সঙ্গে লিভারের সমস্যা তো আছেই। ফলে, এতোগুলো জিনিস নিয়ন্ত্রণে রেখে তার চিকিৎসা করা দেশে এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারপরও আমরা, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা এবং বিদেশে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাটা দিতে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবর নিতে বিএনপির অনেক নেতাই হাসপাতালে গেলেও সবাই সিসিউইতে যাওয়ার অনুমতি পান না। সিসিউইতে চিকিৎসকদের বাইরে প্রায় নিয়মিত তাকে দেখতে যান ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শর্মিলা রহমান সিঁথি আর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তাদের মাধ্যমে বাকিরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কূটনৈতিকরা উদ্বিগ্ন। আর এ কারণে গত ২৯ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে কূটনীতিকরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সরকারের কাছে জানতে চান। শুধু তাই নয়, তারা বিএনপির কাছ থেকেও নিয়মিত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আপডেট নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কূটনীতিকদের নিয়মিত আপডেট জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ এ কমিটির সদস্যরা।
এ নেতা আরও জানান, খুব শিগগিরই খালেদা জিয়ার বিষয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র তৈরি করা হচ্ছে। এমনিতে আগামী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে কূটনীতিকদের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানেও খালেদা জিয়ার বিষয়টি আসবে।
গত ১২ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিউইতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। তিনি লিভার সিরোসিসসহ অন্যান্য জটিলতায় ভুগছেন। দেশে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
এমএসএম / জামান
চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয়
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভঙ্গুর, শঙ্কায় জিএম কাদের
দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর অপচেষ্টা হচ্ছে : রিজভী
মির্জা আব্বাস আগের তুলনায় অনেকটা সুস্থ: রেল প্রতিমন্ত্রী
‘নির্দেশ অমান্য করলে অন্য রূপ দেখবেন’— নেতাকর্মীদের সতর্ক করে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল
সীমান্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান কাঁটাতারের বেড়া নয় : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: ফখরুল
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর সভাস্থল ঘিরে উত্তেজনা, ডিম নিক্ষেপ
নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে
ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট : জামায়াত